খাদ্যবাজারে টানা ৬ মাস স্বস্তি

করোনা মহামারীর রেশ কাটতে না কাটতেই নতুন আপদ হয়ে বিশ্বকে ভোগাতে আসে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ। বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ শস্য উৎপাদনকারী দেশের মধ্যে লড়াইয়ে সবচেয়ে বিপদে পড়ে মধ্যম ও নিম্ন আয়ের দেশের মানুষ। চলতি বছরের শুরুর দিকে বিশ্ববাজারে খাদ্যপণ্যের দাম আকাশচুম্বী হয়ে ওঠে। ওই সময় মূল্যবৃদ্ধি অতীতের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে যায়। তবে গেল এপ্রিল থেকে ধীরে ধীরে শান্ত হচ্ছে খাদ্যবাজারের পাগলা ঘোড়া।

বিশেষ করে ভোজ্য তেলের দাম কমেছে উল্লেখযোগ্য হারে। এ ছাড়া চিনি, মাংস ও দুগ্ধজাত পণ্যের দামও কিছুটা কমেছে।

গতকাল শুক্রবার জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (এফএও) প্রকাশিত প্রতি মাসের খাদ্যপণ্যের মূল্যবিষয়ক প্রতিবেদনে এ তথ্য প্রকাশিত হয়েছে।

প্রকাশিত প্রতিবেদন বলছে, সেপ্টেম্বর মাসেও বিশ্ববাজারে খাদ্যপণ্যের দাম কমেছে। এ নিয়ে টানা ছয় মাস খাদ্যদ্রব্যের দাম কমতির দিকে। এর আগে গত মার্চ মাসে বিশ্বে খাদ্যদ্রব্যের দাম সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছায়।

এফএও বলছে, সেপ্টেম্বরে খাদ্যপণ্যের বৈশ্বিক গড় দামের সূচক ছিল ১৩৬.৩ পয়েন্ট। যা আগস্টের তুলনায় ১% কম। তবে গত বছর একই সময়ের চেয়ে এটি ৫.৫% বেশি।

বিশ্লেষকরা বলছেন, রাশিয়া-ইউক্রেন সংঘাতের প্রভাবে বিশ্বজুড়ে জ¦ালানি তেল, খাদ্যশস্য, ভোজ্য তেল ও ধাতব পণ্যের সরবরাহ সংকট প্রকট আকার ধারণ করে। দেশে দেশে মূল্যস্ফীতির হার নিয়ন্ত্রণহীনভাবে বাড়তে শুরু করে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে মুদ্রানীতি সংকোচন করে কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলো। আর এতে করে অর্থনীতিগুলো মন্দার দিকে ধাবিত হচ্ছে। এ বিষয়টিকেও খাদ্যপণ্যের দাম কমার পেছনে অন্যতম কারণ বলে মনে করেছেন বিশ্লেষকরা।

খাদ্যবাজারে আপাতত স্বস্তির জন্য রুশ-ইউক্রেন চুক্তি প্রভাব রাখছে বলে মনে করা হচ্ছে। রাশিয়া-ইউক্রেনের চলমান যুদ্ধের কারণে কৃষ্ণসাগর দিয়ে খাদ্যশস্য রপ্তানি বন্ধ ছিল। এরকম অবস্থায় উভয় দেশ জাতিসংঘ-সমর্থিত চুক্তি মেনে চলায় আন্তর্জাতিক বাজারে খাদ্যশস্যের দাম কমতে শুরু করে। তবে নভেম্বর পর্যন্ত এ চুক্তি মেনে চলা হবে কি না এমন শঙ্কায় গমের দাম বেড়েছে। এ ছাড়া আর্জেন্টিনা এবং যুক্তরাষ্ট্রের শুষ্ক আবহাওয়াও বিশ্বব্যাপী খাদ্যশস্যের দাম বৃদ্ধিতে ভূমিকা রেখেছে।

এফএও এ বছরের জন্য বিশ্ব শস্য উৎপাদনের পূর্বাভাস আবার ১.৭% কমিয়েছে। সংস্থাটি বলেছে, আফ্রিকার ৩৩টি, এশিয়ার ৯টি, লাতিন আমেরিকা এবং ক্যারিবিয়ানের ২টি এবং ইউরোপের ১টিসহ ৪৫টি দেশের জন্য জরুরি ভিত্তিতে খাদ্য সহায়তা দরকার।

জাতিসংঘ গত সেপ্টেম্বরে সতর্ক করেছিল ১০ লাখেরও বেশি মানুষ মানবিক সহায়তা ছাড়া দুর্ভিক্ষ ও মৃত্যুর ঝুঁকিতে রয়েছে।