শিশুর ঘর হোক নিরাপদ

সাত-আট মাস বয়স থেকে শিশু যেহেতু হামাগুড়ি দিয়ে নিজে চলা শুরু করে, তখন থেকেই তার নিরাপত্তার ব্যাপারে বাড়তি সচেতন হতে হয়। কিছু সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা করে শিশুর আহত হওয়ার ঝুঁকি কমিয়ে রাখা যায়। লিখেছেন ক্লিনিক্যাল সাইকোলজিস্ট তানজীর আহম্মেদ তুষার

 সব বাবা-মাই শিশুর নিরাপত্তার ব্যাপারে যথেষ্ট উদ্বিগ্ন থাকেন। কিন্তু অনেক সময় ঘরেও শিশু অনিরাপদ হয়ে পড়ে। ঘরে শিশু পড়ে আহত হতে পারে, ইলেকট্রিক শক খেতে পারে, ধারালো অস্ত্রে কেটে যেতে পারে, পুড়ে যেতে পারে ইত্যাদিসহ অনেক ধরনের ঝুঁকি রয়েছে।

 শিশু যাতে নিরাপদ এলাকার বাইরে বা বাসার বাইরে চলে যেতে না পারে সেজন্য দরজা বন্ধ রাখুন। কোনো জানালা দিয়ে পড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকলে প্রতিরোধের ব্যবস্থা নিন।

 রান্নাঘর শিশুর কাছে সবচেয়ে রহস্যময় একটি জায়গা। অথচ রান্নাঘরে শিশুর জন্য বিপজ্জনক সব উপাদানই আছে। তাই রান্নাঘরে শিশু যাতে না যেতে পারে বা গেলেও প্রতিটি মুহূর্তে চোখে চোখে রাখতে হবে।

 রাইস কুকার ও প্রেশার কুকার থেকে শিশুকে নিরাপদ দূরত্বে রাখুন। প্রেশার কুকারের হঠাৎ বেরিয়ে আসা বাষ্প শিশুকে পুড়িয়ে দিতে পারে।

 বিছানা থেকে বেড সুইচ শিশুর হাতের নাগালের বাইরে রাখতে হবে। অনেক সময় শিশু বেড সুইচ ধরে মুখে দেওয়ার চেষ্টা করতে পারে এবং ভয়ানক ঘটনা ঘটে যেতে পারে।

 বৈদ্যুতিক সুইচ, প্লাগসহ অন্যান্য যন্ত্রপাতি কেনার ক্ষেত্রে শিশুবান্ধব কি না দেখে নিতে হবে। ঘরের নিচের দিকে শিশু আঙুল ঢুকিয়ে শক খেতে পারে এমন কোনো প্লাগ থাকলে জরুরি ভিত্তিতে সেগুলো টেপ দিয়ে আটকে দিতে হবে।

 বৈদ্যুতিক যন্ত্র ব্যবহার শেষে প্লাগ খুলে রাখুন। অনেক সময় আইপিএস ও রেফ্রিজারেটরে শক করে সেটির কাছাকাছি যাওয়া থেকে শিশুকে বিরত রাখুন।

 যেকোনো ওষুধ শিশুর নাগালের বাইরে রাখতে হবে। ওষুধের পাত্রগুলো এমন হতে হবে যেন শিশু তা খুলতে না পারে।

 টেবিল ক্লথের কোনো ঝুলন্ত অংশ থাকা যাবে না। কারণ এ ক্ষেত্রে ঝুলন্ত কোনা ধরে টেনে জিনিসপত্রই শুধু ফেলবে না সে নিজেও আহত হতে পারে।

 ইস্ত্রি ব্যবহার করার সময় শিশুকে নিরাপদ দূরত্বে রাখুন এবং ব্যবহার শেষে নিরাপদ স্থানে রাখুন যেন শিশু সেটিতে হাত দিয়ে পুড়ে না যায়।

 যে জিনিসগুলো শিশুর ধরার ফলে পড়ে যেতে পারে সেগুলো তার নাগালের বাইরে রাখুন। ভঙ্গুর জিনিসগুলো উঁচু স্থানে রাখুন যেন শিশু ধরতে বা ধাক্কা দিতে না পারে।

 শিশুকে বাথরুমে একা রেখে আসবেন না। এমনকি দুটি শিশুকে একসঙ্গে রেখে এসে নিরাপদ অনুভব করারও কোনো কারণ নেই। কারণ বড় শিশুটি সব সময় ছোটটির নিরাপত্তার কথা চিন্তা করতে পারবে না বা পারলেও তাকে বাঁচানোর মতো বুদ্ধি নাও পেতে পারে।

 ম্যাচ, লাইটার, ধারালো অস্ত্র, কাঁচি, অ্যারোসল, এয়ার ফ্রেসনার, মোমবাতি, ইত্যাদি জিনিস শিশুর নাগালের বাইরে রাখুন।

 প্লাস্টিক ব্যাগ দিয়ে শিশুকে খেলতে দেবে না। অনেক সময় তা দমবন্ধ হওয়ার কারণ হতে পারে।

 কখনো খাবার পাত্রে অখাদ্যদ্রব্য রাখবেন না।

 ঘরে কোনো ধরনের বিষজাতীয় জিনিস না রাখাই ভালো। রাখলেও সেটি নিরাপদ স্থানে রাখুন যেন শিশু কোনো অবস্থাতেই হাতে না পায়।

 মেঝেতে পানি থাকলে শিশু দৌড়াতে গিয়ে পড়ে যেতে পারে। তাই সব সময় মেঝে শুকনো রাখুন।

অর্থাৎ শিশুর বিচরণের সব ক্ষেত্র নিরাপদ করতে হবে। অনেক সময় শিশুর চোখের একটু আড়াল হওয়ার সুযোগেই বিপদে পড়তে পারে। তাই সম্ভাব্য সব উপকরণ যতটা সম্ভব দূরে রাখুন। শিশুর উচ্চতায় চোখ নিয়ে দেখুন শিশু কোন কোন জিনিস ধরতে চাইতে পারে। শিশুকে নিরাপদ রাখুন, ভালো থাকুন।