রাজবাড়ীর গোয়ালন্দের দৌলতদিয়া ঘাট সময়ভেদে এর ব্যবহার কমে গেলেও এখনো এটি রাজধানীর সঙ্গে সড়কপথে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের যোগাযোগের অন্যতম মাধ্যম। নদী ভাঙনের কবলে পরে গত এক মাসের বেশি সময় ধরে ৫ নং ফেরি ঘাটটি বন্ধ রয়েছে।
বিআইডব্লিটিএ সূত্রে জানা যায়, গত ৬ সেপ্টেম্বর পদ্মা নদীর পানি বৃদ্ধি ও তীব্র স্রোতের কারণে ৫ নং ফেরি ঘাট নদী ভাঙনের কবলে পড়ে। এরপর থেকে এ ঘাট দিয়ে যানবাহন চলাচল বন্ধ রয়েছে।
২০১৪ সালে পদ্মা নদীর তীব্র ভাঙনে দৌলতদিয়ার ১ ও ২ নম্বর ঘাট ভেঙে পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়। অন্যদিকে ২ নম্বর ঘাট যেটি রয়েছে সেটি বিভিন্ন বেসরকারি কোম্পানির তাদের সিমেন্ট, পাথর, বালুর কার্গো জাহাজের মালামাল লোড আনলোডের কাজে ব্যবহার করছে। ৭টি ফেরি ঘাটের মধ্যে ৩টি ঘাট দিয়ে যানবাহন চলাচল পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে। বাকি ৪টি ফেরিঘাট নদী ভাঙনের কবলে পড়লেও জোড়া তালি দিয়ে যানবাহন চলাচল করছে।
সরেজমিনে দৌলতদিয়া ঘাট এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, ভাঙনের কবলে পরা ঘাটটি যেন ভেসে যেতে না পারে এ কারণে একটি জাহাজ দিয়ে বেঁধে রাখা হয়েছে। এছাড়াও ঘাটের নদীর পাড়ের প্রায় ১০০ মিটার এলাকা আড়াআড়িভাবে ভেঙে গেছে। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ঘাটের সংযোগ সড়ক। ভাঙনের কারণে ৫ নম্বর ফেরিঘাটের অন্তত ১০টি দোকান ও হোটেল সরিয়ে নিরাপদ স্থানে নেওয়া হয়েছে।
এদিকে দৌলতদিয়ার ৫ নম্বর ঘাটটি চালু নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। ঘাটকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা হোটেল, মুদি দোকান, ওষুধের দোকানের ব্যবসায়ীরাসহ কর্মহীন হয়ে পড়েছেন।
ফেরিঘাট এলাকার মাছব্যবসায়ী মো. চান্দু মোল্লার সঙ্গে কথা হলে তিনি দেশ রূপান্তর-কে জানান, ৫ নং ঘাট এক মাস হলো এই ভাবেই পরে আছে, এটি চালুর কোন উদ্যোগ চোখে পড়েনি।
দৌলতদিয়া ৫ নম্বর ফেরিঘাট এলাকার খাবার হোটেল ব্যবসায়ী মো. ইসহাক মণ্ডল দেশ রূপান্তর-কে বলেন, ১০ বছরের বেশি এই ঘাটে হোটেল ব্যবসা করে আসছি। ঘাটটি বন্ধ থাকায় হোটেল বন্ধ রয়েছে, পদ্মা সেতু চালুর পর থেকেই লোকজন কম তার পর আবার ঘাট বন্ধ।
বিআইডব্লিউটিএ আরিচা কার্যালয়ের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. জহিরুল ইসলাম বলেন, ভাঙন একটি প্রাকৃতিক বিষয়, এখানে কারও হাত থাকে। পানি কিছুটা কমেছে, আরও কিছুটা কমলেই ৫ নম্বর ফেরিঘাট চালু জন্য কাজ শুরু হবে।
বিআইডব্লিউটিসি দৌলতদিয়া কার্যালয়ের ব্যবস্থাপক মোহাম্মদ সালাহউদ্দিন বলেন, বিআইডব্লিউটিএ কর্তৃপক্ষকে চিঠি দেওয়া হয়েছে ঘাটটি দ্রুত চালু করার জন্য। নদীর পানি কমে গেলেই ঘাটটি পুনরায় চালু করা সম্ভব হবে। এছাড়া এপ্রোচ সড়ক কিছুটা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে সেটাও মেরামত করা হবে।