নোয়াখালীর সদর উপজেলায় সিনিয়র-জুনিয়র দ্বন্দ্বের জেরে কিশোর গ্যাংয়ের ছুরিকাঘাতে মো. জোবায়ের (১৮) নামে এক কলেজছাত্রকে হত্যার ঘটনায় পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
গ্রেপ্তাররা হলো, নোয়াখালী পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডের বোরহান উদ্দিন রাকিব (২২) আশরাফুল ইসলাম পিয়াস (১৯) আরিফুল ইসলাম (১৬) আলম রিমন (১৬) ও ইয়াসিন আরাফাত (১৭)।
হত্যার ঘটনায় মঙ্গলবার (১১ অক্টোবর) নিহত জোবায়েরের বাবা কামাল উদ্দিন বাদী হয়ে ৮ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আরও ৩ জনকে আমামি করে মামলা করেছেন।
এর আগে, সোমবার (১০ অক্টোবর) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে নোয়াখালী পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডের চন্দ্রপুর মহল্লায় এ ঘটনা ঘটে। পরে একই দিন দিবাগত রাতে নোয়াখালী ও ফেনী জেলার বিভিন্নস্থানে অভিযান চালিয়ে ৫ আসামিকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
নিহত মো. জোবায়ের (১৮) বেগমগঞ্জ উপজেলার রাজগঞ্জ ইউনিয়নের আলাদিন নগরের কাজী বাড়ির কামাল উদ্দিনের ছেলে এবং নোয়াখালীর সোনাপুর আইডিয়াল পলিটেকনিক্যালের প্রথম বর্ষের ছাত্র ছিল। তারা নোয়াখালী পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডের চন্দ্রপুর মহল্লার শাহাজাহানের বাসায় ভাড়া থাকত।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সিনিয়র-জুনিয়র দ্বন্দ্বের জেরে সোমবার সকালের দিকে জোবায়েরের সঙ্গে স্থানীয় রাকিব ও পিয়াসের ছোট ভাই আরিফুল ইসলামের (১৬) সঙ্গে কথা কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে সন্ধ্যার দিকে জোবায়েরকে তার বন্ধু লাদেন মুঠোফোনে বাসা থেকে ডেকে নেয়। এরপর কিশোর গ্যাংয়ের ৮-১০ জন সদস্য রাকিবের নেতৃত্বে জোবায়েরকে তার বাসার সামনের রাস্তায় বেধড়ক পিটিয়ে ছুরিকাঘাত করে। এতে জোবায়ের গুরুতর আহত হয়। পরে তাকে স্থানীয় লোকজন উদ্ধার করে প্রথমে মাইজদী জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যায়। পরে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নেওয়ার পথে রাত সাড়ে ৯টার দিকে কুমিল্লায় তার মৃত্যু হয়।
সুধারাম মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আনোয়ারুল ইসলাম জানান, হত্যার ঘটনায় এ পর্যন্ত পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তিনি বলেন, হত্যার ঘটনায় মঙ্গলবার (আজ) জোবায়েরের বাবা কামাল উদ্দিন বাদী হয়ে ৮ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আরও ৩ জনকে আমামি করে মামলা করেছেন।