তবুও টি-টোয়েন্টিতে উন্নতির ছাপ দেখছেন শ্রীরাম

টি-টোয়েন্টিতে বদলের হাওয়া শুরু হয়েছিল জিম্বাবুয়ে সফর থেকে। তারপর এশিয়া কাপেও নতুন শুরুর গল্প শুনানো হয়েছিল। সংযুক্ত আরব আমিরাতের বিপক্ষে দুই ম্যাচের সিরিজে জয় পেলেও প্রথমটি ছিল বেশ কষ্টার্জিত। তাই গল্প শোনানো হলেও এই সংস্করণে টাইগারদের উন্নতির কোনো দেখা মিলছে না। যার জ্বলন্ত প্রমাণ ত্রিদেশীয় সিরিজের প্রথম দুই ম্যাচ। কোনো ম্যাচেই ব্যাটে-বলে কোথাও শ্রীবৃদ্ধির লেশমাত্র ছিল না। তবুও বাংলাদেশ টি-টোয়েন্টি ক্রিকেট দলের টেকনিক্যাল কনসালটেন্ট শ্রীধরন শ্রীরাম দাবি করেছেন লাল-সবুজদের মাঝে তিনি দেখছেন উন্নতির ছাপ।

নিউ জিল্যান্ড থেকে বিসিবির ভিডিও বার্তায় শ্রীরাম উল্লেখ করেছেন ইয়াসির রাব্বি ও নুরুল হাসান সোহানের ব্যাটিংয়ের কথা, ‘উন্নতি অনেক হয়েছে। আমাদের মিডল অর্ডার অনেক উন্নতি দেখিয়েছে। রাব্বি যেভাবে হারিস রউফের সামনে সেদিন খেলেছেন, ট্রেন্ট বোল্টকে যেভাবে খেলেছেন নুরুল, এসব অবশ্যই ইতিবাচক ইঙ্গিত। তার বিশ্বের সেরা বোলারদের মধ্যে আছে। তাদের বিপক্ষে এমন খেলে অনেক আত্মবিশ্বাস পাওয়া উচিত।’

উন্নতির ছাপ দেখছেন তিনি পেস বোলিংয়েও, ‘পেস বোলাররা এখন আরও ভালোভাবে পরিকল্পনার বাস্তবায়ন করতে পারছেন। তাসকিন প্রথম ম্যাচে যেভাবে বোলিং করেছে, শরিফুল দ্বিতীয় ম্যাচে দলে এসে ফিন অ্যালেনের বিপক্ষে হার্ড লেংথে বল করেছে, চোট কাটিয়ে ফিরে হাসান যেভাবে বল করেছে দুই ম্যাচে, এসব ইতিবাচক দিক।’

পেস আক্রমণের মূল অস্ত্র যাওয়ার হওয়ার কথা, সেই মুস্তাফিজ নিজেকে হারিয়ে খুঁজছেন অনেক দিন ধরেই। শ্রীরাম তা এড়িয়ে গেলেন না। তবে ভরসার হাতও রাখলেন তিনি এই পেসারের কাঁধে, ‘ফিজ দুয়েকটি ব্যাপার নিয়ে কাজ করছে। সে শক্তভাবেই ঘুরে দাঁড়াবে। ইবাদত ও সাইফও তাদের সুযোগ পাবে।’

শ্রীরাম মুগ্ধতার ছবি খুঁজে পেয়েছেন নাজমুল হোসেন শান্তর ব্যাটিংয়ে। নিউ জিল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচে একাদশে ফিরে ২৯ বলে ৩৩ রান করেন বাঁহাতি এই ব্যাটসম্যান। টি-টোয়েন্টিতে খুব আদর্শ নয় এমন ব্যাটিং। তবে তিনিই ছিলেন দলের সর্বোচ্চ স্কোরার।

শ্রীরাম এখন অপেক্ষায় লিটন দাস ও আফিফ হোসেনের জ্বলে ওঠার, ‘শান্ত দলে ফিরে যেভাবে খেলেছে, তা দেখাটা উৎসাহব্যঞ্জক। যদিও সে ৩০ রানে আউট হয়ে গেছে, তার পরও যেভাবে বোল্ট ও সাউদির সামনে ব্যাট করেছে, ইতিবাচক অনেক কিছুই নেওয়ার আছে নিশ্চিতভাবে। সাকিব ফেরায় মিডল অর্ডার দারুণ শক্তিশালি হয়ে গেছে। আফিফ ও লিটন যদি মেলে ধরতে পারে নিজেদের, আমাদের ব্যাটিং অর্ডার দুর্দান্ত হয়ে উঠবে।’

ত্রিদেশীয় সিরিজে ফাইনালে উঠতে না পারলে আর দুটি ম্যাচ পাবে বাংলাদেশ। এরপর বিশ্বকাপের আগে অস্ট্রেলিয়ায় খেলবে দুটি অফিসিয়াল প্রস্তুতি ম্যাচ। এই ম্যাচগুলোতেও নানা জনকে নানাভাবে পরখ করে দেখা হবে বলে জানালেন টাইগারদের টি-টোয়েন্টি পরামর্শক, ‘আমরা পরীক্ষা-নীরিক্ষা চালিয়ে যেতে চাই। প্রতিদিনই আমরা ছেলেদের বিভিন্ন ভূমিকা ও চ্যালেঞ্জ দিচ্ছি। ওদেরকে নিয়ে আমাদের জানার প্রক্রিয়া চলমান।’