শিক্ষার্থীদের পাঠদানের জন্য বিকল্প ব্যবস্থা না করেই বিদ্যালয় ভবন ভাঙায় ক্লাস না করেই ফিরে যেতে হয়েছে সোনাগাজী মাদ্রাসা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তিন শতাধিক শিক্ষার্থীকে।
অভিভাবক ও শিক্ষকরা জানান, কয়েক দিন আগে নতুন ভবন নির্মাণের জন্য বিদ্যালয়ের পুরোনো দোতলা ভবন ভেঙে ফেলা হয়। নতুন ভবন নির্মাণের সময় বিকল্প শ্রেণি কার্যক্রমের কথা থাকলেও বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তা করেনি। দুর্গাপূজার ছুটি শেষে সোমবার সকালে শিক্ষার্থীরা বিদ্যালয়ে আসলেও ভবন ভাঙা অবস্থায় থাকায় তারা ক্লাস করতে পারেনি। দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করলেও বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটি বিকল্প শ্রেণি কার্যক্রমের জন্য কোনো স্থান নির্দিষ্ট করে বলতে পারেনি। তাই বাধ্য হয়ে ক্লাস না করে বাড়ি ফিরে যেতে হয়েছে উপস্থিত তিন শতাধিক শিক্ষার্থীকে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক অভিভাবক জানান, বিকল্প ব্যবস্থা না করে ভবন ভাঙা ঠিক হয়নি। বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ কোনো নোটিশ দেয়নি। যার কারণে ছাত্র-ছাত্রীদের বিদ্যালয়ে গিয়ে ক্লাস না করে রাস্তায় দাঁড়িয়ে থাকতে হয়েছে। আশা করছি শিক্ষর্থীদের জন্য দ্রুত পাঠদানের ব্যবস্থা করবে কর্তৃপক্ষ।
বিদ্যালয় প্রধান শিক্ষক হুমায়ুন কবির প্রশিক্ষণে থাকায় তার সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।
তবে বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মো. একরামুল হক জানান, বিদ্যালয়ের ২১ শতাংশ জায়গা সোনাগাজী ফাজিল ডিগ্রি মাদ্রাসার ভেতরে ঢুকে আছে। যার কারণে পুরোনো ভবন ভাঙার সময় বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে বিকল্প শ্রেণিকক্ষের ব্যবস্থা হয়নি। বিকল্প ব্যবস্থা না থাকায় শিক্ষার্থীদের ক্লাস না করে সোমবার ফিরে যেতে হয়েছে। পাঠদানের সুযোগ দেওয়ার জন্য পৌর শহরের অন্যান্য সরকারি মাদ্রাসা ও বিদ্যালয়ে যোগাযোগ করা হলেও কেউ রাজি না হওয়ায় আগামী দুই দিনের জন্য বিদ্যালয় বন্ধ দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে সমাধান হলে শিক্ষার্থীরা ক্লাসে ফিরতে পারবে।
উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. নজরুল ইসলাম জানান, সরকারি বিধি মোতাবেক যে ঠিকাদার নতুন ভবনের কাজ পাবে তিনি-ই বিকল্প পাঠদানের ব্যবস্থা করে দেবেন এবং বিকল্প ব্যবস্থার জন্য বরাদ্দও আছে। নিয়ম অনুযায়ী কম পক্ষে ৩৩ শতাংশ জমির ওপর প্রাথমিক বিদ্যালয় থাকার কথা এবং এর মধ্যে ৩/৪ শতাংশ জমির ওপর বিদ্যালয় থাকলেও বাকিটুকুতে বিকল্প ব্যবস্থা করা যায়।
তিনি বলেন, সোনাগাজী মাদ্রাসা প্রাইমারি স্কুলে ঠিকাদার বিকল্প ব্যবস্থা করতে করেনি। শিক্ষার্থীরা ক্লাস না করে ফিরে যাওয়ার বিষয়টি জানতে পেরেছি। ইউএনওর সঙ্গে কথা বলে আগামী তিন-চার দিনের মধ্যে পাঠদানের অনুকূল পরিবেশ আছে এমন স্থানের ব্যবস্থা করার চেষ্টা করা হবে।
তবে বিকল্প শ্রেণি কার্যক্রমের ব্যবস্থা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের করার নিয়ম আছে- বিষয়টি জানেন না নতুন ভবনের কাজ পাওয়া রফিকুল ইসলাম এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী রফিকুল ইসলাম।
তিনি বলেন, এর আগেও অনেক বিদ্যালয়ের নতুন ভবন নির্মাণ করেছি, কিন্তু কোথাও বিকল্প ব্যবস্থা আমাদের করতে হয়নি। এর জন্য অতিরিক্ত কোনো বরাদ্দও দেওয়া হয়নি। বিকল্প ব্যবস্থা বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ করবে। সোনাগাজী মাদ্রাসা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নতুন ভবন নির্মাণের এখনো ওয়ার্কঅর্ডার পাইনি, তাই বিকল্পের বিষয়ে আমাদের জানার কথা না।
সোনাগাজী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এসএম মনজুরুল হক বলেন, বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ও শিক্ষা কর্মকর্তার বিকল্প ব্যবস্থা করার কথা থাকলেও তারা করেননি। শিগগিরই আশপাশের কোথাও বিকল্প পাঠদানের ব্যবস্থা করা হবে।
এদিকে অভিযোগ আছে, জরাজীর্ণ স্কুল ভবনটি গোপন নিলামে চরচান্দিয়া ইউনিয়নের নিজাম উদ্দিন নামে এক ব্যক্তির কাছে মাত্র ৩৮ হাজার টাকায় বিক্রি করা হয়। নিজাম উদ্দিনের সঙ্গে সোনাগাজী মাদ্রাসা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হুমায়ুন কবির ও স্কুলের এসএমসির সভাপতি মাহমুদুল হাসানের যোগসাজশ রয়েছে।
জানা যায়, ভবনটির মূল্য ১০ লাখ টাকা হওয়ার কথা থাকলেও ৩৭ হাজার ৭৪১ টাকা ২৫ পয়সা, ভ্যাটসহ ৪২ হাজার টাকায় বিক্রি করে দেওয়া হয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট এলাকায় প্রচার চালিয়ে নিলাম ডাকের কথা থাকলেও এ ক্ষেত্রে তা মানা হয়নি। কাগজ-কলমে নিলাম দেখিয়ে গোপনে কাজটি করেছে উপজেলা শিক্ষা অফিস।
নিলামে অনিয়মের অভিযোগ পাওয়ায় ভবন ভাঙার কাজ বন্ধ করে দেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এসএম মনজুরুল হক।
বিদ্যালয়ের এসএমসির সভাপতি মাহমুদুল হাসানের ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করলেও তিনি ফোন ধরেননি।