আ.লীগের কাছে ভোট বন্ধের কারণ স্পষ্ট নয়

গাইবান্ধা-৫ (সাঘাটা-ফুলছড়ি) আসনে উপনির্বাচনের ভোটগ্রহণ বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নির্বাচন কমিশনকে (ইসি) কেন নিতে হয়েছে তা বুঝে উঠতে পারছে না ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। গতকাল বুধবার ভোটকেন্দ্রের পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেছে উল্লেখ করে নির্বাচন কমিশন ভোটগ্রহণ বন্ধ ঘোষণার পর আওয়ামী লীগের একাধিক নেতা তাৎক্ষণিকভাবে এ প্রতিক্রিয়া দেন।

তারা বলেন, দৃশ্যমান সহিংসতা ও গোলযোগের তথ্য পাওয়া না গেলেও ভোট বন্ধ করার সিদ্ধান্ত কেন নিতে হলো নির্বাচন কমিশনকে তার যৌক্তিক কারণ দেখাতে হবে।

তবে এ ইস্যুতে প্রতিক্রিয়া জানাতে আওয়ামী লীগের অনেক নেতাও অনীহা প্রকাশ করেছেন। আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদ সদস্য মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন চুপ্পু দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘নির্বাচন কমিশন স্বাধীন ও নিরপেক্ষ প্রতিষ্ঠান। তারা তাদের দৃষ্টিভঙ্গিতে কী মনে করেছে, সেটা তাদের বিষয়। আমাদের প্রার্থী তো মনে করেন সুষ্ঠু নির্বাচনই হচ্ছিল। নির্বাচন কমিশন যদি যথাযথ কারণ দেখিয়ে ব্যবস্থায় যায়... বিষয়টি জানার পরে আমরা দলীয়ভাবে প্রতিক্রিয়া জানাব। এখন আমাদের সুনির্দিষ্ট প্রতিক্রিয়া জানানোর সুযোগ নেই।’ তিনি বলেন, তবে নির্বাচন কমিশন যেটা ভালো মনে করেছে, তাদের নিরপেক্ষতা, অবস্থান, কার্যকারিতা সম্পর্কে অবহিত আছে, সে অনুযায়ী তারা সিদ্ধান্ত নিয়েছে। অবশ্য তার যৌক্তিক কারণ দেখাতে হবে।

আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল আলম হানিফ দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘নির্বাচনে দৃশ্যমান কোনো সহিংসতা বা গোলযোগের তথ্য পাওয়া যায়নি। তারপরও ভোট বন্ধের সিদ্ধান্ত কেন এলো, তা আমাদের বোধগম্য নয়।’ তিনি বলেন, ‘আমরা স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলাম, তারা কেউ অনিয়মের কথা বলতে পারেনি।’

দলের সভাপতিমন্ডলীর সদস্য আবদুর রহমান দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘কেউ একজন অভিযোগ করলেই নির্বাচন কমিশন (ইসি) সেটিকে আমলে নিয়ে ব্যবস্থা গ্রহণ করবে এটা অপ্রত্যাশিত। তারপরও ইসি যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে, তা নিয়ে মন্তব্য করতে চাই না। সিসি (ক্লোজ সার্কিট) ক্যামেরা দেখে তাদের বিবেচনায় যদি ভোট বন্ধ করার মতো হয়, তাহলে কিছু বলার নেই। আমরাও তো চাই একটি সুষ্ঠু, অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন। সেই জায়গায় ইসি যদি মনে করে এখানে ব্যত্যয় হয়েছে, তাহলে তাদের সিদ্ধান্তের বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে চাই না।’