লালমনিরহাটের হাতীবান্ধায় ছাত্রলীগ-বিএনপি সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। সংঘর্ষে পুলিশসহ উভয়পক্ষের ১০ জন আহত হয়েছে। গতকাল শুক্রবার দুপুরে উপজেলা বিএনপির দলীয় কার্যালয় এলাকায় ফিলিং স্টেশনের সামনে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
সংঘর্ষে আহতরা হলেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-দপ্তর সম্পাদক মিলন সরকার, ছাত্রলীগ নেতা জাহেদুল ইসলাম, মহিদুল ইসলাম জুয়েল, রিফান, রুমন ও আসাদুল। স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা নুরন্নবী কাজল, রবিউল, আলী ও ছাত্রদল নেতা জাহিদ। এ ছাড়া সংঘর্ষে আহত হয়েছেন হাতীবান্ধা থানার উপপরিদর্শক মহিদুল ইসলাম। আহতদের মধ্যে দুই ছাত্রলীগ নেতা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন, বাকিরা প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে চলে গেছেন।
জানা গেছে, গতকাল দুপুরে উপজেলার তেলের পাম্প এলাকায় দলীয় কার্যালয়ে আয়োজিত রংপুর বিভাগীয় গণসমাবেশ উপলক্ষে সভা শেষে বের হয় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা। এ সময় উপজেলার সিন্দুর্না ইউনিয়ন ছাত্রলীগের মতবিনিময় সভা উপলক্ষে একটি মিছিল বের করে হাতীবান্ধা উপজেলা ছাত্রলীগ। পথে হাতীবান্ধা ফিলিং স্টেশনের সামনে দুপক্ষের সংঘর্ষ বাধে। দুপক্ষের মধ্যে চলে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
হাতীবান্ধা উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক মোশারফ হোসেন বলেন, ‘দলীয় কার্যালয়ে আমাদের একটি সভা শেষ করে বের হয়ে চলে যাচ্ছিলাম। এ সময় ছাত্রলীগ অতর্কিত হামলা চালায়। কোনো কারণ ছাড়াই তারা আমাদের ওপর হামলা চালিয়েছে। এতে আমাদের কয়েকজন আহত হয়েছেন।’
উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-দপ্তর সম্পাদক মিলন সরকার বলেন, ‘বিকেলে সিন্দুর্না ইউনিয়নে ছাত্রলীগের মতবিনিময় সভা উপলক্ষে উপজেলা ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা মিছিল বের করে। আমিও সেখানে ছিলাম। ফিলিং স্টেশনের সামনে বিএনপি ও তার অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা ছাত্রলীগের ওপর ঢিল ছুড়তে থাকে। পরে লাঠিসোঁটা নিয়ে হামলা চালায়। এতে আমিসহ ছাত্রলীগের আরও চারজন আহত হয়।’
উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি ফাহিম শাহরিয়ার খান জিহান বলেন, ‘আমরা শান্তিপূর্ণ মিছিল নিয়ে যাচ্ছিলাম। এ সময় বিএনপির লোকজন আমাদের ঢিল ছুড়তে থাকে। আমরাও তাদের প্রতিহত করি।’
উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক রুবেল ইসলাম বলেন, ‘আমরা শান্তিপূর্ণভাবে দলীয় প্রোগাম শেষ করে বের হই, এ সময় ছাত্রলীগ আমাদের ওপর হামলা চালায়। পুলিশ বাধা দিলেও তারা কথা না শুনে ঢিল ছোড়ে। এতে ছাত্রদলের দুজন ও স্বেচ্ছাসেবক দলের তিনজন আহত হয়।’
হাতীবান্ধা থানার ওসি (তদন্ত) গুলফামুল ইসলাম বলেন, ‘বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক আছে। সেখানে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। এ ঘটনায় হাতীবান্ধা থানার উপপরিদর্শক মহিদুল ইসলাম আহত হন। ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’