কলেজ মাঠে ঘোড়ার হাট

জামালপুর সদর উপজেলার রসিদপুর ইউনিয়নের তুলশিপুর ডিগ্রি কলেজের পাঠদান বন্ধ করে মাঠে ঘোড়ার হাট বসানোর অভিযোগ উঠেছে। হাটের নিয়ন্ত্রণে ক্ষমতাসীন দলের নেকাকর্মীরা জড়িত থাকায় এ নিয়ে কথা বলার সাহস করে না কেউ। পড়ালেখায় বিঘ্ন ও কলেজের পরিবেশ নষ্ট হওয়ায় অবিলম্বে মাঠ থেকে ঘোড়ার হাট সরিয়ে নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা। কলেজের অধ্যক্ষ বলছেন, হাটের সঙ্গে ক্ষমতাসীন দলের নেতারা জড়িত থাকায় কোনো ব্যবস্থা নিতে পারছেন না। আর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বলছেন, এটা একটি ঐতিহ্যবাহী ঘোড়ার হাট। এখন পর্যন্ত কেউ অভিযোগ দেয়নি।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, তুলশিপুর ডিগ্রি কলেজ মাঠে প্রতি বৃহস্পতিবার বেলা ১২টা থেকে ঘোড়ার হাট বসে। হাটে শত শত লোকের সমাগম ঘটে। দেশের বিভিন্ন জেলার মানুষ ঘোড়া ও ঘোড়ার গাড়ি বেচাকেনা করতে আসে। কলেজের মাঠজুড়ে ঘোড়া, ঘোড়ার গাড়ি ও ক্রেতা-বিক্রেতার ভিড় জমে ওঠে।

সরেজমিনে দেখা যায়, কলেজের পুরো মাঠ দখল করে বসেছে ঘোড়ার হাট। হাটে বিক্রির জন্য প্রায় দুই শতাধিক ঘোড়া ও ঘোড়ার গাড়ি নিয়ে বসে আছে লোকজন। পাশেই কলেজের ভবনগুলো বেলা ১২টার দিকে তালাবদ্ধ দেখা যায়। ক্লাস চলার সময় হলেও হাট বসার কারণে কলেজে কোনো শিক্ষার্থী নেই।

শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, কলেজ মাঠে ঘোড়ার হাট হওয়ায় পড়ালেখায় খুবই ক্ষতি হচ্ছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রতি শুক্রবার একদিন সরকারি ছুটি ছিল। এখন সরকার সপ্তাহে দুদিন শুক্রবার ও শনিবার ছুটি ঘোষণা করেছে। কিন্তু আমাদের কলেজে ঘোড়ার হাটের কারণে সপ্তাহে তিনদিন বন্ধ থাকে। ক্লাস চলে মাত্র চারদিন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই কলেজের কয়েকজন শিক্ষার্থী জানান, কলেজের মাঠে ঘোড়ার হাট বসায় ক্লাস বন্ধের পাশাপাশি ঘোড়ার মল-মূত্রে দুর্গন্ধের সৃষ্টি হয়। মাঠ ময়লা-আবর্জনায় ভরে থাকে। কলেজ মাঠে শিক্ষার্থীদের খেলাধুলা ও শরীরচর্চার কোনো পরিবেশ থাকে না। তারা দ্রুত কলেজ মাঠ থেকে ঘোড়ার হাট সরানোর দাবি জানান।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক তুলশিপুর কলেজের ডিগ্রির এক শিক্ষার্থী বলেন, ‘কলেজ মাঠে ঘোড়ার হাট বসানোটা অনৈতিক হয়েছে। কলেজ পরিচালনা পরিষদের লোকজন ক্ষামতাসীন দলের প্রভাবশালী নেতা। স্থানীয় চেয়ারম্যান ও নেতাদের মাধ্যমেই হাট বসে। তাদের অনেকেই কলেজ পরিচালনা কমিটির সদস্য।’

এ বিষয়ে কলেজের অধ্যক্ষ জাহাঙ্গীর আলম লিচু মুঠোফোনে বলেন, ‘এটা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী, উত্তরাঞ্চলের তুলশিপুর বাজার কেন্দ্রিক যারা, তারাই ডেকে নিয়ে বাজার চালায়। পড়াশোনার বিঘœ ঘটলেও কোনো ব্যবস্থা নিতে পারছি না। আমার কোনো বেনিফিটও নেই। কলেজে একটা টাকাও দেয় না।’

উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) লিটুস লরেন্স চিরান বলেন, ‘এটা একটি ঐতিহ্যবাহী ঘোড়ার হাট। আমি চাইলেই তো এত বড় জায়গা দিতে পারব না। এখন পর্যন্ত কেউ অভিযোগ দেয়নি। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জন্য এটা খারাপ একটা দিক। দেখি বন্ধের দিন হাট বসানো যায় কি না। আমি আগে জানতাম হাট বন্ধের দিন বসে।’

জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মনিরা মুস্তারি ইভা বলেন, ‘স্থানীয় চেয়ারম্যান ও এমপির সিদ্ধান্ত কি না জানতে হবে। যদি জনপ্রতিনিধিদের সিদ্ধান্ত হয়ে থাকে তাহলে বিষয়টা আলাদা। আর যদি কলেজ কর্তৃপক্ষ সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকে তাহলে বিষয়টি আলাদা। এ বিষয়ে প্রিন্সিপাল স্যারের সঙ্গে কথা বলব।’