দিনাজপুর পৌরসভার উন্নয়নে ৪০ কোটি টাকা আনলেন হুইপ ইকবালুর রহিম

দীর্ঘদিন ধরেই দিনাজপুর পৌরসভার অধীনে রাস্তাঘাট ও ড্রেনেজ ব্যবস্থায় নাজুক অবস্থা বিরাজ করছে। পৌরসভার বেশির ভাগ রাস্তা চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়েছে। এবড়োখেবড়ো রাস্তাঘাটের ফলে হরহামেশাই ঘটছে দুর্ঘটনা। পাশাপাশি ড্রেনেজ ব্যবস্থা নাজুক হয়ে পড়ায় সামান্য বৃষ্টিতেই রাস্তাঘাটে পানি জমছে। ময়লা-আবর্জনার স্তূপ হয়ে পড়েছে এসব ড্রেন।

বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় জনগণ বেশ ক্ষোভের মধ্যেই রয়েছেন। দেড় শ বছর পুরোনো এ পৌরসভার এমন বেহাল অবস্থা হলেও কর্তৃপক্ষ কোনো কার্যকর ভূমিকা গ্রহণ করতে পারেনি। পৌরসভার বাসিন্দা ও জনগণের সীমাহীন দুর্ভোগ নিয়ে বিভিন্ন মিডিয়ায় সংবাদ প্রকাশিত হলেও কোনো লাভ হয়নি। পৌরসভার বিভিন্ন অনিয়ম, দুর্নীতির অভিযোগের প্রেক্ষিতে স্থানীয় সরকার বিভাগ দিনাজপুর পৌরসভার উন্নয়ন কার্যক্রমে তেমনভাবে সাড়া দেয়নি। ফলে চরম দুর্ভোগে পড়ে জনগণ।

অবশেষে জাতীয় সংসদের হুইপ ইকবালুর রহিমের হস্তক্ষেপে পৌরসভার উন্নয়ন শুরু হয়েছে। এরই মধ্যে পৌরসভার বিসি সড়ক ও আরসিসি সড়ক নির্মাণ এবং আরসিসি ড্রেন নির্মাণসহ বিভিন্ন অবকাঠামোর উন্নয়নের জন্য ৩৯ কোটি ৯০ লাখ টাকার বিশেষ বরাদ্দ দিয়েছে স্থানীয় সরকার বিভাগ। এই অর্থ দিয়ে পৌরসভার রাস্তাঘাট ও ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়ন হলে নাগরিকরা স্বস্তি পাবেন। 

গত ১২ অক্টোবর স্থানীয় সরকার, পল্লি উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের অধীনে স্থানীয় সরকার বিভাগ পরিকল্পনা-১ শাখা থেকে দিনাজপুর পৌরসভার অবকাঠামো উন্নয়ন শীর্ষক অনুমোদিত প্রকল্পের প্রশাসনিক আদেশ প্রদান করা হয়।

স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ-সচিব নুরে আলম স্বাক্ষরিত ওই আদেশে জানানো হয়, সম্পূর্ণ জিওবির ৩৯ কোটি ৯০ লাখ টাকার প্রকল্পটি আগামী ২০২৪ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে বাস্তবায়িত হবে।

এর আগেও হুইপ ইকবালুর রহিম এই পৌরসভার জন্য ১৭ কোটি টাকার বিশেষ বরাদ্দ নিয়ে আসেন। যে অর্থ দিয়ে পৌরসভার বিভিন্ন সড়কের উন্নয়নকাজ চলমান রয়েছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে উন্নয়ন কর্মকাণ্ড সম্পন্ন করার জন্য বিশেষ বরাদ্দের এসব উন্নয়ন কার্যক্রম বাস্তবায়ন করছেন এলজিইডি।

কথা হলে জাতীয় সংসদের হুইপ ইকবালুর রহিম এমপি বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী কয়েক মাস আগে এই পৌরসভার উন্নয়নের জন্য ১৭ কোটি টাকার বরাদ্দ দিয়েছিলেন, যার উন্নয়ন কার্যক্রম চলমান। আরও দুদিন আগে প্রায় ৪০ কোটি টাকার বরাদ্দ দিয়েছেন। আমি প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানাই। এই বরাদ্দের উন্নয়ন দিয়ে পৌরসভার বাসিন্দারা সুখে-শান্তিতে চলাফেরা করতে পারবেন।

তিনি বলেন, বর্তমান মেয়রের ব্যর্থতা, অযোগ্যতা ও দুর্নীতির কারণে দিনাজপুর পৌরসভার রাস্তা-ঘাটের উন্নয়ন সম্ভব হয়নি। পৌরসভার যেসব কার্যক্রম থাকে তা সাধারণত পৌরসভা কর্তৃপক্ষের করার কথা। স্থানীয় সরকারের অধীনে পৌরসভা, তাই পৌরসভার কার্যক্রম তাদের আওতাধীন। এখানে জাতীয় সংসদ সদস্যদের বিষয় নাই। পৌরসভার যাবতীয় উন্নয়ন পৌরসভার মেয়র, কাউন্সিলররা করবেন। কিন্তু পৌরসভার রাস্তাঘাট ও ড্রেনের বাজে অবস্থা। রাস্তাঘাট খানাখন্দে ভরা, সামান্য বৃষ্টিতেই রাস্তায় পানি জমে। দীর্ঘদিন ধরে এমন অবস্থা চলতে থাকলেও পৌরসভার মেয়র, কাউন্সিলর কিংবা সংশ্লিষ্টরা এসব ব্যাপারে কোনো উদ্যোগ গ্রহণ করতে পারেনি। তাই স্থানীয় জনগণ পৌরসভার উন্নয়নের জন্য আমাকে জানালে আমি উন্নয়ন কার্যক্রম করার উদ্যোগ নিই। যে অর্থ বরাদ্দ হয়েছে তা দিয়ে দ্রুত সময়ের মধ্যেই রাস্তাঘাট ও ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়ন করা হবে।