মুন্সের ব্যাটে ক্যারিবিয়ানদের ১৬১ রানের লক্ষ্য দিলো স্কটিশরা

শুরুর ঝড় দেখে মনে হয়েছিল স্কটিশদের সংগ্রহটা হবে বিশাল। পাওয়ার প্লেতে তেমনই ইঙ্গিত দিয়েছিল তারা। তবে ষষ্ঠ ওভারের তৃতীয় বলে বৃষ্টি বাগড়ায় খেলা বন্ধ হয়ে। পরে খেলা শুরু হলেও সেই আগ্রাসী মেজাজও যেন হারিয়ে যায়। তবুও শেষ পাঁচ ওভারে শুরুর কিছুটা ঝলক দেখিয়েছে তারা। তাতে জর্জ মুন্সের অপরাজিত অর্ধশতকে ভর করে ১৬০ রানের পুঁজি পায় স্কটল্যান্ড।

দুর্দান্ত শুরু করা জর্জ মুন্সে শেষ পর্যন্ত অপরাজিত থেকে ৫৩ বলে ৬৬ রান করে। তার ইনিংসটি সাজানো ছিল ৯টি চারে। তবে শেষ বেলায় ঝড় তুলেছেন ক্যালাম ম্যাকলয়েড (২৩) ও ক্রিস গ্রেইভস (১৬)। তাতে লড়াকু এই পুঁজি পায় স্কটল্যান্ড। ১৬১ রানের লক্ষ্য নিয়ে একটু পর ব্যাট করতে নামবে

তাসমানিয়ার হোবার্টে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের তৃতীয় ম্যাচে টস হেরে ব্যাটিংয়ে নেমেছিল স্কটল্যান্ড। শুরু থেকেই আগ্রাসী ছিল স্কটল্যান্ড। মাইকেল জোনস ও জর্জ মুন্সে ৩৩ বলেই তুলে নেন দলীয় অর্ধশতক। তারপরই নামে বৃষ্টি। খেলা বন্ধ থাকে প্রায় আধ ঘণ্টা। বৃষ্টির পর খেলা শুরু হলে শেষ হয় পাওয়ার প্লে। তাতে কোনো উইকেট না হারিয়ে ৫৪ রান সংগ্রহ করে তারা। তবে সপ্তম ওভারের দ্বিতীয় বলেই সাফল্য আসেন ওয়েস্ট ইন্ডিজ দুর্গে। স্কটিশরা হারায় নিজেদের প্রথম উইকেট।

টস হেরে ব্যাট করতে নামা স্কটল্যান্ড প্রথম ওভারেই কাইল মায়ার্সকে দুটি চার মারে। জোনসের ব্যাটে দুটি চারই ছিল দৃষ্টিনন্দন। পরের ওভারে মাত্র এক রান নেওয়ার তৃতীয় ওভারে যেন তেলেবেগুনে জ্বলে উঠেন জর্জ মুন্সে। মায়ার্সের দ্বিতীয় ওভার থেকে নিয়ে আসেন ১৬ রান। পরের ওভারে জোসেফের ওপরেও একইভাবে রাগ ঝাড়লেন ১৫ রান নিয়ে। তাতে ৫ ওভারেই ৪৭ রান সংগ্রহ করে নেয় স্কটল্যান্ড। কিন্তু ৫.৩ ওভারে দলীয় ৫২ রানের মাথাতেই নামে বৃষ্টি।

বৃষ্টির পর খেলা শুরু হলে শেষ হয় পাওয়ার প্লে। তারপরই নিজেদের প্রথম উইকেট হারায় স্কটল্যান্ড। মাইকেল জোন্সকে ফিরিয়ে ক্যারিবিয়নদের প্রথম ব্রেক থ্রো এনে দেন জেসন হোল্ডার। ফেরার আগে ২০ রান যোগ করতে পেরেছিলেন ব্যাক্তিগত ঝুলিতে।

এতেই যেন দুরন্ত গতিতে ছুটতে থাকা রানের চাকা হঠাৎই মন্থর হয়ে যায়। দ্রুত রান তুলতে ব্যাকুল হয়ে ওঠেন মেথু ক্রস। নবম ওভারের দ্বিতীয় বলে তিনি মিডঅন দিয়ে ছক্কা মারতে চেয়েছিলেন। কিন্তু হোল্ডারের শর্ট বলটির টাইমিং হয়নি। তাতে ব্রুকস ক্যাচ নিলে মাত্র ৩ রান করেই ফিরতে হয় তাকে।

এরপর অধিনায়ক রিচি বেরিংটন কিছুটা ঝড়ের ইঙ্গিত দিয়েছিলেন। একাদশতম ওভারের পঞ্চম বলে আকিল হোসেইনের স্লোয়ার বল স্লগ করে ডিপ মিডউইকেট দিয়ে মেরেছেন ছক্কা। স্কটিশদের গোটা ইনিংসে ছক্কা ঐ একটিই। তবে ঝড়ের আভাস দিয়েও তান্ডব চালাতে পারেননি তিনি। জোসেফের শিকার হয়েছেন পরের ওভারেই। ফেরার আগে ১৪ বলে এক ছক্কায় করেন ১৬ রান।

অধিনায়কের বিদায়ের পর যেন শুরু হয় যাওয়া আসার মিছিল। নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারাতে থাকে স্কটল্যান্ড। তবে মাঝে ক্যালাম ম্যাকলয়েড হাত খুলে খেলেই আউট হয়েছেন। তার ২৩ রানের ইনিংসটি ছিল ১৪ বলে। যাতে ছিল চারটি দৃষ্টিনন্দন বাউন্ডারি। আর শেষ দিকে ক্রিস গ্রেইভস খেলেন ১১ বলে ১৬ রানের ইনিংস। যা সাজানো ছিল দুটি চারে।

তাতেই স্কটল্যান্ড পায় ১৬০ রানের লড়াকু পুঁজি। ব্যাটিংয়ের আগ্রাসী ভাব বোলিং ও ফিল্ডিংয়ে রাখলে নামিবিয়ার মতো তারা অঘটনের জন্ম দিতে পারে। যেমনটি গত বিশ্বকাপে ওমানের মাস্কাটে দিয়েছিল বাংলাদেশের বিপক্ষে।