বাংলাদেশের শ্রম আইনে অনলাইন প্ল্যাটফর্মে কাজ করা কর্মীরা কোনো স্বীকৃতি পান না। এজন্য তারা বঞ্চিত ন্যায্য বেতন থেকে। বাংলাদেশে ৯টি ই-কমার্স প্ল্যাটফর্ম নিয়ে গবেষণায় উঠে এসেছে এসব তথ্য। গতকাল সোমবার ফেয়ারওয়ার্ক বাংলাদেশ নামের একটি প্রতিষ্ঠান রাজধানীর ব্র্যাক সেন্টার ইনে এ গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশ করে।
দ্বিতীয় ফেয়ারওয়ার্ক বাংলাদেশ প্রতিবেদনে বলা হয়, গত বছর থেকে বাংলাদেশে ডেটাসেন্স, আইসোশ্যালের সহায়তায় ফেয়ারওয়ার্ক ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মগুলোতে কর্মরতদের অবস্থার মূল্যায়ন করে ফেয়ারওয়ার্ক রিপোর্ট প্রকাশ করছে। ন্যায্য কাজের পাঁচটি নীতির ভিত্তিতে তাদের র্যাংকিং করা হয়। এই ফেয়ারওয়ার্ক প্রকল্পটি অক্সফোর্ড ইন্টারনেট ইনস্টিটিউট, অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটি এবং ডব্লিউজেডবি বার্লিন সোশ্যাল সায়েন্স কেন্দ্রভিত্তিক। এ প্রতিষ্ঠান ৩৯টি দেশে কাজ করছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, ন্যায্য বেতন ছাড়াও ন্যায্য চুক্তি, ন্যায্য ব্যবস্থাপনা এবং ন্যায্য মর্যাদার ভিত্তিতে ৯টি প্ল্যাটফর্মের মধ্যে মাত্র ৩টি প্ল্যাটফর্ম ৩ নম্বর পেয়েছে। এই ৩টি প্ল্যাটফর্ম হলো সেবা এক্স ওয়াই জেড, হ্যালো টাস্ক, চালডাল ডটকম। তাছাড়া ৩টি প্ল্যাটফর্ম ৩-এর নিচে নম্বর পেয়েছে এবং বাকি প্ল্যাটফর্মগুলো কোনো নম্বর পায়নি।
এ বছর ই-কমার্সের নয়টি প্ল্যাটফর্মের কর্মীদের চালডাল ডটকম, ফুডপান্ডা, হ্যালো টাস্ক, হাংরিনাকি, ওভাই, পাঠাও, সেবা এক্স ওয়াই জেড, ট্রাক লাগবে এবং উবার এই গবেষণায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
প্রতিষ্ঠানটির গবেষণায় বলা হয়, বাংলাদেশের শ্রম আইনে প্ল্যাটফর্ম কর্মীদের জন্য আলাদা কোনো স্বীকৃতি নেই। যার ফলে তারা তাদের ন্যায্য বেতন পাচ্ছে না। অনেক ক্ষেত্রেই দেখা গেছে, প্ল্যাটফর্ম কর্মীটিই পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি। কিন্তু স্বল্প আয়ের কারণে পরিবারের সবার ভরণপোষণ কষ্টকর হয়ে পড়ছে।
ফেয়ারওয়ার্কের নীতি উপস্থাপন করেন অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের পোস্ট ডক্টরাল ড. ম্যাথিউ কোল। তিনি জানান, ফেয়ারওয়ার্কের মূল উদ্দেশ্য হলো ন্যায্য বেতন, ন্যায্য শর্ত, ন্যায্য চুক্তি, ন্যায্য ব্যবস্থাপনা এবং ন্যায্য মর্যাদার ভিত্তিতে প্ল্যাটফর্ম কর্মীদের অধিকারগুলো তুলে ধরা।
বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব লেবার স্টাডিজের গবেষণা পরিচালক নাজমা ইয়াসমিন বলেন, ‘প্ল্যাটফর্ম কর্মীরা আমাদের জীবন সহজ করেছে কিন্তু বিনিময়ে তারা ন্যায্য অধিকার আদায় করতে পারছে না, ন্যায্য বেতনও পাচ্ছে না। আমরা চেষ্টা করছি এদেরকে শ্রমিক আইনের আওতায় আনার।’