জলবায়ু পরিবর্তন রোধে সোচ্চার তারুণ্যের তারকা গ্রেটা থুনবার্গ রাজনীতিতে নামতে চান না, কারণ তার মনে হয় প্রচলিত রাজনীতি ‘অতি বিষাক্ত’। বিবিসিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে সুইডেনের এ পরিবেশ আন্দোলনকারী ভবিষ্যতে রাজনীতিতে জড়াবেন কি না প্রশ্নে নিজের মনোভাব তুলে ধরে এ মন্তব্য করেছেন।
তার মতে, পরিবর্তন তখনই আসবে যখন বাইরে থেকে জনগণের যথেষ্ট চাপ তৈরি করা সম্ভব হবে আর সেই চাপটাই তারা তৈরি করছেন। তবে বিশ্বব্যাপী এ আন্দোলনের নেতাও হতে চান না থুনবার্গ। তার মতে এটা অনেক ‘বড় দায়িত্ব’।
সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ‘আপনি যদি মনে করেন বিশ্বের সব আশা-ভরসার ভার এ ক্লান্ত অবসন্ন তরুণদের কাঁধে চাপিয়ে দেবেন, তাহলে আমি বলব, সেটা খুব ভালো কিছু হবে না।’
জলবায়ু পরিবর্তনসংক্রান্ত জাতিসংঘের ফ্রেমওয়ার্ক কনভেনশনের পক্ষগুলোর ২৭তম সম্মেলন বা কপ-২৭ চলতি বছরের ৬ থেকে ১৮ নভেম্বর মিসরে শুরু হতে যাচ্ছে। বিবিসি জানিয়েছে, গ্রেটা থুনবার্গ সেখানে থাকছেন না।
এ ব্যাপারে তিনি বলেন, ‘সেখানে আমার থাকা জরুরি নয়। জলবায়ু পরিবর্তনে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত অনেক দেশের অনেকে সেখানে থাকবেন। আমি মনে করি, তাদের কণ্ঠস্বরই সেখানে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।’
২০১৮ সালে মাত্র ১৫ বছর বয়সে জলবায়ু পরিবর্তনের জন্য দায়ী কার্বন নিঃসরণ কমানোর দাবিতে ক্লাস বর্জন করে সুইডিশ পার্লামেন্টের সামনে অবস্থান নিয়ে বিশ্বে আলোচিত হন গ্রেটা থুনবার্গ। ‘স্কুল স্ট্রাইক ফর ক্লাইমেট’ লেখা প্ল্যাকার্ড হাতে তিনি প্রতি শুক্রবার স্কুলে না গিয়ে পরিবেশের পক্ষে দাবি জানাতে থাকেন। সামাজিকমাধ্যমে তার ব্যতিক্রমী প্রতিবাদ তরুণদের মাঝে তাকে জনপ্রিয় করে। বিশ্বের বিভিন্ন জায়গায় বিভিন্ন পর্যায়ের শিক্ষার্থীরা গ্রেটার প্রতিবাদের আদলে প্রতিবাদ শুরু করে। শুরু হয় পরিবেশ আন্দোলনের নতুন শব্দমালা ‘ফ্রাইডেজ ফর ফিউচার’। ২০১৯ সালের সেপ্টেম্বরে জাতিসংঘের জলবায়ুবিষয়ক সম্মেলনে বক্তব্য দিতে নিউইয়র্কে যান গ্রেটা। সে বছর জাতিসংঘের জলবায়ু সম্মেলনে গ্রেটা রাজনীতিবিদদের তীব্র সমালোচনা করেন। বিশ্বের ভবিষ্যতের স্বার্থে তরুণদের উৎসাহিত করা গ্রেটাকে সে বছরই বর্ষসেরা ব্যক্তিত্ব হিসেবে ঘোষণা করে টাইম ম্যাগাজিন।