লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার শাকচর গ্রামে তালাবদ্ধ ঘর থেকে স্বামী-স্ত্রীর অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। গত সোমবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে মরদেহ উদ্ধার করা হয়। অন্যদিকে বাগেরহাটের রামপালে নিজের ঘরে ট্রাংকের ভেতর থেকে এক নারীর লাশ উদ্ধার করা হয়েছে।
লক্ষ্মীপুরে নিহত দম্পতি হলেন আবু সিদ্দিক মিয়া (৭০) ও আতরের নেছা (৬৫)।
পুলিশ বলছে, সম্পত্তির লোভে এই দম্পতিকে হত্যা করা হয়েছে। এ ঘটনায় মঙ্গলবার লক্ষ্মীপুর মডেল থানায় একটি হত্যা মামলা হয়েছে। বিকেল পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি।
পুলিশ ও স্থানীয় লোকজন জানান, ওই এলাকার ভুট্টুু চৌধুরী ও আবু সিদ্দিক মিয়ার ভাতিজা কামাল জমি রেজিস্ট্রি বিষয়ে জাতীয় পরিচয়পত্রের জন্য ওই বাড়িতে আসেন। তারা দরজার বাইরে তালা দেখে ডাকাডাকি করে সাড়া না পেয়ে জানালা দিয়ে দেখার চেষ্টা করেন। এ সময় দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছিল। পরে পুলিশ এসে তালা ভেঙে প্রবেশ করে এবং মরদেহ দুটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠায়।
এ ঘটনায় অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে হত্যা মামলা করেছেন নিহত আবু সিদ্দিকের ভাই মো. খোকন মিয়া। তিনি জানান, তার ভাই-ভাবির কোনো সন্তান ছিল না। তবে দত্তক নেওয়া এক ছেলে ছিল, তার নাম শাহজাহান। সম্পত্তির লোভে এই হত্যাকান্ডের ঘটনা ঘটতে পারে বলে মনে করছেন তিনি।
লক্ষ্মীপুর সদর মডেল থানার ওসি মো. মোসলেহ উদ্দিন জানান, গলায় কাপড় পেঁচিয়ে এই দম্পতিকে হত্যা করা হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।
পুলিশ সুপার মো. মাহফুজ্জামান আশরাফ জানান, হত্যাকা-ে জড়িতদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
বাগেরহাটে নিহত নারীর নাম নীহারিকা হালদার (৭৫)। সোমবার সন্ধ্যায় রামপাল উপজেলার বেতকাঠা গ্রামের বাড়ি থেকে লাশ উদ্ধারের পর ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠায় পুলিশ।
নীহারিকা হালদার ওই গ্রামের প্রয়াত ক্ষিতিশ হালদারের স্ত্রী। সন্তানেরা বাইরে থাকায় তিনি বাড়িতে একাই থাকতেন।
স্থানীয় লোকজনের বরাত দিয়ে বাগেরহাট জেলা পুলিশের গণমাধ্যম শাখার সমন্বয়কারী পরিদর্শক এস এম আশরাফুল আলম বলেন, নীহারিকা হালদারের এক ছেলে ও তিন মেয়ে। তিন মেয়ের বিয়ে হয়ে গেছে। ছেলে চাকরিজীবী। দুই-তিন দিন ধরে প্রতিবেশীরা নীহারিকা হালদারের বাড়ি তালাবদ্ধ দেখতে পেয়ে তার মেজো মেয়ে রাধিকা শিকদারকে খবর দেন। রাধিকা এসে স্থানীয় ব্যক্তিদের সহায়তায় দরজার তালা ভেঙে ঘরে তালা দেওয়া লেপ-তোশকের ট্রাংক থেকে দুর্গন্ধ পেয়ে পুলিশে খবর দেন।
রামপাল থানার ওসি মোহাম্মদ সামসুদ্দীন বলেন, একা থাকার সুযোগে দুর্বৃত্তরা কৌশলে নীহারিকাকে হত্যা করেছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। বাড়িতে স্বর্ণালংকার, নগদ টাকা নিতেই এ হত্যাকান্ড ঘটে থাকতে পারে।