জিয়ার সামরিক আদালতে দন্ডিতদের ক্ষতিপূরণ কেন নয়

জিয়াউর রহমানের শাসনামলে বিমানবাহিনীতে এক বিদ্রোহের ঘটনায় সামরিক ট্রাইব্যুনালে দ-িতরা চাকরিতে স্বাভাবিকভাবে অবসরে গেলে যে বেতন, পেনশন ও অন্যান্য অর্থ পেতেন, তা দিতে কেন নির্দেশনা দেওয়া হবে না জানতে চেয়েছে হাইকোর্ট।

এ-সংক্রান্ত রিট আবেদনের ওপর শুনানি নিয়ে গতকাল মঙ্গলবার বিচারপতি কে এম কামরুল কাদের ও বিচারপতি মোহাম্মদ আলীর হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রুল দেয়।

রুলে ১৯৭৭ সালের মার্শাল ল রেগুলেশন অ্যাক্টে গঠিত ট্রাইব্যুনালে দোষী সাব্যস্ত করে ১৩ জনের মৃত্যুদ- ও ৭৫ জনকে যাবজ্জীবনসহ বিভিন্ন মেয়াদে দেওয়া সাজাকে অবৈধ ঘোষণা করে আবেদনকারীদের দেশপ্রেমিক হিসেবে বিবেচনা করতে কেন নির্দেশনা দেওয়া হবে না, জানতে চেয়েছে হাইকোর্ট।

একই সঙ্গে আবেদনকারী ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে যোগ্যতা অনুসারে সরকারি চাকরিতে ‘সার্ভিস অব ওয়ার্ড’ দিতে কেন নির্দেশ দেওয়া হবে না রুলে সেটিও জানতে চেয়েছে হাইকোর্ট। প্রতিরক্ষা সচিব, স্বরাষ্ট্র সচিব, আইন সচিব, চিফ অব আর্মি স্টাফ, চিফ অব এয়ার স্টাফকে চার সপ্তাহের মধ্যে রুলের জবাব দিতে বলেছে আদালত।

ওই সাজা ও দ-ের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে মৃত্যুদন্ডপ্রাপ্ত বিমানবাহিনীর সার্জেন্ট সাইদুর রহমানের ছেলে মো. কামরুজ্জামান মিঞা লেলিনসহ দন্ডিত, চাকরিচ্যুত তৎকালীন সেনা ও বিমানবাহিনীর ৮৮ জন ২০১৯ সালের এপ্রিলে এ রিট আবেদনটি করেন। আদালতে আবেদনকারীদের পক্ষে শুনানিতে ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ইউসুফ হোসেন হুমায়ুন। সঙ্গে ছিলেন আইনজীবী মো. মতিউর রহমান। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল এ বি এম আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ বাশার।

অ্যাডভোকেট মতিউর রহমান মামলার নথির বরাত দিয়ে দেশ রূপান্তরকে বলেন, ৮৮ জনের মধ্যে বিমানবাহিনীর ১৩ জনকে মৃত্যুদ-, ৩৩ জনকে যাবজ্জীবনসহ বিভিন্ন মেয়াদে দ- এবং ৪২ জনকে চাকরিচ্যুত করা হয়। তারা সবাই ছিলেন বীর মুক্তিযোদ্ধা। তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল, তারা জিয়াউর রহমানকে উৎখাতের ষড়যন্ত্রে জড়িত ছিলেন। পরে জিয়াউর রহমান তাদের রাষ্ট্রদ্রোহী ঘোষণা করে সামরিক আদালতে বিচার করে সাজার সিদ্ধান্ত দেন।

তিনি বলেন, আলোচিত মুন সিনেমা হলের মামলায় পঞ্চম সংশোধনী অবৈধ ঘোষণা করে রায় দিয়েছিল উচ্চ আদালত। এতে বলা হয়, বাংলাদেশে সামরিক শাসনের কোনো আইনি ভিত্তি নেই এবং এই সামরিক আমলের মার্শাল ল ট্রাইব্যুনাল রেগুলেশন অ্যাক্ট, ১৯৭৭সহ ওই সময়ের যাবতীয় কর্মকান্ড অবৈধ ঘোষণা করা হয়।

আপিল বিভাগের রায় অনুযায়ী, ইতিমধ্যে যেগুলোর বিষয়ে সরকারের সিদ্ধান্ত হয়ে গেছে, সেগুলো বাদে ওই সময়ের আইন অবৈধ ঘোষণা করা হয় এবং এই আইনগুলোর অধীনে কোনো ব্যক্তি যদি ক্ষতিগ্রস্ত হন, তাহলে তিনি প্রতিকার চাইতে পারবেন বলে রায়ে বলা হয়। এর আলোকেই ক্ষতিগ্রস্তরা হাইকোর্টে এ রিট আবেদন করেন।

আইনজীবী বলেন, ‘যেহেতু তাদের দন্ড ও সাজা হয়েছে, তাই তাদের পরিবার কিংবা ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি চাকরির বেতনসহ অন্যান্য সুবিধা থেকে বঞ্চিত হন। এর পরিপ্রেক্ষিতে তাদের পক্ষে এ রিট আবেদনটি হলে হাইকোর্ট রুল দিয়েছে।’