ষাটোর্ধ্ব বয়সের মল্লিকা বসে আছেন একটি বেঞ্চে। তার সঙ্গে আছেন আরও বেশ কয়েকজন। পেশায় সবাই ভিক্ষুক। তারা মেহমানখানার সিরিয়ালের অপেক্ষায় আছেন। মেহমানখানায় তাদের জন্য বিনামূল্যে খাবারের ব্যবস্থা করা হয়েছে। তবে আসন সংখ্যা সীমিত হওয়ায় পালাক্রমে খেতে হয়। মল্লিকা বলেন, ‘আমরা পুরো একটা সপ্তাহ অপেক্ষা করি এই শুক্রবারের জন্য। জানি শুক্রবার এলেই একটু ভালো কিছু দিয়ে দুপুরের খাবার খেতে পারব।’
ময়মনসিংহের নান্দাইলের ইকবাল হোটেল ও রেস্টুরেন্টের মেহমানখানার চিত্র এটি। কনক আহমদ নামে এক ব্যক্তি প্রতি শুক্রবার এখানে বিনামূল্যে দুপুরের খাবারের ব্যবস্থা করেন। মল্লিকা, রাশিদার মতো দেড় শতাধিক ছিন্নমূল, এতিম, ভিক্ষুক, হতদরিদ্র মানুষ প্রতি শুক্রবার বিনামূল্যে খাবার খান ময়মনসিংহ-কিশোরগঞ্জ হাইওয়ে সড়কের নান্দাইল সদর বাসস্ট্যান্ডের উত্তর পাশে অবস্থিত এ মেহমানখানায়। গত এক বছর ধরে চলছে এ কার্যক্রম।
স্থানীয় ব্যবসায়ী মূর্তুজা আলী ফকির বলেন, ‘নান্দাইল সদরের বাসিন্দা প্রয়াত মুক্তিযোদ্ধা আ. সালাম ভূঁইয়া বীরপ্রতীকের একমাত্র ছেলে কনক আহমদ। করোনাকালীন তার বাবার বার্ধক্যজনিত কারণে মৃত্যুর পর থেকে সে বাসস্ট্যান্ডের ইকবাল ফকিরের হোটেলে মেহমানখানা খুলে অসহায় দরিদ্র মানুষদের বিনামূল্যে খাবারের ব্যবস্থা করে আসছেন।
খাবার খেতে আসা রাহিমা বলেন, ‘প্রতি শুক্রবার এই হোটেলের মেহমানখানায় দুপুরের ভাত খাই। একেক দিন একেক তরকারি রান্না করা হয় আমাদের জন্য। কোনো দিন ডিম, কোনোদিন মুরগির মাংস, কোনোদিন গরুর মাংস বা মাছ, সঙ্গে ডাল ও সবজির ব্যবস্থা থাকে।’
রুমেলা নামে এক ভিক্ষুক বলেন, ‘একটু মাংস বা ভালো মাছ খাওয়ার সামর্থ্য আমাদের নেই। এই মেহমানখানায় প্রতি শুক্রবার একটু ভালো তরকারি দিয়ে খেতে পারি। যে আমাদের এই ব্যবস্থা করে দিয়েছে আল্লাহ তার ভালো করুক।’
হোটেল মালিক ইকবাল ফকির বলেন, ‘এক বছর ধরে আমার হোটেলে মেহমানখানা খুলে কনক আহমদ প্রতি শুক্রবার হতদরিদ্র মানুষদের বিনামূল্যে খাবারের ব্যবস্থা করেছেন। প্রতি শুক্রবার দেড় থেকে দুইশ মানুষ বিনামূল্যে খাবার খেয়ে যায়। কনক আহমদ হোটেলের সঙ্গেই নিজ বাড়িতে থাকেন। সেখান থেকে মেহমানখানা লেখা সি্লপ নিয়ে আসেন খাবার প্রত্যাশীরা। প্রতি মাসে ৬০-৭০ হাজার টাকা বিল পরিশোধ করেন তিনি।
জানতে চাইলে কনক আহমদ বলেন, ‘হতদরিদ্র মানুষদের মুখে আমার সাধ্যমতো দুমুঠো ডাল-ভাত তুলে দেওয়ার চেষ্টা করি। যতদিন বেঁচে আছি আল্লাহ চাইলে কাজটি করে যেতে চাই।