এলচেকে হারিয়ে শীর্ষস্থান মজবুত করলো রিয়াল

বার্সেলোনাকে ৩-১ গোলে হারিয়ে পয়েন্ট টেবিলে নিজেদের শীর্ষস্থানকে নিরঙ্কুশ করে নিয়েছিল রিয়াল মাদ্রিদ। বুধবার রাতে এলচেকে তাদের মাঠে গিয়ে ৩-০ ব্যবধানে হারিয়ে নিজেদেরকে বার্সার চেয়ে অনেক দুরে নিয়ে গেলো কার্লো আনচেলত্তির শিষ্যরা।

১০ ম্যাচ শেষে রিয়াল মাদ্রিদের পয়েন্ট এখন ২৮। অন্যদিকে এক ম্যাচ কম খেলে, তথা ৯ ম্যাচে বার্সেলোনার পয়েন্ট ২২। দুই দলের সঙ্গে এখন ব্যবধান ৬ পয়েন্টের।

গত মৌসুম থেকে অপ্রতিরোধ্য হয়ে উঠেছেন করিম বেনজামা। এ মৌসুমেও ধরে রেখেছে তার ধারাবাহিক ফর্ম। রিয়াল মাদ্রিদকে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়ে সদ্যই জিতেছেন ব্যালন ডি'অর শিরোপা। এবার তার নেতৃত্বে এলচের বিপক্ষে আরেকটি ম্যাচে বড় জয়ের স্বাদ গ্রহণ করলো কোচ আনচেলত্তির দল। এ ম্যাচেও হতে পারতো বেনজামার হ্যাটট্রিক। তবে দুটি গোল অফসাইডের কারণে বাতিল হওয়ায় একটি গোলই তার ঝুলিতে যোগ হয়েছে।

এ ম্যাচে শুরু থেকেই এলচেকে চেপে ধরে রিয়াল। খেলা শুরুর ৬ মিনিটের মাথায় ব্রাজিলিয়ান উইঙ্গার ভিনিসিয়ুস এর সমন্বয়ে গোল করেন বেনজেমা। কিন্তু গোলটি ভিএআর দেখে বাতিল করে দেন রেফারি। ম্যাচের ১০ মিনিটে আবারও আক্রমণে রিয়াল। এবার মাঝ মাঠ থেকে বল নিয়ে ভিনিসিয়ুসকে পাস দেন ক্রোয়েশিয়ান মিডফিল্ডার লুকা মদ্রিচ। পাসের সঠিক ব্যবহার করে ডি বক্স থেকে জোরালো শট নেন ভিনিসিয়ুস। সেটি এলচের এক ডিফেন্ডারের গায়ে লেগে ব্লক হয়ে গেলেও বল চলে যায় রিয়ালের আরেক মিডফিল্ডার ফেদে ভালভার্দের পায়ে। বল পাওয়া মাত্রই ডি বক্সের বাইরে থেকে শট নিয়ে এলচের জালে বল জড়িয়ে দেন তিনি। এ গোলের পর চলতি মৌসুমে ১০ ম্যাচের মধ্যে ভালভার্দের গোলের সংখ্যা দাঁড়ালো ৬টি।

২৫ মিনিটে আবার গোল করে রিয়াল মাদ্রিদ, এবারের গোলটি করেন গত মৌসুমে বায়ার্ন থেকে রিয়ালে যোগ দেয়া অস্ট্রিয়ান ডিফেন্ডার ডেভিড আলাবা। তবে ভিএআর-এ দেখে রেফারি গোলটি বাতিল করে দেয়। বিরতির আগ পর্যন্ত দুই দল আরও আক্রমণ-পাল্টা আক্রমণ করেও গোলের দেখা পায়নি।

বিরতি থেকে ফিরে আবারও আক্রমনে যায় রিয়াল মাদ্রিদ। ম্যাচের ৬২ মিনিটে রিয়ালের রাইট ব্যাক দানি কারভাহালের অসাধারণ এক ক্রস থেকে এলচের জালে বল জড়ান বেনজামা। অফসাইডের কারণে এ গোলটিও ভিএআর দেখে বাতিল করে দেয়া হয়।

তবে গোলের জন্য আর বেশিক্ষণ অপেক্ষা করতে হয়নি ব্যালন ডি’অর জেতা এই ফরাসি স্ট্রাইকারকে। ম্যাচের ৭৪তম মিনিটে রিয়ালের আরেক ব্রাজিলিয়ান তরুণ খেলোয়াড় রদ্রিগোর সমন্বয়ে এক চোখ ধাঁধানো গোল করেন তিনি। খেলা শেষ হওয়ার আগে আরো একটি গোল করে রিয়াল মাদ্রিদ। ৮৮ মিনিটে ভিনিসিয়ুসের পরিবর্তে মাঠে নামা মার্কো আসেনসিও শেষ গোলটি করেন। এ গোলের পেছনেও অবদান ছিলো রদ্রিগোর। মাঝমাঠ থেকে শুয়োমিনির দেয়া পাসে বাম দিক থেকে বল নিয়ে এলচের ডি বক্সে আসেনসিওর দিকে বল বাড়িয়ে দেয় রদ্রিগো। বলটি পেয়ে এলচের গোলরক্ষকের মাথার উপরদিয়ে জাল খুজে নেয় আসেনসিওর শট।