বিদ্যুতের জাতীয় গ্রিড বিপর্যয়ের জন্য সরকারের সমন্বয়হীনতা ও দুর্নীতি দায়ী বলে দাবি করেছে বিএনপি। দলটির দাবি, গত ৪ অক্টোবর জাতীয় গ্রিডে বিপর্যয়ের কারণ বিশ্লেষণ করতে গিয়ে তারা সরকারের এমন দায় পেয়েছে।
গতকাল শুক্রবার দুপুরে গুলশানে দলের চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে বিএনপি সরকারের বিরুদ্ধে অভিযোগ করার পাশাপাশি বিদ্যুৎ খাত নিয়ে নিজেদের পরামর্শ উপস্থাপন করে।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সাবেক বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু।
গ্রিড বিপর্যয়ের কারণ সম্পর্কে বিএনপি বলেছে, বিদ্যুতের মহাপরিকল্পনা প্রণয়নের সময় উৎপাদন, সঞ্চালন, বিতরণ নেটওয়ার্ক ও গ্রাহক সংযোগÑএই চারটি মৌলিক স্তরের সুসমন্বয় জরুরি। দলটির দাবি, এটি না করায় ২০১৪, ২০১৭ ও ২০২২ সালে একের পর এক জাতীয় গ্রিডে বিপর্যয় ঘটেছে। ঘটনার পর দায়সারা তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। গ্রিড বিপর্যয়ের কারণ দূর না করে বিদ্যুৎ খাতকে সরকার ‘বিলিয়নিয়ার’ তৈরির কারখানায় পরিণত করেছে। এভাবে দেশের অর্থনীতি ও জনজীবন সংকটাপন্ন করে তুলেছে।
সংবাদ সম্মেলনে বিএনপি নেতারা দাবি করেন, আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর থেকে সরকার বিদ্যুৎ খাতে দায়মুক্তি আইন করে। অর্থাৎ রাষ্ট্রীয় আনুকূল্যে সবাই মিলে দুর্নীতি করছে এরা, আর তার দায়ভার বহন করতে হচ্ছে এবং হবে দেশের সাধারণ জনগণকে। অথচ চুক্তি করার সময় প্রতি ইউনিট বেশি দামে বিক্রি, ক্যাপাসিটি চার্জ, আমদানিতে শুল্ক ছাড়, সহজ সুদে ব্যাংকঋণ পাইয়ে দেওয়া, জমি ক্রয়ে সুবিধা এমন অসংখ্য অনৈতিক ও অবৈধ সুবিধা দেওয়া হয়েছে কো¤পানিগুলোকে। আদতে আওয়ামী লীগের লোকেরাই কৌশলে এ টাকা বাগিয়ে নিয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, ২০০৯ থেকে ২০২২ সালের মধ্যে সঞ্চালন লাইন যেখানে মাত্র ৬৯ শতাংশ ও ১৪০ শতাংশ বেড়েছে, সেখানে উৎপাদন ক্ষমতা বাড়ানো হয়েছে ৪১৭ শতাংশ। উৎপাদন পরিকল্পনায় পরিণামদর্শিতার অভাবে সরকারের মহাপরিকল্পনা এখন গলার কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, পায়রা বিদ্যুৎকেন্দ্র-২০২০ সালের ডিসেম্বরে উৎপাদনে গেলেও সঞ্চালন লাইন নির্মাণ শেষ না হওয়ায় কেন্দ্রটি সক্ষমতার অর্ধেক উৎপাদন করছে। এটা দুর্ভাগ্য যে, সরকার বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনে যতটা আগ্রহী, সঞ্চালন লাইন সংস্কার ও আধুনিকায়নে ততটাই নিষ্ক্রিয়। সঞ্চালন লাইন দুর্বল, লোড ব্যবস্থাপনাও আধুনিকায়ন করা হয়নি। এনালগ পদ্ধতির লোড ব্যবস্থাপনা ঝুঁকিপূর্ণ করছে জাতীয় গ্রিডকে।