কক্সবাজারের প্রকৃত পাঁচ তারকা হোটেল সি পার্ল বিচ রিসোর্টস অ্যান্ড স্পা লিমিটেড। করোনার প্রভাব কাটিয়ে ভালো মুনাফায় ফিরেছে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত এই কোম্পানিটি। চলতি ২০২২-২৩ হিসাব বছরের প্রথম প্রান্তিকে (জুলাই-সেপ্টেম্বর) পাঁচ তারকা এই হোটেলটির আয় ১৭৫ শতাংশ বেড়েছে। আর এই আয় বৃদ্ধিতে অন্যতম প্রধান ভূমিকা রেখেছে হোটেলটির ওয়াটার পার্ক সেবা। চলতি প্রথম প্রান্তিকে কোম্পানিটির মোট আয়ের ৫১ শতাংশের বেশি এসেছে ওয়াটার পার্ক ও তৎসংলগ্ন রেস্টুরেন্ট থেকে। আয় বাড়ায় কোম্পানিটির নিট মুনাফা বেড়েছে বহুগুণ। কোম্পানির প্রথম প্রান্তিকে অনিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে এ তথ্য পাওয়া গেছে।
পর্যাপ্ত আয় না থাকায় ২০২১-২২ হিসাব বছরের প্রথম প্রান্তিকে সি পার্ল বিচ রিসোর্টস লোকসানে পড়ে যায়। তবে ব্যাপক প্রচারণা ও ওয়াটার পার্কে ওয়েব পুল যুক্ত করার পাশাপাশি নতুন নতুন সেবা চালু করায় এ বিভাগ থেকে কোম্পানির রেভিনিউ আকর্ষণীয় হারে বেড়েছে। একই সঙ্গে ওয়াটার পার্ক এলাকায় ফুড অ্যান্ড বেভারেজ সেকশন চালু করায় সেখান থেকেও রেভিনিউর একটি উল্লেখযোগ্য অংশ এসেছে। পাশাপাশি সুন্দরবন ভ্রমণের জন্য চালু করা হয় ক্রুজ শিপ। নতুন এসব সেবা যুক্ত হওয়ায় চলতি প্রথম প্রান্তিকে হোটেলটির আয় প্রায় তিনগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে।
চলতি প্রথম প্রান্তিকের আর্থিক প্রতিবেদন পর্যালোচনায় দেখা যায়, এ সময় হোটেলটির মোট রেভিনিউ হয়েছে ৪২ কোটি ৯৮ লাখ টাকা, যা আগের বছরের একই সময়ে ছিল ১৬ কোটি ৩২ লাখ টাকা। চলতি প্রথম প্রান্তিকে মোট রেভিনিউর মধ্যে ওয়াটার পার্ক থেকে এসেছে ১৩ কোটি ৩৯ লাখ টাকা, যা আগের বছরের একই সময়ে ছিল ৪ কোটি ৩১ লাখ টাকা। চলতি প্রথম প্রান্তিকে ওয়াটার পার্ক সংলগ্ন ফুড অ্যান্ড বেভারেজ সেকশন থেকে আয় হয়েছে ৮ কোটি ৭৫ লাখ টাকা। সবমিলিয়ে ওয়াটার পার্ক থেকে কোম্পানির আয় দাঁড়িয়েছে ২২ কোটি ১৪ লাখ টাকা, যা আগের বছরের একই সময়ে ছিল ৪ কোটি ৩১ লাখ টাকা।
গত বছরের ২৩ অক্টোবর সি পার্ল বিচ রিসোর্টস এক ঘোষণায় খুলনা-সুন্দরবন রুটে ক্রুজ শিপ চালুর ঘোষণা দেয়। এজন্য সাড়ে ৮ কোটি টাকায় দুটি ক্রুজ শিপ কেনার কথা জানায় কোম্পানিটি। চলতি প্রথম প্রান্তিকে এই ক্রুজ শিপ ব্যবসা থেকে কোম্পানির আয় এসেছে ৭ কোটি ৩৭ লাখ টাকা। কোম্পানির রেভিনিউ ও মুনাফা বাড়াতে এটিও উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রেখেছে। এর বাইরে হোটেলটির প্রকৃত আয়ের খাত বিভিন্ন ধরনের রুম ভাড়া থেকে এসেছে ৬ কোটি ৬৯ লাখ টাকা, যা আগের বছরের একই সময়ে ছিল ৬ কোটি ৩৩ লাখ টাকা। এছাড়া হোটেলটির অভ্যন্তরীণ রেস্টুরেন্ট থেকে আয় হয়েছে ৫ কোটি ৩৯ লাখ টাকা, যা আগের বছরের একই সময়ে ছিল ৪ কোটি ৬১ লাখ টাকা।
এ প্রসঙ্গে সি পার্ল বিচ রিসোর্টস অ্যান্ড স্পা লিমিটেডের কোম্পানি সচিব মো. আজাহারুল মামুন দেশ রূপান্তরকে বলেন, করোনাপরবর্তী এবং ডলার সংকটের কারণে দেশে সাধারণ মানুষের ভ্রমণ বেড়েছে। এ সময়টাতে আমরাও ব্যাপক প্রচারণা চালিয়েছি। ওয়াটার পার্কে ওয়েব পুলসহ বিভিন্ন সেবা বাড়ানো হয়েছে। এছাড়া সুন্দরবন ভ্রমণে ক্রুজ শিপ চালু করা হয়েছে। এসব খাত কোম্পানির রেভিনিউ বাড়াতে প্রধান ভূমিকা রেখেছে। সুন্দরবনের জন্য আমাদের আরও ক্রুজ শিপ চালুর পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানান তিনি।
চলতি প্রথম প্রান্তিকে আয়ের বিপরীতে কোম্পানির প্রাথমিক ব্যয় হয়েছে ৬ কোটি ৭৮ লাখ টাকা। এতে মোট আয় হয়েছে ৩৬ কোটি ১৯ লাখ টাকা, যা আগের বছরের একই সময়ের চেয়ে ১৭৫ শতাংশ বেশি। প্রশাসনিক, বিতরণ ও বিক্রয় ব্যয় শেষে চলতি প্রথম প্রান্তিকে পরিচালন মুনাফা হয় ৩০ কোটি ৪ লাখ টাকা। এ সময় ঋণের সুদ বাবদ ব্যয় হয় ৯ কোটি ৮৭ লাখ টাকা। মুনাফায় কর্মীর হিস্যা ও কর পরিশোধের পর প্রথম প্রান্তিকে নিট মুনাফা হয় ১৫ কোটি ৩৬ লাখ টাকা, যেখানে আগের বছরের একই সময়ে ১ কোটি ৫ লাখ টাকা লোকসানে পড়েছিল কোম্পানিটি।