শুরুর চাপটা ভালোই সামলে নিয়েছিলেন ইফতিখার আহমেদ। যোগ্য সঙ্গ দিচ্ছিলেন শান মাসুদ। তাতে ধুন্ধুমার ছক্কায় ইফতি পৌঁছে যান অর্ধশতকের ঘরে। কিন্তু ইনিংসটা আর লম্বা করতে পারেননি তিনি। তাতেই যেন ব্যাটিং লাইন-আপে এসে ভর করে কালো মেঘ। ধ্বস নামে রানের চাকার গতিতে। ইনিংসের শুরুতে যেমন চেপে ধরেছিলেন আর্শদীপ সিংরা। শেষটাও মোহাম্মদ শামিরা চাপে রেখেই থামালেন ১৫৯ রানে। তবুও সেই চাপ সামলে শেষ পাঁচ ওভারে ৫৩ রান শান মাসুদদের স্কোর বোর্ডে।
ভারতকে ১৬০ রানের লক্ষ্যের পথে পাকিস্তানের হয়ে সর্বোচ্চ ৫২ রান করেন শান মাসুদ। তার ইনিংসটি সাজানো ছিল পাঁচটি চারে। তবে তার ব্যাট থেকে আসেনি কোনো ছক্কার মার।
ইনিংসের শুরু থেকেই পাকিস্তানকে চাপে রাখেন ভারতীয় বোলাররা। তাতে পাওয়ার প্লেতে হাত খুলেই খেলতে পারেননি। কিন্তু এই দু দলের খেলা মানে লড়াই হবে সমানে সমান। সংস্করণটা টি-টোয়েন্টি হলে সেখানে থাকবে চার-ছক্কার ধুন্ধুমার ব্যাটিং। বাবর আজমদের সমর্থকদের প্রত্যাশা এমনই থাকে। কিন্তু তাদের হতাশ করেছেন আর্শদ্বীপ সিং। তার জোড়া উইকেট শিকারে পাওয়ার প্লেতে ৩২ রানের বেশি করতে পারেনি তারা।
টস জিতে আগে বোলিংয়ের সিদ্ধান্তের পরিকল্পনা শুরুতেই কাজে লাগাতে পেরেছেন রোহিত শর্মারা। ইনিংসের দ্বিতীয় ওভারের প্রথম বলে আর্শদ্বীপ শিকার পাক অধিনায়ক বাবর আজমের উইকেট। তার সুইং বুঝতে পারেননি বাবর। প্যাডে লাগলে এলবির আবেদন আসে। তাতে সাড়া দেন আম্পায়ার। রানের খাতা খোলার আগেই বিদায় নিতে হয় বাবর আজমকে। প্রথম বলেই বিলিয়ে দিয়ে আসেন উইকেট।
নিজের দ্বিতীয় ওভারের শেষ বলে আর্শদ্বীপ শিকার করেন রিজওয়ানের উইকেট। তার বাউন্সটি টপ এডজ হয়ে ধরা দেয় ভুবনেশ্বর কুমারের হাতে। ১২ বল খেলেও মাত্র ৪ রানের বেশি করতে পারেননি এই উইকেট রক্ষক ব্যাটার।
তারপর দেখেশুনে খেলতে নামেন দুই পাক ব্যাটার ইফতিখার আহমেদ ও শান মাসুদ। দুজন মিলে ৫০ বল খেলে গড়েন ৭৬ রানের জুটি। তবে সেই জুটিতে ভাঙন ধরান মোহাম্মদ শামি। অনেকটা বাবর আজমের মতোই পরিণাম হলো ইফতির। এলবিডব্লিউ হয়ে ফিরে যান তিনিও। ফেরার আগে তিনি ৩৪ বলে ৫১ রান করেন। তার ইনিংসটি সাজানো ছিল ২ চার ও ৪ ছক্কায়।
শামির পর জোড়া আঘাত হানেন হার্দিক পান্ডিয়া। একই ওভারে তুলে নেন শাদাব খান ও হায়দার আলির উইকেট। তারপর মোহাম্মদ নওয়াজকেও ফেরান ভারতীয় এ অলরাউন্ডার। নিজের দ্বিতীয় স্পেলে ফিরেই বিধ্বংসী ব্যাটার আসিফ আলিকে ফিরিয়ে নিজের তৃতীয় উইকেট তুলে নেন আর্শদীপ।
পলকের মধ্যেই এতগুলো উইকেট হারিয়ে পাকিস্তান দিশেহারা হয়ে যায়। তাদের দুই উদ্বোধনী ব্যাটার যেমন ফিরেছেন দুই অংকের রানের ঘরে পৌঁছার আগেই, তেমনি মিডল অর্ডারের চার ব্যাটারও ফিরেছেন এক সংখ্যার রানের ঘরে থাকতেই। তবে মাসুদ-ইফতির মতো শেষ বেলায় দুই অংকের রান করতে পেরেছেন কেবল চোট সেরে দলে ফেরা শাহিন শাহ আফ্রিদি। তিনি আউট হয়ে যান ৮ বলে ১৬ রান করে।
পাকিস্তানের দেওয়া ... রানের লক্ষ্য তাড়ায় একটু পর ব্যাট করতে নামবে ভারত।