প্লাস্টিক বর্জ্য তুলছে সৌরচালিত জলযান

বিশ্বের সমুদ্র উপকূলে এবং সৈকতগুলোতে প্রায়ই চোখে পড়ে ফেলে দেওয়া প্লাস্টিকের বোতলসহ অন্যান্য প্লাস্টিকের আবর্জনা। বিভিন্ন খাল আর নদী দিয়ে এসবের বেশিরভাগই গিয়ে পড়ে সমুদ্রে। এর ব্যতিক্রম নয় যুক্তরাষ্ট্রের লস অ্যাঞ্জেলেসের সমুদ্র উপকূলও। এখানকার জনপ্রিয় মেরিনা ডেল রে ও প্লায়া ডেল রে সমুদ্রসৈকতের মাঝখান দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে বেলুনা খাল। একসময় সারা বছর খালটি দিয়ে পরিষ্কার পানি প্রবাহিত হলেও বর্তমানে এটি পরিণত হয়েছে পরিত্যক্ত প্লাস্টিক বর্জ্যরে ভাগাড়ে।  

তবে বেলুনা খাল দিয়ে যেন নিকটবর্তী সমুদ্রে প্লাস্টিক বর্জ্য পৌঁছাতে না পারে সেজন্য উদ্যোগ নিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের যুবক বোয়ান সøাট। ওশান ক্লিনআপ নামের একটি এনজিও চালান তিনি। তার উদ্যোগে তৈরি হয়েছে বিশেষ ধরনের জলযান, যা নদী কিংবা খালের পানিতে ভাসমান প্লাস্টিক আবর্জনা সংগ্রহ করে।

৭৩ ফুট দৈর্ঘ্যরে ট্রাশ ইন্টারসেপ্টর জিরো জিরো সেভেন নামের জলযানটি সৌরবিদ্যুৎচালিত। এতে রয়েছে প্লাস্টিক ও অন্যান্য আবর্জনা সংগ্রহের জন্য ছয়টি বিন। যেখানে ১০ হাজার কেজি পর্যন্ত প্লাস্টিক আবর্জনা রাখা যায়। প্রথমে একটি ভাসমান জালের মাধ্যমে প্লাস্টিক আবর্জনাগুলোকে টেনে আনা হয় জলযানটির কনভেয়ার বেল্টের সামনে। এই বেল্টগুলো পানি থেকে আবর্জনাকে টেনে তুলে রাখে বিনগুলোতে। বোয়ানের বয়স যখন ষোলো, তখন গ্রিসে স্কুবা ডাইভিংয়ে গিয়ে দেখতে পান তার চারপাশে মাছের থেকে  প্লাস্টিকের আবর্জনা বেশি। তখন থেকেই তিনি ভাবছিলেন কিছু একটা করবেন।

বোয়ান বলেন, ‘সারা বিশ্বের সমুদ্রগুলোতে ভাসমান প্লাস্টিক আবর্জনার ৮০ ভাগই সমুদ্রে আসে নদীর মাধ্যমে। তাই সমুদ্রে পড়ার আগেই যদি এসব প্লাস্টিক সংগ্রহ করা যায়, তাহলে বিশ্বের সমুদ্রগুলোকে প্লাস্টিকের দূষণ থেকে বাঁচাতে পারব আমরা।’

২০৪০ সালের মধ্যে বিশ্বের সমুদ্রগুলোকে ভাসমান প্লাস্টিক আবর্জনা থেকে মুক্ত করার লক্ষ্যে ২০১৩ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় ওশান ক্লিনআপের। আপাতত লস অ্যাঞ্জেলেসে পাইলট প্রকল্প হিসেবে কাজ শুরু করেছে তাদের ট্রাশ ইন্টারসেপ্টর।