সিত্রাং তাণ্ডবে কুমিল্লায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি

ঘূর্ণিঝড় সিত্রাং তাণ্ডবে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে কুমিল্লায়। কুমিল্লার প্রায় প্রতিটি উপজেলায় ঝড়ে গাছপালা উপড়ে গেছে। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বাড়িঘর ও ফসলি জমি।

সোমবার সন্ধ্যা ৭টা থেকে বাতাসের গতিবেগ বাড়তে থাকে।

আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, সর্বোচ্চ ৬০ কিলোমিটার বেগে ঝড় বয়ে যায় কুমিল্লার উপর দিয়ে। এতে বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে পুরো কুমিল্লায়। বিদ্যুৎবিহীন ছিল প্রায় ১০ ঘণ্টা, গাছ পড়ে মহাসড়কে যান চলাচল ব্যাহত হয়।

কুমিল্লায় গত ২৪ ঘণ্টায় ৮৩.২ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। ঝড়ে কুমিল্লার নাঙ্গলকোট উপজেলায় শিশু সন্তানসহ একই পরিবারের ৩ জন নিহত হয়েছে। আহত হয়েছে কমপক্ষে ৩০ জনের মতো। ক্ষতিগ্রস্ত হয় বাড়িঘর।

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লার অংশে ৩ ঘণ্টার বেশি সময় যান চলাচল বন্ধ থাকে এ সময় মহাসড়কে দীর্ঘ যানজট সৃষ্টি হয়।

চান্দিনা, মাধাইয়া, দাউদকান্দিসহ বেশ কয়েকটি স্থানে গাছ উপড়ে মহাসড়কের উপর পরে এ যান জটের সৃষ্টি হয়।

ঘূর্ণিঝড় সিত্রাংয়ের প্রভাবে রাত ১১টার দিকে প্রচণ্ড বেগে ঝড়ো বাতাসে কুমিল্লার বিভিন্ন স্থানে গাছ পড়ে রেললাইন, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কসহ বিভিন্ন স্থানে যান চলাচল ব্যাহত হয়েছে।

রাত ১১টার দিকে মহাসড়ক থেকে গাছ সরানো হলে চলাচল স্বাভাবিক হয়। কুমিল্লার আঞ্চলিক সড়কগুলোতেও গাছ পড়ে যানচলাচল ব্যাহত হয়।

এদিকে প্রচণ্ড ঝড়ো হাওয়ায় সন্ধ্যার দিকে কুমিল্লার এক-তৃতীয়াংশ এলাকায় বিদ্যুৎ সংযোগ বন্ধ হয়ে যায়। ঝড়ো হাওয়া ও প্রচণ্ড বাতাসের বেগে লন্ডভন্ড হয়ে যায় কুমিল্লার বিদ্যুৎ সংযোগ।

সোমবার রাত ৮টার পর নগরীসহ জেলার ১৭টি উপজেলার প্রায় সব স্থানেই বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়। ভোর পর্যন্ত বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক হয়নি। এ ছাড়া বিভিন্ন সড়কে বৈদ্যুতিক খুঁটি ও সঞ্চালন লাইন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সোমবার রাত সাড়ে ১০টায় জেলার দাউদকান্দিতে গাছ ভেঙে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। মহাসড়কের গৌরীপুর, ধীতপুর, হাসানপুর ও ইলিয়টগঞ্জ এলাকায় বেশ কয়েকটি গাছ ভেঙে পড়ে। এতে বন্ধ হয়ে যায় যান চলাচল। পরে ফায়ার সার্ভিসের কর্মী ও পুলিশ সদস্যরা গাছ সরানোর কাজ শুরু করেন।

কুমিল্লা-চাঁদপুর, আঞ্চলিক সড়কের মুদাফফরগঞ্জ পর্যন্ত এবং কুমিল্লা-ব্রাহ্মনবাড়িয়া দেবপুর সড়কের বিভিন্ন স্থানে গাছ ভেঙে পড়ে যান চলাচল ব্যাহত হয়। কুমিল্লার বরুড়ার আমড়াতলীতে গাছ পড়ে সড়ক যোগাযোগ বন্ধ থাকে ৪ ঘণ্টার বেশি। লাকসাম রেলওয়ে জংশন প্ল্যাটফর্মের একটি আম গাছ উপড়ে রেললাইনের ওপর পড়েছে।

হাইওয়ে পুলিশের কুমিল্লা অঞ্চলের পুলিশ সুপার মুহাম্মদ রহমত উল্লাহ বলেন, সন্ধ্যার পর থেকে রাত ৯টায় পর্যন্ত মহাসড়কের ১০ থেকে ১২টি স্থানে গাছ ভেঙে পড়ে। এর মধ্যে দাউদকান্দির ছয়টি স্থানে গাছ ভেঙে পড়ে।

‘খবর পেয়ে হাইওয়ে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস কর্মীদের সঙ্গে নিয়ে গাছে সরিয়েছি। রাত ১১টার দিকে যানবাহন চলাচল শুরু হয়।’

কুমিল্লার জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ কামরুল হাসান জানান, ঘূর্ণিঝড় সিত্রাংয়ের প্রভাব মোকাবিলায় জেলা প্রশাসনের নিয়ন্ত্রণ কক্ষ খোলা হয়েছে। খবর পাওয়া মাত্রই সড়কে পড়ে থাকা গাছ সরানোর হচ্ছে। পর্যাপ্ত শুকনো খাবার বরাদ্দ রাখা হয়েছে। ১০ টন করে চাল পাঠানো হচ্ছে প্রতি উপজেলায়।