নগরীর জলাবদ্ধতা মেগা উন্নয়নের ফল : ফখরুল

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ‘সরকার জনগণকে শুধু উন্নয়নের গল্প শোনায়। আজ সামান্য বৃষ্টিপাত হলে রাজধানী ঢাকা অচল হয়ে যায়। শুধু তা-ই নয়, ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে সৃষ্টি হয়েছে জলাবদ্ধতা। এসব হচ্ছে সরকারের মেগা উন্নয়নের ফল।’ গতকাল মঙ্গলবার রাজধানীর মতিঝিলে দৈনিক নয়াদিগন্তের প্রতিষ্ঠবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘অনেক কষ্ট করে এখানে এসেছি। আপনারা জানেন, আজ উত্তরার রাস্তা বন্ধ হয়ে গেছে। ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার একটা সার্কুলার দিয়েছেন যে এই সড়কটা ব্যবহার না করার জন্য। কারণ গত সোমবার ঘূর্ণিঝড় সিত্রাংয়ের ফলে যে বৃষ্টিপাত হয়েছে তাতে এয়ারপোর্ট থেকে গাজীপুর পর্যন্ত রাস্তাটি আর চলাচলের উপযোগী নয়। এই যে  মেগা প্রজেক্ট, মেগা উন্নয়ন তার একটা ফল, সে জন্য আজকে এ অবস্থা। কথাটা এ জন্য বললাম যে আজকে এই (জলাবদ্ধতা) বর্তমান অবস্থা সৃষ্টি হয়েছে, এই তাদের মেগা উন্নয়নের কারণেই। অনেক কষ্ট করে এলেও উত্তরার বাসায় কীভাবে ফিরে যাব, তা নিয়ে চিন্তায় আছি।’

ঘূর্ণিঝড় ‘সূত্রাং’-এর প্রভাবে ঢাকা-গাজীপুর অংশে বিভিন্নস্থানে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হওয়ায় রাজধানীর খিলক্ষেত, উত্তরা-বিমানবন্দর এলাকায় দেখা দিয়েছে যানজট। ডিএমপি জরুরি প্রয়োজন ছাড়া উত্তরা যাওয়ার পথ ব্যবহার না করার অনুরোধ জানিয়েছে।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘আমরা একটা নষ্ট ও ভয়ংকর সময় অতিক্রম করছি। আমার কাছে আজকে বিস্ময় মনে হয়। ১৯৭১ সালে স্বাধীনতাযুদ্ধে আমরা সরাসরি জড়িত ছিলাম। তখন কী আমরা যুদ্ধ করেছিলাম মানুষের অধিকারগুলোকে কেড়ে নিতে, তার ভোটের অধিকার কেড়ে নেব, তার কথা বলার অধিকার কেড়ে নেব। এই যে সাংবাদিক ভাইয়েরা সবাই বসে আছেন, তাদের লেখার অধিকার কেড়ে নেব। ১৯৭৫ সালে একদলীয় শাসনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার মধ্য দিয়ে সরকার একাত্তরের চেতনাকে ভূলুণ্ঠিত করেছে। আজকে আবার একইভাবে তারা এই স্বাধীনতার কথা বলে, মুক্তিযুদ্ধের কথা বলে তারা মানুষের অধিকারগুলোকে পুরোপুরিভাবে কেড়ে নিচ্ছে। এই সময়টা আমাদের অত্যন্ত ধৈর্যের সঙ্গে, অত্যন্ত সাহসের সঙ্গে অতিক্রম করতে হবে এবং আমাদের জয়লাভ করতে হবে।’

তিনি বলেন, ‘১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ যে কারণে করেছিলাম, তা সরকার ধ্বংস করে দিয়েছে। বিএনপি ভবিষ্যতে ক্ষমতায় গেলে সাংবিধানিক কমিশন করবে। কারণ বর্তমান সরকার সংবিধান ধ্বংস করে আমাদের অধিকারগুলো হরণ করেছে। স্বাভাবিক শান্তিপূর্ণ ক্ষমতা হস্তান্তরের জন্য আমরা একটা তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচনের ব্যবস্থা করেছিলাম। সেটা সংবিধান থেকে তুলে দিয়েছে। ১৯৭২ সালে যেটা করা হয়েছিল তার আশপাশে নিয়ে সত্যিকার অর্থেই একটা যুগোপযোগী সংবিধান আমরা নিয়ে আসার চেষ্টা করব।’

এ সময় সাংবাদিক সমাজের প্রতি আহ্বান রেখে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘বাংলাদেশকে যেন আমরা সত্যিকার অর্থেই একটা অত্যন্ত প্রগতিশীল জনপদ হিসেবে তৈরি করতে পারি, আমরা যেন বাংলাদেশে মুক্তচিন্তার যে অবস্থা, সেই অবস্থা সৃষ্টি করতে পারি, আমরা যেন বাংলাদেশে সত্যিকার অর্থেই একটা সাম্য, ন্যায়বিচার এবং মানবিক মূল্যবোধের কল্যাণমূলক রাষ্ট্র হিসেবে পরিণত করতে পারি, সে জন্য আপনারা অতীতে যে ভূমিকা রেখেছেন তা অব্যাহত রাখবেন। আপনারা জনগণের পাশে দাঁড়াবেন এই বিশ্বাস আমার আছে।’

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন কল্যাণ পার্টির চেয়ারম্যান সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিম, অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি ইকতেদার আহমেদ, ব্যারিস্টার মইনুল ইসলাম, নয়াদিগন্তের ব্যারিস্টার শিব্বির মাহমুদ, আলমগীর মহিউদ্দিন, সালাউদ্দিন বাবর, মাসুম খলিলী, বিএনপি নেতা খায়রুল কবির খোকন, শামসুর রহমান শিমুল বিশ^াস, জহির উদ্দিন স্বপন, শহিদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি, আতিকুর রহমান রুমন, শায়রুল কবির খান, বিএফইউজের সাবেক সভাপতি রুহুল আমিন গাজী, বর্তমান সভাপতি এম আবদুল্লাহ, মহাসচিব নুরুল আমিন রোকন, ডিইউজের সভাপতি কাদের গনি চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক শহিদুল ইসলাম প্রমুখ।