এই ঘূর্ণিতেই ৩৬ প্রাণ

টানা ঝড়ো হাওয়া, অবিরাম ভারী বর্ষণ আর জলোচ্ছ্বাসে উপকূল ভাসিয়ে বাংলাদেশের স্থলভাগ অতিক্রম করেছে ঘূর্ণিঝড় সিত্রাং। গত সোমবার রাতে উপকূলে আঘাত হানার পর ক্রমেই শক্তি হারিয়ে গতকাল মঙ্গলবার সেটি প্রথমে নিম্নচাপ ও পরে লঘুচাপে পরিণত হয়েছে। কার্তিক মাসের এ ঘূর্ণিঝড়টি যতটা তাণ্ডব চালাবে বলে মনে করা হচ্ছিল শেষ পর্যন্ত ততটা হয়নি। তারপরও দেশের অন্তত ১৫ জেলায় সিত্রাংয়ের কারণে ৩৬ জনের প্রাণহানির খবর পাওয়া গেছে। অনেক জেলায় বেড়িবাঁধ ভেঙে বা উপচে লোকালয়ে ঢুকে পড়া জলোচ্ছ্বাসের পানি নামেনি গতকাল বিকেলেও। ক্ষতিগ্রস্ত বেড়িবাঁধ দিয়েও জোয়ারের সময় পানি ঢুকেছে অনেক এলাকায়। প্লাবনে ভেসে গেছে গবাদিপশু, মাছের ঘের, ধান আর সবজিক্ষেত। ঝড়ের বেগ কম হলেও টানা বর্ষণের কারণে উপড়ে গেছে হাজারো গাছপালা। বিচ্ছিন্ন হয়েছে লাখো গ্রাহকের বিদ্যুৎ সংযোগ। বিঘি্নত হচ্ছে মোবাইল-ইন্টারনেট সেবা। বিভিন্ন এলাকায় সড়কে গাছ পড়ে যোগাযোগব্যবস্থা ব্যাহত হয়েছে। অনেক এলাকায় দেখা গিয়েছে মানুষ ও গো-খাদ্যের সংকট। তবে সব এলাকায় আশ্রয়কেন্দ্র থেকে মানুষ ঘরবাড়িতে না ফেরায় ক্ষয়ক্ষতির সঠিক হিসাব এখনো মেলেনি।

দেশ রূপান্তরের নিজস্ব প্রতিবেদক, প্রতিনিধি ও সংবাদদাতাদের তথ্যমতে, সিত্রাংয়ের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি প্রাণহানি হয়েছে চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে। সেখানকার সন্দ্বীপ চ্যানেলে তীব্র বাতাস ও ঢেউয়ে বালু তোলার ড্রেজার ডুবে আট শ্রমিকের মৃত্যু হয়। ভোলায় গাছচাপা পড়ে ও পানিতে ডুবে পাঁচজনের প্রাণহানি হয়েছে। কুমিল্লায় গাছচাপা পড়ে বাবা, মা ও সন্তানের মৃত্যু হয়েছে। টাঙ্গাইলে ঝড়ের কবলে পড়ে মাইক্রোবাস দুর্ঘটনায় দুই পুলিশ সদস্য ও এক আসামির মৃত্যু হয়েছে। এ ছাড়া গোপালগঞ্জ, মুন্সীগঞ্জ, সিরাজগঞ্জ, পটুয়াখালী, ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও কক্সবাজারে সিত্রাংয়ের প্রভাবে গাছ ভেঙে পড়ে, দেয়াল ধসে এবং পানিতে ডুবে দুজন করে মারা গেছে। এসব কারণে শরীয়তপুর, গাজীপুর, নোয়াখালী, বরগুনা ও নড়াইল থেকেও একজন করে মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে।

এবার ঘূর্ণিঝড় সিত্রাং জন্ম নেওয়ার আগেই দেশি-বিদেশি নানা সূত্র থেকে বলা হচ্ছিল এটি সুপার সাইক্লোন, প্রবল ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নিতে পারে। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রীও বলেছিলেন, এটি হবে প্রবল ঘূর্ণিঝড়। তবে শেষ পর্যন্ত সিত্রাং বড় আকারের ঘূর্ণিঝড় হয়নি। এর সর্বোচ্চ গতিবেগও ছিল ৮০ কিলোমিটারের কম। বাংলাদেশের উপকূলে সিত্রাং আঘাত করার সময় নিয়ে আগের করা পূর্বাভাসগুলোও পুরোপুরি মেলেনি। সোমবার মাঝরাতেই শক্তি হারিয়ে স্থল নিম্নচাপে পরিণত হয় সেটি। আর গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে লঘুচাপে রূপ নিয়ে বাংলাদেশের সীমানা অতিক্রম সেটি। গতকাল রাতে আবহাওয়া অধিদপ্তর জানায়, লঘুচাপটি আরও দুর্বল হয়ে ভারতের আসাম রাজ্যে অবস্থা করছিল। আবহাওয়াবিদরা বলছেন, সিত্রাং সাগরে শক্তি সঞ্চয় করছিল, সেটি অতি শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড় হিসেবেই উপকূলে আঘাত হানতে যাচ্ছে বলে মনে করা হচ্ছিল। তবে অতিভারী বর্ষণের কারণে সেটি শক্তি হারাতে শুরু করে খুব অল্প সময়ের মধ্যে নিম্নচাপ ও পরে লঘুচাপে পরিণত হয়েছে। ফলে কার্তিক মাসের এ ঘূর্ণিঝড়টি যতটা তাণ্ডব চালাবে বলে মনে করা হচ্ছিল ততটা হয়নি। তার ওপর উপকূলসহ মধ্য ও দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের অনেক জেলায় সিত্রাং যে ক্ষত সৃষ্টি করে গেছে তা সারিয়ে তুলতে অর্থ, সময় দুটোই লাগবে।

চট্টগ্রাম : চট্টগ্রামের মিরসরাই উপকূলের সন্দ্বীপ চ্যানেলে বালু তোলার ড্রেজার ডুবে আট শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। ঘূর্ণিঝড় সিত্রাংয়ের প্রভাবে গত সোমবার রাতে উপজেলার সাহেরখালী ইউনিয়নের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব শিল্পনগরের ৩ নম্বর জেটি এলাকার পশ্চিমে এ ড্রেজারডুবির ঘটনা ঘটে। মারা যাওয়া শ্রমিকরা হলেন ইমাম মোল্লা, মাহমুদ মোল্লা, শাহীন মোল্লা, আল-আমিন, মো. তারেক ও বাশার। অন্য দুজনের নাম জানা যায়নি। ওই শ্রমিকদের সবার বাড়ি পটুয়াখালী সদর উপজেলার জৈনকাঠী এলাকায়। তবে ড্রেজারটি থেকে তীরে আসতে সক্ষম হয়েছেন মো. সালাম নামে এক শ্রমিক। মিরসরাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মিনহাজুর রহমান বলেন, দুর্ঘটনার পরপরই অন্য শ্রমিকরা নৌকা নিয়ে আটকে পড়া শ্রমিকদের উদ্ধারের চেষ্টা করেন। তখন তারা ভেতরে আটকা পড়া শ্রমিকদের মৃত অবস্থায় দেখেন। লাশ উদ্ধারে সাগরে ডুবুরি ও ফায়ার সার্ভিস দল কাজ শুরু করেছে।

জেলাটিতে সিত্রাংয়ের প্রভাবে জোয়ারের পানিতে তলিয়ে গেছে চট্টগ্রামে ভোগ্যপণ্যের বৃহৎ পাইকারি বাজার খাতুনগঞ্জ। পানি ঢুকে পড়েছে বিভিন্ন গুদাম ও আড়তে। এতে প্রায় এক হাজার কোটি টাকার পণ্য নষ্ট হয়েছে বলে জানিয়েছে স্থানীয় ব্যবসায়ীরা। তারা জানান, ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে সোমবার রাতে কর্ণফুলী থেকে আসা জোয়ারের পানিতে ডুবে যায় চাক্তাই-খাতুনগঞ্জ এলাকার বিভিন্ন সড়ক। এ সময় নিচতলার বিভিন্ন দোকান ও গুদামে পানি ঢুকে পড়ে। এতে সেখানে রাখা চাল, ডাল, চিনি, মশলা, পেঁয়াজ, আদাসহ বিপুল পরিমাণ বিভিন্ন ধরনের পণ্য ভিজে নষ্ট হয়ে যায়।

গতকাল সকালে খাতুনগঞ্জ এলাকা ঘুরে দেখা যায়, সেখানে বিভিন্ন গুদাম থেকে শ্রমিকরা ভিজে যাওয়া পণ্যের বস্তা বের করে আনছে। বস্তার ভেতরে থাকা পণ্যগুলো ভিজে চুপসে গেছে। এসব পণ্য শুকানোর চেষ্টা করা হবে বলে জানান সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা।

ঘূর্ণিঝড়ের সময় ঝড়ো হাওয়া ও সাগরের পানিতে বিধ্বস্ত হয়েছে নগরীর পতেঙ্গা জেলেপাড়ার প্রায় আড়াইশ কাঁচাঘর। এর ফলে মাথা গোঁজার ঠাঁই হারিয়েছে সেখানকার অন্তত দুই হাজার মানুষ। এ ছাড়া মাছ ধরার জালসহ বিভিন্ন সামগ্রী ভেসে গেছে জোয়ারের পানিতে।

এদিকে শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সোমবার বেলা ৩টা থেকে মঙ্গলবার দুপুর ১২টা পর্যন্ত বন্ধ থাকার পর আবারও ফ্লাইট ওঠানামা শুরু হয়েছে। দুপুর ১২টায় মাস্কাট থেকে আসা সালাম এয়ারের একটি ফ্লাইট প্রথম বিমানবন্দরে নামে। পরে শিডিউল অনুযায়ী অন্যসব ফ্লাইট সেখানে ওঠানামা করে। অপারেশনাল কার্যক্রম শুরু হয়েছে চট্টগ্রাম বন্দরেও।

ভোলা : সিত্রাংয়ের আঘাতে ভোলা সদর, দৌলতখান, লালমোহন ও চরফ্যাশনে উপজেলায় গাছচাপা পড়ে, পানিতে ডুবে ও বিদ্যুৎপৃষ্ট হয়ে পাঁচজন নিহত হয়েছেন। তারা হলেন ভোলা সদর উপজেলার মফিজুল হক ও মো. নাছির, চরফ্যাশন উপজেলার মনিরুল ইসলাম এবং দৌলতখান উপজেলার খাদিজা বেগম, লালমোহন উপজেলার রাবেয়া বেগম। এ ছাড়া ঝড়ের আঘাতে উপকূলীয় এলাকায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির সংবাদ পাওয়া গেছে।

জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা মো. দেলোয়ার হোসেন জানান, ভোলায় প্রায় পাঁচ হাজার বাড়িঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সোমবার সন্ধ্যা থেকে মঙ্গলবার ভোররাত পর্যন্ত ঝড়ে জেলার বিভিন্ন উপজেলায় প্রাথমিক হিসেবে প্রায় দুই লাখ মানুষ বিভিন্নভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। প্রায় ৩ হাজার ৮৯০টি বাড়ি আংশিক ও ১ হাজার ৪৩৩টি ঘর বিধ্বস্ত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। বিভিন্ন স্থানে গাছপালা ভেঙে পড়েছে। জোয়ারের পানিতে নিম্নাঞ্চল ৩-৫ ফুট প্লাবিত হয়েছে। তবে অধিকাংশ এলাকা থেকে পানি নেমে গেছে। বেড়িবাঁধ না থাকায় বিচ্ছিন্ন চরাঞ্চলের কিছু এলাকায় এখনো জলাবদ্ধতা আছে।

জেলাব্যাপী মোবাইল নেটওয়ার্ক বিপর্যয় সৃষ্টি হয়েছে। বৈদ্যতিক খুঁটি উপড়ে পড়ায় অনেক এলাকায় বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে। তবে জেলার সব রুটে নৌযান চলাচল স্বাভাবিক হয়েছে।

টাঙ্গাইল : টাঙ্গাইলের মধুপুর উপজেলায় সড়ক দুর্ঘটনায় পুলিশের দুই কনস্টেবল ও এক আসামি নিহত হয়েছেন। মধুপুর থানার ওসি মাজহারুল আমীন বলেন, জামালপুর সদর উপজেলার নারায়ণপুর তদন্ত কেন্দ্রের পুলিশ সদস্যরা দুই আসামির ডিএনএ পরীক্ষার জন্য একটি মাইক্রোবাসে করে ঢাকায় যাচ্ছিলেন। পথে প্রচণ্ড ঝড়বৃষ্টির মধ্যে মাইক্রোবাসটি রাত সাড়ে ৮টার দিকে গোলাবাড়ী বাসস্ট্যান্ডে দাঁড়িয়ে থাকা একটি ট্রাককে ধাক্কা দেয়। এতে দুই পুলিশ সদস্য কনস্টেবল নুরুল ইসলাম ও মো. সোহেল এবং আসামি লালন নিহত হন। জেলাটিতে কলা-পেঁপেসহ কয়েক হাজার হেক্টর জমির ফসল নষ্ট হয়েছে, ক্ষতি হয়েছে শতাধিক কোটি টাকার।

কুমিল্লা : ঘূর্ণিঝড় সিত্রাং তা-বে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে কুমিল্লায়। জেলার নাঙ্গলকোট উপজেলা হেসাখাল গ্রামের পশ্চিমপাড়ায় গত সোমবার রাতে ঘরের ওপর গাছ পড়লে এক পরিবারের তিনজন নিহত হয়েছে। নাঙ্গলকোট থানার ওসি ফারুক হোসেন জানান, নিহত তিনজন হলেন নিজাম উদ্দিন, তার স্ত্রী শারমিন আক্তার ও তাদের চার বছরের মেয়ে নুসরাত আক্তার। জেলার প্রায় প্রতিটি উপজেলায় ঝড়ে গাছপালা উপড়ে গেছে। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বাড়িঘর ও ফসলি জমি। আহত হয়েছে কমপক্ষে ৩০ জনের মতো। ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লার অংশে তিন ঘণ্টার বেশি সময় যান চলাচল বন্ধ থাকে। এ সময় মহাসড়কে দীর্ঘ যানজট সৃষ্টি হয়। চান্দিনা, মাধাইয়া, দাউদকান্দিসহ বেশ কয়েকটি স্থানে গাছ উপড়ে মহাসড়কের ওপর পড়ে এ যানজটের সৃষ্টি হয়।

মুন্সীগঞ্জ : মুন্সীগঞ্জের লৌহজং উপজেলার কনকসার গ্রামে গাছ ভেঙে পড়লে ঘরের নিচে চাপা পড়ে মা ও মেয়ের মৃত্যু হয়েছে। এ ছাড়া বাবা ও ছেলে গুরুতর আহত হয়েছেন। সোমবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। নিহত মা আসমা বেগম আশু (২৮) ও মেয়ে সুরাইয়ার (৩) লাশ গতকাল ভোরে স্থানীয়রা উদ্ধার করে। আহত অবস্থায় বাবা আব্দুর রাজ্জাককে (৩৫) ঢাকার পঙ্গু হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। লৌহজং থানার ওসি আব্দুল্লাহ আল তায়েবীর ঝড়ের কবলে গাছ ভেঙে পড়ে বসতঘরের নিচে চাপা পড়ে মা ও মেয়ের মৃত্যুর সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, সোমবার রাতে বসতঘরের ওপর গাছ ভেঙে পড়ে। এতে ঘর বিধ্বস্ত হয়ে নিচে চাপা পড়ে হতাহতের ঘটনা ঘটে। মুন্সীগঞ্জে শীতকালীন আগাম সবজিসহ ৪৫৩ হেক্টর জমির বিভিন্ন ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া : ঘূর্ণিঝড় সিত্রাংয়ের প্রভাবে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় গাছ পড়ে ও বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে দুজনের মৃত্যু হয়েছে। কসবা ও নবীনগর উপজেলায় এ ঘটনা ঘটে। স্থানীয়দের বরাত দিয়ে কসবা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মাসুদ উল আলম বলেন, কসবা উপজেলার গোপীনাথপুর ইউনিয়নের ধ্বজনগর গ্রামে গভীর রাতে ঝড়ের সময় ঘরের ওপর গাছ ভেঙে পড়লে জয়নাল আবেদীন ভূঁইয়া নামে এক ব্যক্তি মারা যান। এ ঘটনায় তার স্ত্রী আহত হন। সে সময় তারা ঘুমন্ত অবস্থায় ছিলেন। উপজেলায় ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণে তারা কাজ করছেন বলে জানিয়েছেন তিনি। অন্যদিকে নবীনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা একরামুল ছিদ্দিক বলেন, নবীনগর উপজেলার বিটঘর ইউনিয়নের টিয়ারা গ্রামে ঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত বিদ্যুতের সঞ্চালন লাইন মেরামতের সময় খুঁটিসহ পানিতে পড়ে পল্লীবিদ্যুৎ সমিতির লাইনম্যান রিপন মিয়া (২৮) মারা যান। গতকাল বেলা ১১টায় এ ঘটনা ঘটে।

কক্সবাজার : কক্সবাজারের টেকনাফে দুজনের মৃত্যু হয়েছে। মিয়ানমার থেকে টেকনাফ বন্দরে পণ্য নিয়ে আসা জাহাজ ঘূর্ণিঝড়ের কবলে পড়লে ডেক থেকে পড়ে শৌমিং (৭১) নামের একজনের মৃত্যু হয়। তিনি মিয়ানমারের নাগরিক। তিনি ওই জাহাজের বাবুর্চি ছিলেন। এ ছাড়া ঝড়ের সময় নিখোঁজ এক শিশুর লাশ পরে টেকনাফ পৌরসভার একটি পুকুর থেকে উদ্ধার করা হয়। সোহেনা (৯) নামের শিশুটি টেকনাফ পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের জালিয়াপাড়ার বাসিন্দা জাফর আলমের মেয়ে। টেকনাফ মডেল থানার ওসি মো. হাফিজুর রহমান দুজনের মৃত্যুর খবরের সত্যতা নিশ্চিত করেন। জেলাটিতে  ঘূর্ণিঝড় সিত্রাংয়ের প্রভাবে কুতুবদিয়া, মহেশখালীর ধলঘাটা, সেন্টমার্টিন দ্বীপ, সদর উপজেলার কুতুবদিয়া পাড়ায় জোয়ারের পানি ঢুকেছে। এসব এলাকায় দুই শতাধিক গ্রাম জোয়ারের পানিতে প্লাবিত হয়। এতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ৫ হাজার ঘরবাড়ির আংশিক এবং ১ হাজার ৪০০ ঘর সম্পূর্ণ বিধ্বস্ত হয়েছে। এতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে অন্তত ২ লাখ মানুষ। কক্সবাজার জেলা প্রশাসনের প্রাথমিক হিসাব মতে, কক্সবাজার জেলার ৪৭টি ইউনিয়নে ঘূর্ণিঝড় সিত্রাংয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এসব ইউনিয়নের ২০০ গ্রামেরও বেশি গ্রাম জোয়ারের পানিতে প্লাবিত হয়। দুর্গত এলাকার অনেকেই এখনো আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থান করছে।

সিরাজগঞ্জ : সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার সয়দাবাদ এলাকায় সিত্রাং ঝড়ে যমুনা নদীর ক্যানেলে সোমবার রাত ৯টার দিকে নৌকাডুবির ঘটনায় মা ও ছেলের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনার পর পুলিশ ও এলাকাবাসী চারজনকে জীবিত ও মা-শিশু ছেলের লাশ উদ্ধার করেছে। নিহতরা হলেন সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার সয়দাবাদ ইউনিয়নের পূর্ব মোহনপুর গ্রামের খোকন শেখের স্ত্রী আয়েশা খাতুন (২৮) ও শিশু ছেলে আরাফাত (২)। বঙ্গবন্ধু সেতু পশ্চিম থানার ওসি মোসাদ্দেক হোসেন বলেন, দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার মধ্যে রাত ৯টায় দিকে সয়দাবাদ শিল্পপার্ক এলাকা থেকে ছয় যাত্রী ডিঙি নৌকাযোগে পূর্ব মোহনপুর যাচ্ছিল। এ সময় সিত্রাংয়ের কবলে পড়ে যমুনা নদীর ওই ক্যানেলে নৌকাটি ডুবে গেলে মা ও তার ছেলে মারা যায়। বাকি চারজনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়। পরে উভয়ের লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

গোপালগঞ্জ : গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় ঘূর্ণিঝড় সিত্রাংয়ের প্রভাবে গাছচাপায় দুই নারীর মৃত্যু হয়েছে। টুঙ্গিপাড়া থানার ওসি মুহাম্মদ আবুল মনসুর বলেন, ওই দুই নারী হলেন উপজেলার পাঁচকাহনিয়া গ্রামের রেজাউল খাঁর স্ত্রী শারমিন বেগম (২৫) ও বাঁশবাড়ির চরপাড়া গ্রামের হান্নান তালুকদারের স্ত্রী রোমেছা বেগম (৫৮)। জেলায় ঝড়ে কয়েক হাজার গাছ উপড়ে পড়েছে, ভেঙে পড়েছে শতাধিক কাঁচা বাড়ি। ফসলের ক্ষতি নিরূপণ করতে আরও সময় লাগবে বলে জানিয়েছে জেলা প্রশাসন। 

নোয়াখালী : নোয়াখালীতে ঘূর্ণিঝড় সিত্রাংয়ের তা-বে সহস্রাধিক ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত হয়েছে। গাছের নিচে চাপা পড়ে এক শিশু নিহত হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ৯ হাজার ৭৫২ হেক্টর জমির রোপা আমন, শরৎ ও শীতকালীন ফসল। বিদ্যুৎ বিভাগের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। জেলার হাতিয়া, কোম্পানীগঞ্জ, কবিরহাট, সদর ও সুবর্ণচর উপজেলায় শত শত গাছ উপড়ে পড়েছে। ফলে বিভিন্ন এলাকায় ২৫টির বেশি বিদ্যুতের খুঁটি ভেঙে পড়েছে এবং বিদ্যুতের ট্রান্সফরমারও পড়ে গেছে। জেলার নি¤œাঞ্চলের বিভিন্ন গ্রামে জোয়ারের পানি থাকায় এখনো কিছু মানুষ আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থান করছে বলে জানান হাতিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. সেলিম হোসেন। মঙ্গলবার সকাল থেকে হাতিয়ার সঙ্গে সারা দেশের নৌ-যোগাযোগ শুরু হয়েছে বলেও জানান তিনি। জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. শহীদুল হক দেশ রূপান্তরকে বলেন, ৮ হাজার ৬৩৯ হেক্টর রোপা আমন, ৯৩৬ হেক্টর শীতকালীন ও ১৭৭ হেক্টর শরৎকালীন শাকসবজি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

শরীয়তপুর : ঘূর্ণিঝড় সিত্রাংয়ের প্রভাবে জাজিরার কু-েরচর ইউনিয়নের চিটারচর এলাকায় শাফিয়া বেগম ৬৫ নামের এক বৃদ্ধ ঘরের ওপর গাছচাপায় নিহত হয়েছেন। জেলার ৬ হাজার ৮৪৬ হেক্টর জমির ফসলের ক্ষতি হয়েছে। জেলা দুর্যোগ ও ত্রাণ শাখা থেকে সিত্রাংয়ে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর জন্য ৫ লাখ ২৫ হাজার টাকা, ২৪০ টন চাল, ১ হাজার প্যাকেট শুকনো খাবার, ৩০০ কার্টন ড্রাই কেক ও ৩০০ কার্টন বিস্কুট বিতরণের কার্যক্রম চলছে। এ ছাড়া ক্ষতিগ্রস্ত ঘরের মালিকদের জন্য নগদ অর্থ ও টিনের ব্যবস্থা করা হয়েছে।

পটুয়াখালী : ঘূর্ণিঝড় সিত্রাংয়ের কবলে পটুয়াখালীতে একজন নিহত হয়েছেন এবং দুই শতাধিক কাঁচা ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত ও শতাধিক ঘের-পুকুরের মাছ ভেসে গেছে। এ ছাড়া ১ হাজার ৫৫০ হেক্টর আমন এবং ৩০০ হেক্টর শাকসবজির ক্ষতি হয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা সুমন চন্দ্র দেবনাথ।  নিহত ব্যক্তি হলেন মো. নূরুল ইসলাম (৪০)। তিনি ট্রলারশ্রমিক ছিলেন। পটুয়াখালী সদর উপজেলার লোহালিয়া ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের নাজিরপুর গ্রামের রশিদ মোল্লার ছেলে।

বরগুনা : বরগুনা সদর উপজেলার বুড়িরচর ইউনিয়নের সোনাখালী গ্রামে সোমবার রাতে ঘূর্ণিঝড় সিত্রাংয়ের তাণ্ডবে গাছচাপা পড়ে আমেনা খাতুন নামের এক শতবর্ষী বৃদ্ধ নিহত হয়েছেন। সোমবার রাত সাড় ৮টার দিকে বরগুনা সদর উপজেলার ৬ নম্বর বুড়িরচর ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের সোনাখালী বাজার এলাকায় বসতঘরের সঙ্গে থাকা চাম্বলগাছ পড়ে আমেনা খাতুনের নিহত হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কাওসার হোসেন ও স্থানীয় ইউপি সদস্য মাইনউদ্দীন ময়না।

গাজীপুর : গাজীপুরের কাপাসিয়ার কড়িহাতা ইউনিয়নে ইকুরিয়া গ্রামে চাচার বসতঘরের দেয়াল ধসে আনিসুর রহমান (৯) নামে এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। সে ওই গ্রামের দিনমজুর মো. বেলায়েত হোসেনের দ্বিতীয় ছেলে। কাপাসিয়া থানার ওসি এ এফ এম নাসিম জানান, ঝড় বৃষ্টির কারণে প্রতিবেশীর ঘরের মাটির দেয়াল ধসে শিশু আনিসুর রহমানের মৃত্যু হয়েছে।

নড়াইল : সিত্রাংয়ের প্রভাবে ঝড়ো হাওয়ায় গাছের ডাল ভেঙে নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলায় এক নারীর মৃত্যু হয়েছে। সোমবার দুপুরে উপজেলা পরিষদ চত্বর দিয়ে যাওয়ার সময় পল্লী সঞ্চয় ব্যাংকের সামনে পৌঁছালে একটি মেহগনিগাছের ডাল ভেঙে তার মাথায় পড়ে। এদিকে ঝড়ো হাওয়ায় নড়াইলের নাকসী মাদ্রাসা এলাকায় বটগাছ পড়ে ঢাকা-মাওয়া-নড়াইল-বেনাপোল মহাসড়কে ১৮ ঘণ্টা যানবাহন চলাচল বন্ধ ছিল। জেলা প্রশাসনের চেষ্টায় গতকাল বেলা সাড়ে ১১টার দিকে যানবাহন চলাচল শুরু হয়। এ সময় সড়কের দুই পাশে শত শত যানবাহন আটকা পড়ে। ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে বৃষ্টিতে নড়াইল জেলায় ৪ হাজার ৭৮৯ হেক্টর জমির ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে কৃষি বিভাগ জানিয়েছে।

খুলনা : ঘূর্ণিঝড় সিত্রাংয়ের আঘাতে খুলনায় ১ হাজার ৬০০টি ঘর আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে জলোচ্ছ্বাস না হওয়ায় এ জেলার মৎস্য খাতে তেমন কোনো ক্ষতি হয়নি। ভারী বৃষ্টি ও দমকা হাওয়ার কারণে কিছু এলাকার আমন ধান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। খুলনা জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা রনজিৎ কুমার সরকার জানান, প্রাথমিকভাবে জেলার ক্ষয়ক্ষতি নির্ণয় করা হয়েছে। জেলায় মোট ১ হাজার ৬০০টি ঘর ভেঙেছে। এই ঘরগুলো আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হিসেবে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। জেলার মৎস্য ও কৃষিতেও ক্ষতি হয়েছে। তবে তার পরিমাণ খুবই কম। নিজ নিজ দপ্তর সেগুলো নির্ণয় করছে। পূর্ণাঙ্গ ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নির্ণয় করতে দুই থেকে তিন দিন সময় লেগে যাবে।

বাগেরহাট : উপকূলীয় জেলা বাগেরহাটে ঘূর্ণিঝড় সিত্রাংয়ের আঘাতে বেড়িবাঁধ ভেঙে জোয়ারের পানি ঢুকে পাঁচ শতাধিক পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। সোমবার রাতে জোয়ারের পানির চাপে বাগেরহাট সদর উপজেলার ভৈরব নদের বেড়িবাঁধ ভেঙে মাঝিডাঙ্গা, পোলঘাট ও রহিমাবাদ গ্রামে পানি ঢুকে তলিয়ে যায়। এতে ওই তিনটি গ্রামের পাঁচ শতাধিক পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়ে। এতে ওই এলাকার বাসিন্দারা দুর্ভোগে পড়েছে। গতকাল সকালে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করেছেন বাগেরহাট সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ মোছাব্বেরুল ইসলাম।

জেলাটিতে রোপা আমন, কলা ও সবজি নিয়ে মোট ১ হাজার ৩০০ হেক্টর জমির ফসল পানির নিচে নিমজ্জিত রয়েছে। জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আজিজুর রহমান বলেন, ঘূর্ণিঝড় সিত্রাং আঘাত হানার পূর্বাভাস পেয়ে জেলা প্রশাসনের ব্যাপক প্রস্তুতি ছিল। ঝড়ের সময় ৭৩ হাজার মানুষকে আশ্রয়কেন্দ্রে নিয়ে আসা হয়। তাদের শুকনা খাবার ও খিচুড়ি রান্না করে খাওয়ানো হয়।

বরিশাল : বরিশাল জেলায় দুর্যোগকবলিত ইউনিয়নের সংখ্যা ৮৭টি। দুর্গত মানুষের সংখ্যা আনুমানিক ৯ হাজার ৬২১, বিধস্ত ঘরবাড়ির মধ্যে আংশিক বিধ্বস্ত হয়েছে ২ হাজার ৫০৮টি ও পুরোপুরি বিধ্বস্ত হয়েছে ৬৩৩টি ঘর।  এদিকে ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে বরিশাল জেলার ৩টি উপজেলায় ৬টি বেড়িবাঁধ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। মঙ্গলবার বরিশালের জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।

বরিশাল পানি উন্নয়ন বোর্ডের হাইড্রোগ্রাফি বিভাগের উপসহকারী মো. মাসুম জানান, সিত্রাং কেটে গেলেও এর প্রভাবে নদীতে পানি বেড়েছে। এর সঙ্গে অমাবশ্যার জোর প্রভাব এবং ভারী বর্ষণের কারণে বিভিন্ন স্থানে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। পানির চাপে বরিশাল জেলার ৩টি উপজেলার ৬টি বেড়িবাঁধের ১ হাজার ৬০০ মিটার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানিয়েছেন পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. রাকিব হোসেন। তবে ঘূর্ণিঝড় সিত্রাংয়ের কারণে জানমালের উল্লেখযোগ্য তেমন কোনো ক্ষতি হয়নি বলে জানিয়েছেন বরিশালের জেলা প্রশাসক জসীম উদ্দিন হায়দার। 

ঝালকাঠি : সিত্রাংয়ের প্রভাবে দেশের অন্যান্য স্থানের মতো উপকূলীয় এলাকা ঝালকাঠিতেও ঝড়ো হওয়া ও ভারী বৃষ্টি হয়েছে। ফলে উপড়ে পড়েছে গাছ, ভেঙে গেছে অসংখ্য ঘরবাড়ি। সোমবার থেকে বন্ধ রয়েছে বিদ্যুৎ। ঝালকাঠি পল্লীবিদ্যুৎ জানিয়েছে, দুপুরের মধ্যে জেলা সদরসহ চার উপজেলার সদর এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ চালুর জন্য তারা কাজ করছেন। পুরো জেলায় বিদ্যুৎ সরবরাহ করতে তাদের অন্তত দুদিন সময় লাগবে। ঝড়ের প্রভাবে সুগন্ধা ও বিষখালী নদীতে অন্তত দুই থেকে তিন ফুট পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে জেলা সদরের দিয়াকুল কিস্তাকাঠি, কেফায়েতনগর লঞ্চঘাট এলাকার বুজবাগান, বারইকরণ, ভবানীপুর, রাজাপুর উপজেলার চল্লিশ কাহনিয়া, বড়ইয়ার পালট এলাকা, কাঁচারীবাড়ি, কাঁঠালিয়ার শৌলজালিয়া, কচুয়া, সদর এলাকা, আমুয়াসহ অন্তত ২৫টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে।

লক্ষ্মীপুর : লক্ষ্মীপুরে সিত্রাংয়ের প্রভাবে ঘরবাড়ি ও সড়কে গাছপালা ভেঙে পড়েছে। এতে সড়ক ও বিদ্যুৎ যোগাযোগ ছিল প্রায় বিচ্ছিন্ন। ফলে জনজীবনে নেমে আসে চরম দুর্ভোগ। লক্ষ্মীপুর-রামগতি সড়কে মঙ্গলবার সকাল থেকে গাড়ি চলাচল বন্ধ ছিল। পরে স্থানীয় ব্যক্তি উদ্যোগে গাছপালা কেটে সরিয়ে  নেওয়ার  ৪ ঘণ্টা পর চালু হয় গাড়ি চলাচল। ওই সময়ে দুর্ভোগে পড়ে চলাচলরত অসংখ্য মানুষ।

ঘূর্ণিঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে রামগতি-কমলনগর, রায়পুর ও সদরের মজুচৌধুরী হাট উপকূলীয় এলাকার অসংখ্য বাড়িঘর। উড়িয়ে নিয়ে গেছে বসতঘরে টিনের চালা। তবে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে কমলনগর-মেঘনা তীরবর্তী নাসিরগঞ্জ এলাকায়। জলোচ্ছ্বাসে পাঁচ থেকে ছয় ফুট পানি প্রবেশ করে প্রায় এক কিলোমিটার পাকা সড়ক বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। এ ছাড়া সড়কের পাশের গাছ পড়ে স্থানীয় জুমা মসজিদসহ বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠান বিধ্বস্ত হয়েছে।

ফেনী : ফেনীতে ঘূর্ণিঝড় সিত্রাংয়ের প্রভাবে অনেক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ফেনীতে পল্লীবিদ্যুতের ৩ লাখ ৮০ হাজার গ্রাহকের মধ্যে মঙ্গলবার বিকেল পর্যন্ত ৩ লাখ গ্রাহক বিদ্যুৎসংযোগ থেকে বিচ্ছিন্ন রয়েছে। পল্লীবিদ্যুৎ সমিতির জেনারেল ম্যানেজার হাওলাদার মো. ফজলুর রহমান জানান, ঘূর্ণিঝড় সিত্রাংয়ের কারণে পল্লীবিদ্যুতের ৩৭টি খাম্বা এবং ৪৫৫টি তার ছিঁড়ে গেছে। এ ছাড়া ৩৮৫ জন গ্রাহকের মিটার ভেঙেছে। ১১টি ট্রান্সফরমার নষ্ট হয়েছে। লাইন মেরামতে মাঠে ১১৫টি টিম কাজ করছে। সব মিলিয়ে আনুমানিক ২০ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। দ্রুত বিদ্যুৎ সরবরাহ করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে পল্লীবিদ্যুতের কর্মীরা বলে জানান তিনি।

এ ছাড়া ফরিদপুর, রাজবাড়ী,  মাগুরা, মৌলভীবাজার, কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা থেকেও প্রতিনিধিরা ফসল ও ঘরবাড়ি ক্ষতি হওয়ার তথ্য পাঠিয়েছেন।