১. দাঁতের চিকিৎসার জন্য কখন ডাক্তারের কাছে যাওয়া উচিত?
উত্তর : দাঁতের চিকিৎসা একটি নিয়মতান্ত্রিক প্রক্রিয়া। জন্মের পরপরই কিছু কিছু ক্ষেত্রে দেখা যায়, শিশুর মুখে দাঁত ওঠে। ওই দাঁত দেখা গেলে শিশুকে চিকিৎসকের কাছে নিয়ে গিয়ে ফেলে দিতে হবে, তা না হলে শিশু ও মায়ের ক্ষতি হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। আবার বয়স্কদেরও দাঁতের চিকিৎসা করাতে হয়। দাঁতের কোনো সমস্যা না হলেও বছরে দুইবার চিকিৎসককে দেখালে দাঁত ভালো রাখা সম্ভব হয়।
২. চিকিৎসার মাধ্যমে আঁকাবাঁকা দাঁত কি ঠিক করা সম্ভব?
উত্তর : অনেকের মুখে আঁকাবাঁকা দাঁত থাকে, যা মুখের সৌন্দর্য নষ্ট করে। আধুনিক পদ্ধতিতে এটি চিকিৎসার মাধ্যমেই সমাধান করা সম্ভব এবং এই আঁকাবাঁকা দাঁতের চিকিৎসা যেকোনো বয়সেই করা যায়। তবে এজন্য মাড়ির গঠন লক্ষ রাখতে হবে আর চিকিৎসা সময়সাপেক্ষ।
৩. দাঁতে কাঠি বা খিলাল ব্যবহার করা যাবে কি?
উত্তর : অনেক সময় দাঁতের মাঝে খাবার আটকে যায়। তা বের করতে অনেকেই কাঠি বা খিলাল ব্যবহার করেন, যা স্বাস্থ্যসম্মত নয়। এক্ষেত্রে সবাইকে ডেন্টাল ফ্লক্স ব্যবহার করতে পরামর্শ দিয়ে থাকেন চিকিৎসকরা।
৪. মাড়ির ক্যানসার রোধে করণীয় কী?
উত্তর : দাঁতে কখনো ক্যানসার হয় না। তবে মাড়ির নিচের পাটিতে ক্যানসার হয় এবং এর হার বর্তমানে অনেক বেশি। এক্ষেত্রে আক্কেল দাঁতের দিকে লক্ষ্য রাখতে হবে। যদি আক্কেল দাঁত ওঠার সময় ব্যথা হয় বা নিয়মিত ব্যথা থাকে, তাহলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে প্রয়োজনে তা ফেলে দিতে হবে। এ ছাড়া গুল বা তামাক (যা মাড়ির ক্যানসারের অন্যতম কারণ) গ্রহণ থেকেও বিরত থাকতে হবে।
৫. দন্তবিশেষজ্ঞ কীভাবে নিশ্চিত করবেন রোগীরা?
উত্তর : দাঁতের চিকিৎসা নিতে গিয়ে অনেকে প্রতারিত হনএমন ঘটনা অনেক আছে। সেক্ষেত্রে সেবাপ্রার্থীকে অবশ্যই খেয়াল রাখতে হবে, আপনি যে চিকিৎসকের কাছে গিয়েছেন তিনি বিডিএস ডিগ্রিধারী কি না। যদি বিডিএস ডিগ্রিধারী হন, তাহলে তিনি দাঁতের চিকিৎসক। এ ছাড়া সরকারি হাসপাতালেও রোগীরা দাঁতের চিকিৎসা নিতে পারেন।
৬. নিয়মিত দাঁতের যত্নি আপনার পরামর্শ কী?
উত্তর : দিনে দুই বেলা দাঁত ব্রাশ করতে হবে। সকালে খাবারের পর আর রাতে খাবার গ্রহণ শেষে। এটি যদি কেউ নিয়মিত করে থাকেন, তাহলে অনেক সমস্যা থেকে দাঁত সুরক্ষিত রাখা সম্ভব হবে। এ ছাড়া ব্রাশ করার সময় খেয়াল রাখতে হবে, দাঁতের ওপর ও ভেতরের সবখানেই যেন ব্রাশ ঠিকভাবে পৌঁছায়। আর অবশ্যই ভালো মানের ব্রাশ ব্যবহার করতে হবে। কোয়ালিটি ব্রাশ না হলে তা দাঁতের ক্ষতির কারণ হতে পারে। গুল, তামাকসহ যেসব খাবার দাঁতের ক্ষতি করতে পারে সেগুলো গ্রহণ থেকে বিরত থাকতে হবে।