জয়ের স্বস্তি নিয়েই মঙ্গলবার সিডনিতে পা রেখেছে বাংলাদেশ দল। বৃহস্পতিবার সিডনি ক্রিকেট গ্রাউন্ডে দক্ষিণ আফ্রিকার মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ। হোবার্টের মেঘলা আবহাওয়া থেকে সিডনির রৌদ্রোজ্জ্বল পরিবেশে এসে ফুরফুরে মেজাজে বাংলাদেশের ক্রিকেটাররা, ঘুরে বেড়িয়েছেন শহরের দর্শনীয় স্থাপনাগুলোতে। আজ স্থানীয় সময় সকাল ৯টা থেকে ১২টা পর্যন্ত তাদের অনুশীলন এসসিজিতে, ১১টায় সংবাদ সম্মেলন।
নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে ৯ রানের জয়ে ছুটেছে ১৫ বছর ধরে মূল পর্বে জয় না পাওয়ার গেরো। বাংলাদেশ দলের ভেতরকার গুমোট পরিবেশ তাতে কেটেছে অনেকটাই। হোবার্ট থেকে সিডনিতে পা রেখে ঘুরতে বেরিয়েছিলেন লিটন দাস, নাজমুল হোসেন শান্ত, ইয়াসির রাব্বি, মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত। সিডনির বিখ্যাত অপেরা হাউজের সামনে ছবি তুলেছেন ক্রিকেটাররা। টি-টোয়েন্টি দলে শান্তকে নেওয়ার পর থেকেই সমালোচনা চলছে দল নির্বাচন নিয়ে। হোবার্টে ২০ বলে ২৫ রান করা শান্ত সেসবকে পাত্তা দিচ্ছেন না বলেই জানিয়েছেন গণমাধ্যমে। টি-টোয়েন্টির মাপকাঠিতে ইনিংসটা খুব যুৎসই কিছু নয়, তবে আশাবাদী শান্ত মিক্সড জোনে সাংবাদিকদের বলেছেন, ‘ সামনের ম্যাচে হবে ইনশাল্লাহ। আমাকে নিয়ে সমালোচনা খুব গুরুত্বপূর্ণ নয়, আমরা ম্যাচ জিতেছি এটাই গুরুত্বপূর্ণ।’
ম্যাচ জিতলেও ব্যাটিংটা স্বস্তি দেয়নি। খেলা শেষে অধিনায়ক সাকিব আল হাসানও পুরস্কার বিতরণীতে এসে বলেছেন নিজের উদ্বেগের কথা, ‘আমরা ১০টা রান কম করেছি।’ তাসকিন আহমেদও ম্যাচপরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে বলেছেন ১০-১৫টা রান কম করার কথা। ১৪৪ থেকে আরেকটু বাড়িয়ে হয়তো ১৬০ রান করতে পারত বাংলাদেশ, তবে সিডনিতে এই রানটাও দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে করা যাবে কিনা তা নিয়ে দুশ্চিন্তা কম নয়। কারণ সিডনিতে তো আর বাস ডি লিডি, ফ্রেডেরিক ক্লাসেনরা বোলিং করবেন না! দক্ষিণ আফ্রিকার পেস আক্রমণ বিশ্বেরই অন্যতম সেরা। কাগিসো রাবাদা, লুঙ্গি এনগিদি, আইনরিখ নরকিয়াদের সামলেই রান করতে হবে সিডনিতে।
জিম্বাবুয়ের সঙ্গে ম্যাচটা বৃষ্টিতে শেষ না হওয়ায় পয়েন্ট ভাগাভাগি করতে হয়েছে প্রোটিয়াদের। সিডনিতে তাই পূর্ণ পয়েন্টের জন্যই ঝাঁপাবে দক্ষিণ আফ্রিকা। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে মাত্র ৩ ওভারেই ৫১ রান তুলে নিয়েছিল দক্ষিণ আফ্রিকা, বিধ্বংসী হয়ে উঠেছিলেন কুইন্টন ডি কক। দক্ষিণ আফ্রিকার ব্যাটিং লাইনআপটাও লম্বা। রাইলি রুশো, এইডেন মার্করাম, ডেভিড মিলার, ত্রিস্তান স্টাবসরা টি-টোয়েন্টির ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগে নিয়মিত মুখ। দেড়শোর ওপর স্ট্রাইক রেটে রান করেন নিয়মিত।
দক্ষিণ আফ্রিকায় গিয়ে ওয়ানডে সিরিজ জিতে আসার আত্মবিশ্বাসটা টোটকা হিসেবে হয়তো কাজে দেবে বাংলাদেশের জন্য। লুঙ্গি-রাবাদাদের বিপক্ষে খেলেই ম্যাচ জিতিয়েছিলেন সাকিব, ইয়াসিররা।
সিডনিতে ম্যাচটা শুরু স্থানীয় সময় দুপুর ২টায়। তাতে হয়তো উইকেটে আর্দ্রতা কমই থাকবে। এই মাঠে আগের ম্যাচেই ডেভন কনওয়ের দারুণ ব্যাটিংয়ে ২০০ রান করেছিল নিউজিল্যান্ড, এরপর অস্ট্রেলিয়া অলআউট হয় মাত্র ১১১ রানে। যদিও ম্যাচটা ছিল দিনরাতের, এই ম্যাচ থেকে অনুপ্রেরণা নিয়ে দলে বাড়তি একজন বামহাতি স্পিনার খেলাতে পারে বাংলাদেশ, কারণ মিচেল স্যান্টনারকে সেদিন ৩ উইকেট দিয়েছিল অস্ট্রেলিয়া।
সিডনি মাঠের স্কয়ারের দিকে বাউন্ডারি বেশ ছোট, মাত্র ৬৮ মিটার আর মিডউইকেটে ৭৪ মিটার। বোলারদের জন্য রান আটকানো বেশ কঠিন। বিশেষ করে প্রতিপক্ষে যদি মিলার, রুশোর মতো ব্যাটসম্যানরা থাকেন। তবে ছোট বাউন্ডারি সুবিধাজনক হতে পারে বাংলাদেশের জন্যও। পাওয়ার হিটিং নয়, স্বাভাবিক খেলাটা খেললেই তো এই দূরত্ব পার করতে পারার কথা আফিফ, লিটনদের।