বাংলাদেশ ও ভারতীয় উপমহাদেশের একটি জনপ্রিয় খাবার বিরিয়ানী। বিরিয়ানির চাহিদা যুগ যুগ ধরে। বছরের পর বছর একেক জায়গায় মানুষ ছুটে গিয়েছেন শুধুমাত্র বিরিয়ানি চেখে দেখার জন্যই। কিন্তু এবার সেই বিরিয়ানি নিয়েই অভিযোগ।আর অভিযোগ পেয়েই দোকান বন্ধ করালেন ভারতের পশ্চিমবঙ্গের কোচবিহারের তৃণমূল নেতা রবীন্দ্রনাথ ঘোষ।
বিরিয়ানি খেলে নষ্ট হতে পারে পুরুষত্ব, এই অভিযোগে কোচবিহারের তৃণমূলের এই চেয়ারম্যান বন্ধ করিয়েছেন কয়েকটি বিরিয়ানির দোকান। স্বাভাবিক ভাবেই ঘটনার কথা প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই শুরু হয়েছে আলোচনা, সমালোচনা।
ঘটনার সূত্রপাত, গত শনিবার রাতে। কোচবিহার শহরের শনিমন্দির এলাকার বিরিয়ানি দোকানে আচমকা হানা দেন রবীন্দ্রনাথ। ট্রেড লাইসেন্স ছাড়া, রাস্তার ওপরে চলছে দোকান। দোকানের কর্মচারী নিয়েও অভিযোগ, একগুচ্ছ অভিযোগ পেয়েই হানা দিয়েছিলেন পুরসভার কর্মীরা। তবে ট্রেড লাইসেন্স, রাস্তার ওপর দোকান, এসব অভিযোগের পাশাপশি রবীন্দ্রনাথ অভিযোগ করেন, এইসব বিরিয়ানির দোকানের নানাবিধ মশলা খেয়ে পুরুষত্ব হারাচ্ছেন পুরুষরা। সেই কারণেই বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে দুটি বিরিয়ানির দোকান। স্বাভাবিক ভাবেই তৃণমূল নেতার এই বক্তব্যে ইতিমধ্যে শুরু হয়েছে জোর আলোচনা।
কোচবিহার শহরের অলিগলিতে ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে বেশ কিছু বেআইনি বিরিয়ানির দোকান। অভিযোগ, পুজার আগে ভিন রাজ্য থেকে ব্যবসায়ীরা এসে ওইসব এলাকায় দোকানঘর ভাড়া নিয়ে ওই বিরিয়ানির দোকানগুলো খুলছেন। এই দোকানগুলোর অধিকাংশেরই কোনও ট্রেড লাইসেন্স নেই। ফুড লাইসেন্স নেই। খাবারের গুণগতমান কী তা নিয়েও বাসিন্দাদের মধ্যে নানা প্রশ্ন রয়েছে। সম্প্রতি স্থানীয় বাসিন্দাদের কাছ থেকে এইসব বিরিয়ানি দোকান নিয়ে অভিযোগ যায় পুরসভার কাছে। এরপরে পুরসভার কর্মকর্তারা নামেন অভিযানে। তাদের সঙ্গে ছিলেন চেয়ারম্যান রবীন্দ্রনাথ ঘোষও। শনিবার বিকেলে শহরের শনিমন্দির এলাকায় একটি বিরিয়ানির দোকানে যান তিনি।
কোচবিহার শহরের পাওয়ার হাউস মোড়ে ট্রেড লাইসেন্স ছাড়া অবৈধভাবে ওই বিরিয়ানির দোকান চলছিল বলে অভিযোগ। এমনকী দোকানের সামগ্রী দিয়ে রাস্তার ফুটপাত দখল করেছিল ওই ব্যবসায়ী। শনিবার রীতিমতো ধমকে এই বিরিয়ানির দোকান বন্ধ করে দেন পুরসভার পুরপ্রধান রবীন্দ্রনাথ ঘোষ। তিনি বলেন, ‘পুজার সময়ে বেশ কিছু বিরিয়ানি দোকান চালু হয়েছে। তাদের খাবারের মান কী রকম তা দেখতে পুরসভা শীঘ্রই অভিযানে নামবে। পুজোর ছুটির পরে পুরসভা খুললে শুরু হবে লাগাতার অভিযান।’
এই বিরিয়ানির দোকান বন্ধ করতে গিয়ে কোচবিহার পুরসভার চেয়ারম্যান রবীন্দ্রনাথ ঘোষ বলেন, ‘শহরজুড়ে বেআইনি বেশকিছু বিরিয়ানির দোকান ট্রেড লাইসেন্স ছাড়াই চলছে দীর্ঘদিন ধরে। এছাড়া অস্বাস্থ্যকর খাবার তৈরি হচ্ছিল। এনিয়ে আমার কাছে বেশ কিছুদিন ধরেই একাধিক অভিযোগ যাচ্ছিল। অভিযোগ করা হয়েছে যে এই বিরিয়ানিগুলোতে যে মশলা দেওয়া হয় তা খেলে পুরুষদের পুরুষত্ব নষ্ট হয়ে যেতে পারে। ক্লাবের ছেলে থেকে শুরু করে এলাকার মানুষ বহু দিন ধরেই অভিযোগ জানাচ্ছিল। বাইরে থেকে লোক আসছে। তারা কী উদ্দেশ্য নিয়ে আসছে জানি না। মাঝে মধ্যেই সেই লোক পরিবর্তন হয়ে যাচ্ছে। তাই এই সব দোকান আজ বন্ধ করে দিলাম।’ পুরসভা জানিয়েছে, বৈধ ফুড লাইসেন্স ও ট্রেড লাইসেন্স নিয়ে খাবারের গুনগত মান ঠিক রেখে ব্যবসা করলে কোনও সমস্যা নেই।