রংপুরে বিএনপির সমাবেশের সময় গণপরিবহন বন্ধের তীব্র নিন্দা ও ক্ষোভ জানিয়েছেন দিনাজপুরের নেতৃবৃন্দ। এ উপলক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তারা মওলানা ভাসানীকে উদ্ধৃত করে বলেছেন, ‘কৃষকের যে ফসল ঘরে ওঠে না, তা ক্ষেতেই জ্বালিয়ে দাও’।
দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার নিঃশর্ত মুক্তিসহ বিভিন্ন দাবিতে শনিবার (২৯ অক্টোবর) রংপুরে এই বিভাগীয় সমাবেশ করবে বিএনপি। সেই সমাবেশে দিনাজপুরের ৬০ হাজার নেতাকর্মী অংশ নেবে বলে দাবি বিএনপির। শ্রমিক ও মালিক সমিতি পরিবহন ধর্মঘট ডাকলেও বিকল্প উপায়ে দিনাজপুর থেকে নেতাকর্মীরা রংপুরে যাবেন বলে তারা জানান।
বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে ১১টায় দিনাজপুর শহরে জেলরোডের বিএনপির দলীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান জেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাড. মোফাজ্জল হোসেন দুলাল।
সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বিভাগীয় সমাবেশে যোগ দিতে জেলার ১৩ থানার ২২টি ইউনিটের প্রায় ৬০ হাজার নেতাকর্মী প্রস্তুত রয়েছে। বাস, ট্রাক, মোটরসাইকেল ও পরিস্থিতি অনুযায়ী দরকার হলে পায়ে হেঁটে তারা সমাবেশে যোগদান করবেন। সমাবেশকে সফল করতে দলীয় নেতাকর্মীরা প্রস্তুত রয়েছেন। অনেকে আগে থেকে সমাবেশে যোগ দিতে রংপুরে অবস্থান করতে রওনা হয়েছে। আগামী শনিবারের বিভাগীয় সমাবেশ আমরা যেকোনো মূল্যে সফল করব।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন দিনাজপুর জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক বখতিয়ার আহমেদ কচি।
লিখিত বক্তব্যে জানানো হয়, খুলনায় বিএনপির মহাসমাবেশ ঘিরে সরকার মূলত সান্ধ্য আইন জারি করেছিল। সমাবেশকে বাধাগ্রস্ত করতে সরকারের নির্দেশে আন্তজেলা রুটে গণপরিবহন বন্ধ করেছিল। সরকারের নির্দেশে এ ধর্মঘটে মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়ে। সমাবেশে যাতে লোকসমাগম না হয় তার সব চেষ্টা করে যাচ্ছে এই ফ্যাসিস্ট সরকার। জনগণ তাদের অধিকার আদায়ে যেতে পারল না ভেবে আজকে খুব অনুধাবন করছি মাওলানা ভাসানীর সেই বিখ্যাত উক্তি ‘কৃষকের যে ফসল ঘরে ওঠে না, তা ক্ষেতেই জ্বালিয়ে দাও’।
এ সময় জেলা বিএনপির সহসভাপতি মোকাররম হোসেন, সাংগঠনিক সম্পাদক আনিসুর রহমান বাদশা ও আমিরুল ইসলাম মুন্না, পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মহিউদ্দিন মন্ডল বকুল, সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুল কাইয়ুম উপস্থিত ছিলেন।