আজ অস্ট্রেলিয়া-ইংল্যান্ড ‘নকআউট’ ম্যাচ

দুটি করে ম্যাচ খেলে ফেলেছে দুই দলই। তাতে জয়-পরাজয় সমান, একটি করে। তবে উন্মুক্ত হয়ে যাওয়া গ্রুপ-১ থেকে সেমিফাইনালের সমীকরণে অস্ট্রেলিয়া ও ইংল্যান্ড দুদলই আপাতত কোণঠাসা। সামনে তাকাতে আজ মেলবোর্নে মুখোমুখি লড়াইয়ে জয়ের বিকল্প নেই কোনো দলেরই। এ ম্যাচে হার মানে সেরা চারের লড়াই থেকে ছিটকে যাওয়াটা মোটামুটি নিশ্চিত। এই যখন চিত্র, তখন নিশ্চিতভাবেই অস্ট্রেলিয়া-ইংল্যান্ড লড়াই বাড়তি রোমাঞ্চ জাগাতে বাধ্য। সবার চোখও থাকবে তাই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী দুদলের দ্বৈরথে। অবশ্য বৃষ্টি সবার এই আগ্রহ মাটি না করে, সেই শঙ্কাও থাকছে।

ভেতরের আবহের কথা বললে অস্ট্রেলিয়াকে হয়তো একটু এগিয়ে রাখা যায়। যদিও শিরোপাধারীরা আসর শুরু করেছিল নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ৮৯ রানের বড় হারে। সিডনিতে ২০১ রান তাড়ায় অ্যারন ফিঞ্চের দলের ১১১ রানে গুটিয়ে যাওয়াটা ছিল অজি ভক্তদের চরম হতাশার। তবে পার্থে পরের ম্যাচে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে দারুণ এক জয় তুলে নেয় অজিরা। ঝড় তুলে মার্কাস স্টয়নিস দলকে শুধু জয় এনে দেননি, জানিয়ে দেন খুব সহজে শিরোপার দৌড় থেকে সরে যাচ্ছে না তারা। এটা যদি অস্ট্রেলিয়ার স্বস্তি হয়, তাহলে অস্বস্তি ইংল্যান্ড ম্যাচের আগের দিন ম্যাথু ওয়েডের করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হওয়া। এর আগে অ্যাডাম জাম্পাও করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছিলেন। আফগানিস্তানের বিপক্ষে তাই খেলা হয়নি তার। সুস্থ হওয়ায় ইংল্যান্ডে ম্যাচে হয়তো ফিরবেন তিনি। আর ওয়েডও ইংল্যান্ড ম্যাচটা খেলবেন বলেই মনে হচ্ছে। কারণ তার শরীরে তেমন কোনো উপসর্গ নেই। আর আইসিসির কভিড প্রোটোকল অনুযায়ী তীব্র উপসর্গ না থাকলে ম্যাচ খেলতে বাধাও নেই। ওয়েড খেলতে না পারলে মেলবোর্নে কিপিং গ্লাভস হাতে দেখা যেতে পারে ডেভিড ওয়ার্নার বা গ্লেন ম্যাক্সওয়েলকে। আর শঙ্কা দূর করে শেষ পর্যন্ত ওয়েড খেললে সেটাই বরং অস্ট্রেলিয়ার জন্য প্রেরণার কারণ হবে। গত আসরে শিরোপা জয়ের পথে সেমিফাইনালে পাকিস্তানের বিপক্ষে যিনি খেলেছিলেন ১৭ বলে ৪১ রানের ম্যাচজয়ী ইনিংস, বড় ম্যাচে তার মতো ফিনিশারকে তো সবাই পেতে চাইবে।

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের গত আসরেও মুখোমুখি হয়েছিল এই দুই দল। দুবাইয়ে সেই ম্যাচটা ইংলিশরা জিতেছিল বেশ দাপটের সঙ্গে। এক যুগ আগে ইংলিশদের বিশ্বকাপ জেতাও অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে। এছাড়া বিশ্বকাপে আর একবারই দেখা হয়েছিল দুই দলের। ২০০৭ সালে প্রথম আসরে জিতেছিল অস্ট্রেলিয়া। আর সবমিলিয়ে টি-টোয়েন্টিতে এই দুই দল মুখোমুখি হয়েছে ২৩ ম্যাচে। জয়ের পাল্লাটা ভারী ইংল্যান্ডেরই। ১১ ম্যাচে জিতেছে ইংলিশরা, ১০টিতে অস্ট্রেলিয়া। দুটি ম্যাচ পরিত্যক্ত হয়। মেলবোর্নে অবশ্য টি-টোয়েন্টিতে কখনো অস্ট্রেলিয়াকে হারাতে পারেনি ইংল্যান্ড। তিন ম্যাচের সবগুলো জিতেছে অজিরা।

অধিনায়ক অ্যারন ফিঞ্চ মনে করেন এই গ্রুপ থেকে কাজটা কঠিনই হবে, ‘গ্রুপটা উন্মুক্ত, কারণ যে কোনো দিন যে কেউ জিততে পারে। টি-টোয়েন্টির ধরনই এটা, একটা ম্যাচ নিয়ে নিশ্চিত করে কিছু বলতে পারবেন না। আফগানিস্তান সত্যিই অনেক দক্ষ ও প্রতিভাবান খেলোয়াড়ে ভরপুর। আয়ারল্যান্ড নিজেদের প্রমাণ করেছে। শ্রীলঙ্কা যে কাউকে হারানোর ক্ষমতা রাখে। তাই আমি মনে করি গ্রুপটা সব সময়ই উন্মুক্ত ছিল। কোনো সন্দেহ নেই, এটা একটা কঠিন গ্রুপ।’