আগামী ১০ জানুয়ারি প্রকাশ পাবে ডিউক অব সাসেক্স প্রিন্স হ্যারির স্মৃতিকথা ‘স্পেয়ার’। তার বইয়ের প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান পেঙ্গুইন র্যানডম হাউজ এ তথ্য জানিয়েছে বলে জানায় বিবিসি। ব্রিটিশ রাজপরিবারের দায়িত্ব ছেড়ে দিয়ে হ্যারির যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী হওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়ার পেছনে কী কারণ ছিল তার বিশদ বিবরণ থাকবে বইটিতে।
পেঙ্গুইন র্যানডম হাউজ বলছে, ‘প্রিন্সেস অব ওয়ালেস ডায়ানা মারা গেলেন, কোটি কোটি মানুষ ভাবছিলেন এখন দুই প্রিন্স কী চিন্তা করছেন, তাদের কেমন অনুভূতি হচ্ছেÑতাদের জীবন এখন কীভাবে অতিবাহিত হবে....হ্যারির জন্য, শেষ পর্যন্ত এটি তার গল্প।’ প্রকাশনা সংস্থাটি বলছে, বই থেকে প্রাপ্ত আয়ের কিছু অংশ ‘সেন্টাবালে’ এবং ‘ওয়েলচাইল্ড’সহ যুক্তরাজ্যের কয়েকটি দাতব্য প্রতিষ্ঠানে দান করা হবে। তার মধ্যে উপরের দুটি প্রতিষ্ঠানের জন্য যথাক্রমে ১৫ লাখ মার্কিন ডলার এবং তিন লাখ পাউন্ড দান করা হবে বলে নিশ্চিত করেছে প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান।
বৃহস্পতিবার একটি সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে ৩৮ বছরের প্রিন্স হ্যারির স্মৃতিকথার মোড়ক প্রকাশ করে র্যানডম হাউজ বলেছে, স্পেয়ার গ্রন্থটি পাঠকদের অবিলম্বে বিংশ শতাব্দীর সবচেয়ে আকর্ষণীয় চিত্রগুলোর মধ্যে একটিতে নিয়ে যাবে: দুটি ছোট বালক, দুই রাজপুত্র, তাদের মায়ের কফিনের পেছন পেছন হেঁটে যাচ্ছে এবং বিশ্ব তা দুঃখভারাক্রান্ত, শঙ্কিত হয়ে দেখেছে।
বইটির প্রচারের জন্য প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান উপরের বিষয়টিকেই বেছে নিয়ে বলেছে, ‘একদম প্রকৃত এবং অবিচ্ছিন্ন সততার সঙ্গে, স্পেয়ার হল দুঃখের ওপর ভালোবাসার শাশ্বত শক্তি সম্পর্কে অন্তর্দৃষ্টি, উদ্ঘাটন, আত্ম-পরীক্ষা এবং কঠোরভাবে জয়ী জ্ঞানে পূর্ণ একটি যুগান্তকারী প্রকাশনা।’
বিবিসি বলছে, ২০২১ সালে প্রিন্স হ্যারির স্মৃতিকথা লেখার ঘোষণা আসে। ওই সময়ে তিনি প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন তার স্মৃতিকথায় তার জীবনের ‘উত্থান ও পতন’ উভয়ের কথাই থাকবে এবং তিনি ‘সঠিক ও সম্পূর্ণ সত্যবাদী’ থাকবেন।
বিশ্বজুড়ে একযোগে ১৬টি ভাষায় বইটি প্রকাশ পাবে। বইয়ের অডিও সংস্করণও প্রকাশ করা হবে, যেটি পড়বেন স্বয়ং প্রিন্স হ্যারি। ডিউক অব সাসেক্স প্রিন্স হ্যারি এবং ডচেস অব সাসেক্স মেগান মার্কল ২০২০ সালে রাজকীয় দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দেন।