সেই জিম্বাবুয়েই এখন কঠিন প্রতিপক্ষ

বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের একটি ফ্র্যাঞ্চাইজি তাদের অফিসিয়াল ফেসবুক পাতায় জানান দিয়েছে, ‘জিম্বাবুয়ে থেকে একজন সুপারস্টার আসছেন। সিকান্দার রাজা আমাদের হয়ে খেলবেন, এই ঘোষণাটা দিতে পেরে আমরা রোমাঞ্চিত।’ জিম্বাবুয়ের এই অলরাউন্ডারের পাসপোর্টে বাংলাদেশের ইমিগ্রেশনের সিল যে কতবার পড়েছে সেটা তিনি বোধহয় নিজেও বলতে পারবেন না। জিম্বাবুয়ে জাতীয় দল, বিপিএল, ঢাকা লিগ... কতবারই তো খেলতে ঢাকায় এসেছেন সিকান্দার, তবে এবারের মতো তাকে নিয়ে রোমাঞ্চ বোধহয় আগে কখনো দেখা যায়নি।

হবেই না বা কেন। জিম্বাবুয়ের হয়ে ফর্মের তুঙ্গে সিকান্দার। বিশ্বকাপে এখন পর্যন্ত পাঁচটা ম্যাচ খেলেছে জিম্বাবুয়ে (একটি বৃষ্টিতে পরিত্যক্ত), জিতেছে তিনটিতে আর তিন ম্যাচেই সেরা খেলোয়াড় সিকান্দার। ব্যাটে-বলে দুর্দান্ত ফর্মে। এই সিকান্দারকে ঘিরেই যত ভয় বাংলাদেশের। কারণ বাংলাদেশের কোনো রহস্যই অজানা নেই সিকান্দারের, দক্ষিণ আফ্রিকার রাইলি রুশো যেভাবে বিপিএল খেলার অভিজ্ঞতায় বাংলাদেশের বোলারদের উড়িয়ে দিয়েছেন সেটা যে সিকান্দারও পারেন তার প্রমাণ তো কিছুদিন আগের জিম্বাবুয়ে সফরেই দেখা গেছে। বিশ্বকাপে বাংলাদেশকে সামনে পেয়ে সেই কীর্তিই আবার করে দেখানোর তাগিদ সিকান্দারের। ‘এতদিন আমাদের সব মনোযোগ ছিল পাকিস্তানের ম্যাচের দিকে, এখন সেটা বাংলাদেশের দিকে। আমরা ওদের খেলা নিয়ে বিশ্লেষণ করব, আমরা একটা একটা করে ম্যাচ ধরে এগোচ্ছি’ পাকিস্তানকে হারাবার পর বলেছেন এই অলরাউন্ডার।

সিকান্দার তো বলেই দিলেন, সেমিফাইনালের স্বপ্ন দেখছে জিম্বাবুয়ে ‘এখন সবার জন্যই সুযোগ আছে, জিম্বাবুয়ের সামনেও খুব ভালো সুযোগ আছে দারুণ কিছু অর্জনের। এখন আমাদের চোখ বাংলাদেশের দিকে।’ বিশ্বকাপে খেলতে আসার আগে বাংলাদেশের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজে দুই ম্যাচে দুই শতরান, ভারতের বিপক্ষেও করেছেন শতরান। টি-টোয়েন্টিতে বাংলাদেশের বিপক্ষে দুটো ম্যাচে হাফসেঞ্চুরি, এরপর বিশ্বকাপের প্রথম পর্বে আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে ৮২ আর স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে ২৩ বলে ৪০ রানের ইনিংস। দারুণ ছন্দে থাকা এই ব্যাটসম্যানকে নিয়েই যে ভয় বাংলাদেশের!

শুক্রবার ব্রিসবেনে পৌঁছে হোটেলে না গিয়ে সোজা মাঠে গিয়ে হাজির হয়েছিলেন বাংলাদেশ দলের ক্রিকেটাররা। উদ্দেশ্য উইকেট দেখা। সিডনিতে নানান জটিলতায় উইকেট না দেখেই মাঠে নেমে পড়তে হয়েছিল বাংলাদেশকে। এবার তাই আগেভাগেই উইকেট দেখে নেওয়া। গ্যাবায় আজ স্থানীয় সময় সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত অনুশীলন। ব্রিসবেনে অবশ্য বিশ্বকাপ শুরুর আগে দুটো প্রস্তুতি ম্যাচ খেলতে বেশ কিছুদিন ছিল বাংলাদেশ, তবে ম্যাচগুলো ছিল অন্য স্টেডিয়ামে।


এদিকে সিডনিতে প্রবাসীদের নৈশভোজের আসরে সাকিব আল হাসানের অর্থের বিনিময়ে উপস্থিতি নিয়ে উঠেছে প্রশ্ন। যদিও কাল বিসিবির ক্রিকেট অপারেশন্স কমিটির চেয়ারম্যান জালাল ইউনুসের সঙ্গে সাংবাদিকদের সামনেই খুনসুটিতে মেতেছিলেন সাকিব। জালাল যখন গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলছিলেন, তখন মোবাইলে ভিডিও ধারণ করার মাধ্যমে ‘সাংবাদিক’ বনে গিয়েছিলেন টি-টোয়েন্টি অধিনায়ক।

সাংবাদিকদের সঙ্গে সংক্ষিপ্ত আলাপে জালাল জানিয়েছেন, টি-টোয়েন্টিতে খেলোয়াড়দের পারফরম্যান্স বাড়াবার জন্য ক্রিকেটারদের আরও বেশি বিদেশি লিগে খেলতে পাঠানোর কথা ভাবছে বিসিবি, ‘আমরা চাই আমাদের ক্রিকেটাররা যতটুকু সম্ভব ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেট খেলুক। কারণ এটি এখন খুব জনপ্রিয়। অন্য দল যেভাবে এগিয়ে গেছে, আমরা কিন্তু সেভাবে এগোইনি। এবারের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ দেখে আমার তাই মনে হচ্ছে। ঢাকায় গিয়ে আমাদের এই ফরম্যাটটা নিয়ে আরও সিরিয়াসলি চিন্তা করতে হবে। আমাদের ক্রিকেটাররা যাতে বাইরে আরও ফ্র্যাঞ্চাইজি টি-টোয়েন্টি লিগে খেলতে পারে সে সুযোগটা আমরা করে দেব।’

তবে বাস্তবতা হচ্ছে, ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেট চলে বাজার অর্থনীতির সূত্রে। এখানে আবেগের কোনো দাম নেই। সাকিবকেই এবারের আইপিএলে নেয়নি কোনো দল। দক্ষিণ আফ্রিকার টি-টোয়েন্টি লিগ কিংবা আরব আমিরাতের লিগেও সুযোগ হয়নি বাংলাদেশের কোনো ক্রিকেটারের। এমনকি নেপালের ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগে খেলতে গিয়েও ভালো করার নজির নেই বাংলাদেশের ক্রিকেটারদের। বিদেশি খেলোয়াড়ের কোটা যেখানে সীমাবদ্ধ, সেখানে কোনো ফ্র্যাঞ্চাইজিই চাইবে না অকার্যকর খেলোয়াড়দের নিয়ে দল ভারী করতে।

অথচ বিপিএল খেলেই রাইলি রুশো, সিকান্দার রাজারা নিজেদের নিয়ে গেছেন ভিন্ন উচ্চতায়। সেদিকে নজর না বাড়িয়ে খেলোয়াড়দের বিদেশে পাঠানোর চিন্তাভাবনাই প্রমাণ করে, টি-টোয়েন্টি নিয়ে আসলে কোনো পরিকল্পনাই নেই বিসিবির।