ভূঞাপুরে আ.লীগের দুই পক্ষের হাতাহাতি, বর্ধিত সভা স্থগিত

টাঙ্গাইলের ভূঞাপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের বর্ধিত সভায় দুই পক্ষের হাতাহাতির ঘটনা ঘটেছে। গতকাল শনিবার দুপুরে উপজেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। এ ঘটনার পর উপজেলা আওয়ামী লীগের বর্ধিত সভা স্থগিত করা হয়েছে।

উপজেলা আওয়ামী লীগের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক নেতাকর্মী জানান, আগামী ৭ নভেম্বর টাঙ্গাইল জেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলন হওয়ার কথা রয়েছে। সম্মেলনকে কেন্দ্র করে জেলার বিভিন্ন উপজেলায় বর্ধিত সভা হচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায় শনিবার দুপুরে দলীয় কার্যালয়ে বর্ধিত সভার আয়োজন করে ভূঞাপুর উপজেলা আওয়ামী লীগ।

বর্ধিত সভায় উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও পৌর মেয়র মাসুদুল হক মাসুদসহ তার অনুসারীদের নিয়ে সভা শুরু করেন। সভা চলাকালে টাঙ্গাইল-২ (গোপালপুর-ভূঞাপুর) আসনের সংসদ সদস্য তানভীর হাসান ছোট মনিরসহ উপজেলা আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী ও জেলা আওয়ামী লীগের নেতারা সভাস্থলে প্রবেশ করলে মঞ্চের সামনের সারিতে বসাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে তর্ক শুরু হয়। একপর্যায়ে তাদের মধ্যে হাতাহাতি হয়। পরে এমপি ও মেয়র পক্ষের নেতাকর্মীরা পাল্টাপাল্টি বিক্ষোভ করে ঘটনাস্থল থেকে চলে যান।

উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও পৌর মেয়র মাসুদুল হক মাসুদ বলেন, ‘আমরা আগামী ৭ নভেম্বর জেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলন সামনে রেখে উপজেলা আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের নিয়ে দলীয় কার্যালয়ে বর্ধিত সভা শুরু করি। এমপি মহোদয় সভাস্থলে প্রবেশ করলে আমি তাকে বসতে আহ্বান জানাই। তিনি না বসে আমাকে পাশ কাটিয়ে সভাস্থল ত্যাগ করার সময় তার সঙ্গে আসা কিছু নেতাকর্মী হঠাৎ করে আমাদের নেতাকর্মীদের ওপর এলোপাতাড়ি হামলা চালায়। পরে আমরা সভাস্থল ত্যাগ করে চলে আসি।’

এ বিষয়ে সংসদ সদস্য তানভীর হাসান ছোট মনির বলেন, ‘উপজেলা আওয়ামী লীগের বর্ধিত সভায় উপজেলা ও জেলা আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের নিয়ে প্রবেশ করি। সভাস্থলে বসার জায়গা না থাকায় কর্মীদের মাঝে ক্ষোভ ও হট্টগোলের সৃষ্টি হয়। পরে জেলার নেতারা বর্ধিত সভা স্থগিত ঘোষণা করেন।

হাতাহাতির ঘটনায় ভূঞাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ ফরিদুল ইসলাম বলেন, উভয় পক্ষের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটেছে। তবে এ ঘটনায় এখনো কেউ অভিযোগ করেননি।