সাকার বাড়িতে ‘রাজাকার হিল’ সাইনবোর্ড

চট্টগ্রামের গণি বেকারি মোড়ে বিএনপি নেতা সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরীর বাড়ি ‘গুডস হিল’কে ‘রাজাকারের বাড়ি’ লিখে ব্যানার টানিয়েছে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সন্তানরা। গত ১২ অক্টোবর চট্টগ্রাম নগরীর পলোগ্রাউন্ড মাঠে বিএনপির বিভাগীয় সমাবেশে একাত্তরে মানবতাবিরোধী অপরাধে ফাঁসি হওয়া সাকা চৌধুরীকে ‘শহীদ’ উল্লেখ করে তার ছেলে বিএনপি নেতা হুম্মাম কাদের  চৌধুরী বক্তব্য দেন। ওই বক্তব্যে হুম্মাম কাদের চৌধুরী সরকারের উদ্দেশে বলেন, ‘ক্ষমতা ছাড়ার পর একা বাড়ি ফিরতে পারবেন না। সকল শহীদের কবরে গিয়ে ক্ষমা চাইতে বাধ্য করা হবে।’

প্রতিবাদে গত ১৮ অক্টোবর চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাব চত্বরে সমাবেশ করে হুম্মাম কাদের চৌধুরীকে ক্ষমা চাওয়ার জন্য সাত দিনের সময় বেঁধে দিয়েছিল মুক্তিযোদ্ধা সংসদ সন্তান কমান্ড। অন্যথায় গুডস হিল ঘেরাওয়ের ঘোষণা দিয়েছিল তারা। ওই ঘোষণা অনুযায়ী গতকাল গুডস হিল ঘেরাও করে মুক্তিযোদ্ধার সন্তানরা।

গতকাল সকাল ৯টা থেকে প্রায় চার ঘণ্টার এই ঘেরাও কর্মসূচিতে হাজারো মানুষ অংশ নেয়। যুদ্ধাপরাধীর সন্তান হুম্মাম কাদের চৌধুরীকে বীর মুক্তিযোদ্ধার সন্তানদের পক্ষ থেকে চট্টগ্রামে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করা হয়েছে। এ সময় তারা পাঁচ দফা দাবি উত্থাপন করে। দাবিগুলো হলো হুম্মামের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহ মামলা দায়ের ও গ্রেপ্তার, যুদ্ধাপরাধীদের সন্তানসহ পরিবারের সদস্যদের রাজনীতি ও নির্বাচনে অযোগ্য ঘোষণা, দন্ডিত যুদ্ধাপরাধীদের সকল সম্পদ রাষ্ট্রের অনুকূলে বাজেয়াপ্ত করা, জেলা-উপজেলা-ইউনিয়ন পর্যায়ে সকল যুদ্ধাপরাধীর তালিকা করে পাঠ্যপুস্তকে অন্তর্ভুক্ত করা এবং মুক্তিযুদ্ধে নিরস্ত্র বাঙালিদের নির্যাতনের জন্য রাজাকার-আলবদর-পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর গড়ে তোলা সকল ‘টর্চার ক্যাম্পকে’ মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর হিসেবে গড়ে তোলা।

এদিকে ঘেরাও সমাবেশে বীর মুক্তিযোদ্ধা, রাজনৈতিক, সাংস্কৃতিক ও বিভিন্ন  পেশাজীবী সংগঠনের নেতারা একাত্মতা প্রকাশ করে বক্তব্য দেন। এ সময় অনেকের হাতে বিভিন্ন লেখা সংবলিত প্ল্যাকার্ড ছিল।