শেষ ওভারে এমনিতেই থাকে রোমাঞ্চ। সেই রোমাঞ্চ কাটিয়ে জয় নিয়ে মাঠও ছেড়েছিল বাংলাদেশ। কিন্তু টিভি আম্পায়ারের রিভিউয়ে ধরা পড়ে নো বল। উল্লাস থামিয়ে ফিরতে হয় মাঠে। নাটকীয়তা শেষে ৩ রানের জয় নিশ্চিত করে টাইগাররা। তবে জয় পেলেও টি-টোয়েন্টিতে ঘাটতি এখনও পুষিয়ে উঠতে পারেনি টাইগাররা। বিশেষ করে ডেথ ওভারে ব্যাটারদের ফিনিশিংয়ের শূন্যতা এখনও অধরা।
টি-টোয়েন্টিতে ব্যাটাররা তান্ডব চালান পাওয়ার প্লেতে। মাঝের ওভারগুলোতে বাজে বল পেলে হাত খুলেন। তবে ডেথ ওভারে ফের শুরু হয় তান্ডব। যেখানে মূল ভূমিকা পালন করেন ফিনিশাররা। কেউ পাওয়ার প্লেতে হাত খুলতে না পারলেও শেষের দিকে ঝড় তুলে রানের ঝুলি ভারি করে নেন। কিন্তু বাংলাদেশ এ দুই জায়গাতেই পিছিয়ে। তারা না পারেন প্রথম ছয় ওভারে, না পারেন শেষ ১৮ বলে রান তুলতে।
ব্রিসবেনের গ্যাবায় বিশ্বকাপের সুপার টুয়েলভে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে আজ যার জ্বলন্ত উদাহরণ। পাওয়ার প্লের ৩৬ বলের ২১টি তারা নষ্ট করেছেন ডট বলে। বাকি ১৫ বলে তারা সংগ্রহ করেছেন ৩২ রান। হারাতে হয়েছে দুটি উইকেট। আর শেষ তিন ওভারে তারা নিতে পেরেছেন মাত্র ২৪ রান।
ডেথ ওভারগুলোতে বেশিরভাগ রান আসে চার-ছক্কা থেকে। কিন্তু সেই ছক্কার মারেও পিছিয়ে বাংলাদেশ। আজ জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে শেষ ১৮ বল থেকে এসেছে মাত্র একটি ছক্কা। অষ্টাদশ আর উনবিংশ ওভারে ১৭ রান এলেও শেষ ওভারে আফিফরা নিতে পেরেছেন মাত্র ৭ রান। বিপরীতে হারাতে হয়েছে তিনটি উইকেট।
অন্যদিকে ম্যাচ হারা জিম্বাবুয়ে তাদের শেষ তিন ওভারে তিনটি উইকেট হারালেও সংগ্রহ করেছে ৩৬ রান। ফলে বড় ব্যবধানের হার এড়িয়ে বাংলাদেশকে দেয় মাত্র ৩ রানের জয়। যে জয় পেতে শেষ বলে হয়ে যায় এক রোমাঞ্চভরা নাটক!
বিশ্বকাপ শুরুর আগে দেশ রূপান্তরের একটি প্রতিবেদনে তুলে ধরা হয়েছিল, শেষ ১৮ বলে ছক্কা মারার ক্ষেত্রে জিম্বাবুয়ের চেয়েও পিছিয়ে বাংলাদেশ। সেই প্রতিবেদনের তথ্যানুসারে, বিশ্বকাপ শুরুর আগে চলতি বছরে বাংলাদেশ ১৬টি আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলেছে। এর মধ্যে শেষ তিন ওভারে ছক্কা মারতে পেরেছে মাত্র ১৭টি। যেখানে বাংলাদেশের প্রায় দ্বিগুণ (৩১) ম্যাচ খেলা ভারত তিনগুণ বেশি ছক্কা মেরেছে। ঐ ওভারগুলোতে তাদের ছক্কা মারার সংখ্যাটা ৫১। এছাড়া জিম্বাবুয়েও বাংলাদেশের চেয়ে এগিয়ে। এই সংস্করণে টাইগারদের সমান সংখ্যক ম্যাচ খেলে তারা শেষ তিন ওভারে ছক্কা মেরেছে ২৫টি।