অক্টোবর-নভেম্বরে পোশাক রপ্তানি কমতে পারে: ফারুক

জ্বালানি সংকট, ক্রয়াদেশ কমে যাওয়া ও ইউরোপের বিভিন্ন দেশে মূল্যস্ফীতি বেড়ে যাওয়ায় চলতি অর্থবছরে পোশাক খাতের রপ্তানি লক্ষ্যমাত্রা অর্জন সম্ভব হবে না বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ গার্মেন্টস ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিজিএমইএ) সভাপতি ফারুক হাসান। 

চলতি অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে স্বাভাবিক প্রবৃদ্ধির পর তৃতীয় মাস থেকে সংকট দেখা দেয়। এতে করে সেপ্টেম্বরে পোশাকের রপ্তানি আয় সাড়ে ৭ শতাংশ কমে যায়। আর রপ্তানি আয়ের প্রধান অঞ্চলগুলোতে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের প্রভাব ও উচ্চ মূল্যস্ফীতির কারণে অক্টোবরে পোশাক খাতের রপ্তানি আয়ের প্রবৃদ্ধি প্রায় ২০ শতাংশ কমে যেতে পারে বলে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন বিজিএমইএ সভাপতি। 

তিনি বলেন, জ্বালানি পরিস্থিতির উন্নতি না হলে নভেম্বরেও রপ্তানি আয়ে অবনতি দেখা দিতে পারে।  
ফারুক হাসান বলেন, অ্যাপারেল শিপমেন্টের এই অবস্থা চলতে থাকলে ৪৬ দশমিক ৮ বিলিয়ন ডলারের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন ব্যাহত হবে। 

রবিবার বিজিএমইএর ভবনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান তিনি। 

তিনি ‘বিজিএমইএর উদ্ভাবন, দক্ষতা উন্নয়ন, পেশাগত নিরাপত্তা ও স্বাস্থ্যকেন্দ্রের’ উদ্বোধন করেন।

এ সময় ইপিবির সর্বশেষ পরিসংখ্যান তুলে ধরে বিজিএমইএ সভাপতি বলেন, চলতি বছরের সেপ্টেম্বর মাসে পোশাক রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি ৭ দশমিক ৫২ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে, যেখানে নিটওয়্যারে কমেছে ৯ শতাংশ এবং ওভেন রপ্তানি কমেছে ৫ দশমিক ৬৬ শতাংশ। অক্টোবরে প্রবৃদ্ধি আরও কমবে। আমাদের আশঙ্কা, নভেম্বর মাসে এটি আরও হ্রাস পাবে। ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধ, বিশ্বব্যাপী অর্থনৈতিক অস্থিরতা, মূল্যস্ফীতি এবং খুচরা বাজারে প্রভাবের কারণে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং জার্মানিসহ প্রধান বাজারগুলোতে প্রবৃদ্ধি হ্রাস পাচ্ছে।

ফারুক হাসান বলেন, বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সংকট চলছে। স্থানীয় পর্যায়ে গ্যাস-বিদ্যুতের সংকটের প্রভাব আমাদের পোশাক শিল্পেও পড়ছে। এতে শিল্পে ব্যয় বাড়ছে দুই ভাবে- বিদ্যুতের অপ্রতুলতার কারণে কারখানাগুলোতে ডিজেল দিয়ে জেনারেটরগুলো চালানো হচ্ছে। অন্যদিকে, অধিক সময় জেনারেটর চালানোর কারণে জেনারেটরগুলো ঘন ঘন বিকল হচ্ছে। এতে শিল্পে উৎপাদন ব্যয় বাড়ছে। সরকারের কাছে আমাদের একান্ত অনুরোধ, রপ্তানিমুখী শিল্পকারখানাগুলোতে বিশেষ ব্যবস্থায় চাহিদা অনুযায়ী নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ ও গ্যাস সরবরাহ করা হোক। সেইসঙ্গে আমাদের আরেকটি অনুরোধ, আমাদের উৎসে কর যা এ বছরে ১ শতাংশ করা হয়েছে, সেটি আগের বছরের মতো একই পর্যায়ে রাখা হোক।
সংবাদ সম্মেলনে বিজিএমইএ সভাপতি লিখিত বক্তব্যে বলেন, একটি গ্রহণযোগ্য, নির্ভরযোগ্য এবং গ্রিন প্ল্যাটফর্ম হিসেবে নিজেদের উপস্থাপন করতে পারলে দেশের পোশাক রপ্তানি ১০০ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে যাবে। একইসঙ্গে শিল্পটিতে পরোক্ষ ও প্রত্যক্ষভাবে আরও দেড় কোটি মানুষের কর্মসংস্থান হবে।

ফারুক হাসান বলেন, পোশাক শিল্পের প্রতিযোগী সক্ষমতা বাড়ানোর সঙ্গে আমাদের স্বচ্ছতা, জবাবদিহি বাড়াতে হবে। আমরা যদি ক্রেতাদের কাছে একটি গ্রহণযোগ্য, নির্ভরযোগ্য এবং গ্রিন প্ল্যাটফর্ম হিসেবে নিজেদের উপস্থাপন করতে পারি, শিল্পকে টেকসই করতে পারি, তাহলে আমাদের রপ্তানি ১০০ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে যাবে। শিল্পটি প্রত্যক্ষভাবে আরও ১০ মিলিয়নেরও বেশি এবং পরোক্ষভাবে ব্যাকওয়ার্ড ও ফরওয়ার্ড লিংকেজ মিলে আরো ৪০-৫০ লাখেরও বেশি কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে সক্ষম হবে। ইনোভেশন সেন্টার এ বিষয়গুলোতে আমাদের সহায়তা করবে এবং আগামী ২০৩০ সালের মধ্যে শিল্পের জন্য একটি পথনকশা তৈরি করবে।

চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের অন্যতম চ্যালেঞ্জ হচ্ছে প্রযুক্তি এবং অটোমেশন। চ্যালেঞ্জের কথা তুলে ধরে তিনি জানান, আগামী চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের চ্যালেঞ্জগুলো সুযোগে পরিণত করতে চান রপ্তানিকারকরা। ইনোভেশন সেন্টারে ৪র্থ শিল্প বিপ্লবের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার জন্য ডিজিটাল স্যাম্পলিং, থ্রিডি প্রোটোটাইপিং এবং অন্যান্য আধুনিক প্রযুক্তি এবং সফটওয়্যারের ওপর কোর্স থাকবে, যাতে করে শিল্প বৈশ্বিক বাজারের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে সমর্থ হয় এবং উৎকর্ষতার উচ্চতর স্তরে পৌঁছাতে পারে। 

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে বিজিএমইএর সভাপতি জানান, আইএএফ কনভেনশনের পর ১৬ ও ১৭ নভেম্বর কনভেনশনে আসা প্রতিনিধিদলকে কারখানা এবং ঐতিহ্যবাহী দর্শনীয় স্থানগুলো পরিদর্শন করানো হবে। আইএএফ’র বাৎসরিক ওয়ার্ল্ড ফ্যাশন কনভেনশনে ৪০টি দেশের প্রতিনিধিত্বকারী পোশাক শিল্প সমিতি, নেতৃস্থানীয় ব্র্যান্ড এবং অন্যান্য স্টেকহোল্ডারসহ আইএএফের সব সদস্যকে একত্র করা হবে।

তা ছাড়া বিজিএমইএ’র উদ্যোগে আগামী ১২ নভেম্বর থেকে ১৮ নভেম্বর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে (বিআইসিসি) ‘মেইড ইন বাংলাদেশ উইক’ ইভেন্ট আয়োজনের প্রস্তুতির কাজ চলছে। মেইড ইন বাংলাদেশ উইক-এর অংশ হিসেবে ঢাকা অ্যাপারেল সামিট হচ্ছে এবং এই সামিট উপলক্ষে ৯টি সেশনের আয়োজন করা হয়েছে। মেইড ইন বাংলাদেশ উইক ইভেন্টের আওতায় চারটি প্রতিযোগিতাভিত্তিক অ্যাওয়ার্ড প্রোগ্রাম আয়োজন রয়েছে বলে জানানো হয়।