চ্যাম্পিয়ন বলেই কি এবার শিরোপা জিতবে না ফ্রান্স!

শুরুর দিকে ইতালি, আর ১৯৫৮’র চ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল বিশ্বকাপ ধরে রাখতে পেরেছিল পরের বছর। ১৯৬২’র পর থেকে এই নজির আর দেখা যায়নি। ব্রাজিল পরে তিন বার, ইতালি আরও দুবার, তাদের মতো জার্মানিও চার বিশ্বকাপ জিতলেও সব বিচ্ছিন্ন বছরে। ফ্রান্সও ১৯৯৮-এ প্রথম স্বাদ পাওয়ার পর আবার জিতেছে ২০ বছর পর ২০১৮-তে। এই ট্রেন্ড ধরলে ফ্রান্সের এবার বিশ্বকাপ জেতার সম্ভাবনা নেই।

আসলেই কী নেই?

আপাতত দৃষ্টিতে বাজির দর, কিংবা শক্তির বিচারে ফ্রান্স উতরে যাচ্ছে দ্বিতীয় রাউন্ডে। গ্রুপ ‘ডি’ তে দুবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়নরা। তাদের গ্রুপ সঙ্গী ডেনমার্ক, অস্ট্রেলিয়া ও তিউনিসিয়া। এই গ্রুপ থেকে পরের রাউন্ডে যাওয়ার দৌড়ে ফ্রান্স ও ডেনমার্ককে এগিয়ে রাখা হচ্ছে। র‌্যাংকিংয়ে চারে থেকে কাতারে যাবে ফ্রান্স। বাছাইতে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়েই কাতারের টিকিটে কেটেছে তারা। বাছাইয়ে আট ম্যাচের পাঁচটিতে জয়, তিনটি ড্র করেছে। দলটির সঙ্গে খেলোয়াড় ও কোচ হিসেবে ট্রফি জয়ী দিদিয়ের দেশম এখনো দায়িত্বে। গোলবারের নিচে দীর্ঘদিনের ভরসা হুগো লরিস। এছাড়া ব্যালন ডি’অর জয়ী করিম বেনজেমা, ২০১৮ বিশ্বকাপের সেরা তরুণ খেলোয়াড় কিলিয়ান এমবাপে এখন আরও পরিণত।

২০২১ নেশন্স লিগ জিতেছিল ফ্রান্স। কিন্তু এ বছর সেই টুর্নামেন্টের পারফরম্যান্স ভয় ধরিয়ে দিতে পারে সমর্থকদের মনে। ছয় ম্যাচের মধ্যে জিতেছে মাত্র একটি, ড্র দুটি। তাদের তিন হারের দুটিই বিশ্বকাপ গ্রুপসঙ্গী ডেনমার্কের বিপক্ষে। গেলবারও দুদল একই গ্রুপে ছিল। নিজেদের মধ্যকার লড়াইটা গোলশূন্য ছিল। ডেনমার্ক বাছাইতে এফ গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়ে কাতার বিশ্বকাপে জায়গা করে নিয়েছে। এছাড়া ২০২০ ইউরোতেও ডেনমার্ক সেমিফাইনাল খেলেছিল। ডি গ্রুপ থেকে ফ্রান্সকে পেছনে ফেলে গ্রুপসেরা হওয়ার মতো দল ডেনমার্ক। ফ্রান্সের বাকি দুই প্রতিপক্ষ তিউনিসিয়া ও অস্ট্রেলিয়া।  তাদের বিপক্ষে চাপমুক্ত হয়েই খেলবে ফ্রান্স, বলাই যায়।

অভিজ্ঞ মিডফিল্ডার এনগোলো কান্তে  ইনজুরিতে পড়ায় খেলতে পারবেন না জানিয়ে দিয়েছে তার ক্লাব চেলসি। ওদিকে রাফায়েল ভারানে ও পল পগবা ইনজুরি থেকে এখনো পুরো ফিট হয়ে ওঠেননি। পগবা তবু দলের সঙ্গে অনুশীলনে ফিরেছেন। যদিও কয়েকদিন আগেই ফ্রান্স কোচ জানিয়ে দিয়েছেন তিনি বিশ্বকাপ স্কোয়াডে শতভাগ ফিট ছাড়া কোনো খেলোয়াড়কে নেবেন না।

ফ্রান্সে এবারও আছে বেশ কজন তরুণ খেলোয়াড়। রিয়ালে খেলা দুই মিডফিল্ডার এদোয়ার্দো কামাভেঙ্গা এবং অরেলিয়্যাঁ শুয়ামেনির কথা আলাদাভাবে বলতেই হবে। বেনজেমা, এমবাপেরা আছেন ফর্মে। এই সেদিন ব্যালন ডি’অর জয়ী বেনজেমা এবার এখন পর্যন্ত রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে ১১ ম্যাচে করেছেন ৬ গোল, ১ অ্যাসিস্ট। এমবাপে তো পিএসজির হয়ে আরও বেশি উজ্জ্বল। মৌসুমে ১৭ ম্যাচে ১৭ গোল, চার অ্যাসিস্ট তার। এছাড়া ফ্রান্সের ফরোয়ার্ড লাইনে আরও থাকবেন অলিভিয়ের জিরু, আন্তোইন গ্রিজমানের বিশ্বকাপ অভিজ্ঞরা। এছাড়া ওসমান দেম্বেলে, ক্রিস্টোফান এনকুকুদের নিয়ে দারুণ আক্রমণ ভাগ আছে ফ্রান্সের। ডিফেন্সে যদি ভারানে শেষ পর্যন্ত নাও ফিরতে পারেন তবু আছেন সালিবা, ফেরলান্দ মেন্দি, বেঞ্জামিন পাভার্ড, জেলুস কুন্দেরা। সেই হিসেবে ধরলে দলের মিডফিল্ডার অতটা অভিজ্ঞ নন। তবে ৪-৩-৩ ফরমেশনে খেললে দেম্বেলে, কোমানরাও নিচে নেমে খেলতে পারেন।

বিশ্বকাপে বাজির দরে ওপরের দিকেই আছে ফ্রান্সের নাম। অনেকের মতে তো ব্রাজিলের পরই ফেভারিট তারা। তবে নেশন্স লিগের পারফরম্যান্স এবং দলের বেশ কয়েকজনের ইনজুরি ভাবাচ্ছে ফ্রান্সকে।