সালটা ১৯৯৪, মিস ওয়ার্ল্ড প্রতিযোগিতায় ভারতের নাম উজ্জ্বল করেন ঐশ্বর্য রাই, তার মাথায় সেরার তাজ ওঠার আগেই আমির খানের সঙ্গে একটি সফট ড্রিঙ্কসের বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে জনপ্রিয়তা পান তিনি। এক সাক্ষাৎকারে সুস্মিতা সেন জানান, ঐশ্বর্যের কারণেই মিস ইন্ডিয়া প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করতে ভয় পাচ্ছিলেন তিনি। তবে বিশ্ব সুন্দরীর মঞ্চ থেকে শুরু হয়েছিল তার জয়যাত্রা। দীর্ঘ ২৮ বছর ধরে সেই জয়রথ অব্যাহত। হাম দিল দে চুকে সনম, যোধা আকবর, গুরু থেকে শুরু করে ইরুভার, পোন্নিইন সেলভান ঐশ্বর্যের সুপারহিট ছবির সংখ্যা অগণিত। সম্প্রতি তাঁর ছবি 'পোন্নিইন সেলভান' তুমুল ব্যবসা করেছে বক্স অফিসে। শুধু বলিউডে নয়, হলিউডে বেশ কয়েকটি ছবিতে অভিনয় করেছেন তিনি। ভারত সরকারের পক্ষ থেকে তাকে দেওয়া হয়েছে 'পদ্মশ্রী'। কান ফিল্ম ফেস্টিভালে জ্যুরি হিসাবে দেখা গেছে এই বলিউড অভিনেত্রীকে। সিনেমার পাশাপাশি বেশ কয়েকটি ব্র্যান্ডেরও মুখ তিনি, এ ছাড়াও বিদেশের নানা টিভি শোয়েও অতিথি হিসাবে দেখা যায় তাকে। মঙ্গলবার ৪৯-এ পা দিলেন ঐশ্বর্য রাই বচ্চন। জন্মদিনে জেনে নেওয়া যাক নায়িকার ব্যক্তিগত সম্পত্তির পরিমাণ। কতই বা তার পারিশ্রমিক।
বলিউড ও দক্ষিণী ছবির জগতের অন্যতম দামি অভিনেত্রী ঐশ্বর্য রাই বচ্চন। প্রতি ছবির জন্য তিনি পারিশ্রমিক নেন ১০ কোটি টাকা। পোন্নিইন সেলভানের জন্যও তার ফি ছিল ১০ কোটি। ১৯৯২ সাল থেকে একাধিক ব্র্যান্ডের ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসাডর তিনি। তার প্রথম ব্র্যান্ড প্রমোশন ছিল ক্রুপা ক্রিয়েশন, যার জন্য ঐশ্বর্যের ফি ছিল মাত্র ১৫০০ টাকা। বর্তমানে শ্যাম্পু, সফট ড্রিঙ্কস, সাবান থেকে শুরু করে ঘড়ি, হীরার গয়নার প্রায় ১৫-র বেশি ব্র্যান্ডের মুখ তিনি। একদিনের বিজ্ঞাপনের শুটের জন্য ঐশ্বর্য এখন পারিশ্রমিক নেন ৬ কোটি টাকা। শুধুমাত্র ব্র্যান্ড এন্ডোর্সমেন্ট থেকেই তার বাৎসরিক আয় ৮০ থেকে ৯০ কোটি টাকা।
অভিষেক বচ্চনকে বিয়ে করে ঐশ্বর্য থাকেন মুম্বাইয়ের জুহু এলাকার জলসা বাংলোতে। অমিতাভ ও জয়া বচ্চনের এই বাংলোর বর্তমান দাম ১০০ কোটি টাকা। ওই বাংলো ছাড়াও দুবাইয়ে ৫৫০০ বর্গফুটের একটি বাংলো কিনেছেন অভিষেক ও ঐশ্বর্য। বিলাসবহুল সেই বাংলোর দাম ১৬ কোটি। এ ছাড়াও বান্দ্রা কুর্লা কমপ্লেক্সে একটি অ্যাপার্টমেন্ট কিনেছেন তিনি, যার দাম ২০ কোটি টাকা। বাড়ি ছাড়াও ঐশ্বর্যর ব্যক্তিগত কালেকশনে রয়েছে রোলস রয়েস ঘোস্ট, অডি এএইটএল, মার্সিডিজ বেঞ্চ এস৫০০, মার্সিডিজ বেঞ্চ এস৩৫০ডি কুপ, লেক্সাস এলএক্স৫৭০ ও আরো অনেক। সবমিলিয়ে তার গাড়ির মূল্য ১৮ কোটি।
ছবি ও ব্র্যান্ড এন্ডোর্সমেন্টের পাশাপাশি বেশ কয়েকটি ছোট ছোট স্টার্ট আপেও ইনভেস্ট করেছেন তিনি। একটি হেলথটেক অ্যাপে ৫ কোটি টাকা ইনভেস্ট করেছেন তিনি। একটি পরিবেশ বাঁচাও স্টার্টআপেও বিনিয়োগ করেছেন ঐশ্বর্য। ২০২২ সালের এক সমীক্ষায় জানা যায় যে, সবমিলিয়ে তার সম্পত্তির পরিমাণ ১০০ মিলিয়ন ডলার অর্থাৎ ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় ৮২৮ কোটি। তাহলে ঐশ্বর্যই কী ভারতের সবচেয়ে ধনী অভিনেত্রী? যদিও এ নিয়ে মতবিরোধ আছে, কোনো রিপোর্টে বলা হয় সবচেয়ে ধনী নায়িকা ঐশ্বর্য, কোনো রিপোর্টের দাবি ঐশ্বর্য নয়, প্রিয়াঙ্কা চোপড়া সবচেয়ে ধনী নায়িকা। তবে এককথায় বলাই যায়, ভারতের অন্যতম ধনী অভিনেত্রী ঐশ্বর্য রাই বচ্চন। সূত্র : পিঙ্কভিলা