গাজীপুরের শ্রীপুর পৌর বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট কাজী খান (৫৩) হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে মৃত্যুবরণ করেছেন।
মঙ্গলবার (১ নভেম্বর) দিবাগত রাত সাড়ে তিনটায় ঢাকার একটি প্রাইভেট হাসপাতালে তিনি মারা যান। বুধবার সকালে এ খবর ছড়িয়ে পড়লে শ্রীপুরে শোকের ছায়া নেয়ে আসে। কলেজশাখা ছাত্র রাজনীতির মধ্য দিয়ে জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) সঙ্গে রাজনীতিতে জড়িয়ে পড়েন তিনি। মৃত্যুকালে তার দুটি মেয়ে ও স্ত্রীসহ অসংখ্যা গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।
অ্যাডভোকেট কাজী খান শ্রীপুরের বেড়াইদেরচালা গ্রামের মৃত ইমাম উদ্দিন বেপারীর ছেলে। রাজনীতির পাশাপাশি কাজী খান ছিলেন গাজীপুর জজ কোর্টের আইনজীবী। তিনি শ্রীপুর পৌরশহরের রেলওয়ে স্টেশরের পূর্বপাশে সবুজবাগের নিজস্ব বাসায় পরিবার নিয়ে থাকতেন।
অ্যাডভোকেট কাজী খানের মৃত্যুতে গভীর শোক জানিয়েছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
স্বজনেরা জানান, মঙ্গলবার রাত ১১টার দিকে হঠাৎ তার বুকে প্রচন্ড ব্যথা অনুভূত করেন। পরে তাকে প্রথমে শ্রীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে সেখান থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য দ্রুত রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে নিয়ে যান স্বজনরা। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। তিনি হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে মারা গেছেন বলে চিকিৎসকরা জানিয়েছেন।
শ্রীপুর পৌর ২ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি নাসির উদ্দীন মৃধা জানান, কাজী খান শ্রীপুর পৌর বিএনপির নির্বাচিত সভাপতি ছিলেন। এর আগে ছাত্রদলে যোগ দেওয়ার মাধ্যমে তার রাজনীতির শুরু। তিনি শ্রীপুর মুক্তিযোদ্ধা রহমত আলী সরকারি কলেজের নির্বাচিত জিএস ছিলেন। তিনি দুই মেয়ে রেখে গেছেন। তার বড় মেয়ে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। ছোট মেয়ে ক্লাস নাইনে পড়ে। তিনি খুবই কর্মীবান্ধব রাজনীতিবিদ ছিলেন।
বিএনপি কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সহ-স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক ডা. এস এম রফিকুল ইসলাম জানান, সর্বশেষ শ্রীপুর পৌরসভা নির্বাচনে মেয়র পদে প্রার্থী হয়ে নির্বাচনে অংশ নিয়েছিলেন অ্যাডভোকেট কাজী খান। তার প্রথম জানাজার নামাজ আজ বাদ জোহর শ্রীপুর সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে অনুষ্ঠিত হবে। পরে তার জন্মস্থান বেড়াইদের চালা গ্রামে তার দ্বিতীয় জানাজার নামাজ বাদ আসর ধনাই বেপারী উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে অনুষ্ঠিত হবে।