বৃষ্টির কারণে অ্যাডিলেডে ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের ম্যাচটি বন্ধ ছিল ৫০ মিনিট। খেলা আর মাঠে না গড়ালে টাইগাররা জিততে পারত ১৭ রানে। তবে বর্ষণ থামার পর খেলা খেলা শুরু হলে নতুন লক্ষ্য দাঁড়ায় ১৫১। তবে শেষ বলে সাকিব আল হাসানের দল হারে ৫ রানে। কিন্তু ম্যাচ শেষে জানা গেল টাইগারদের অভিযোগ আমলে না নেওয়ায় হারতে হয়েছে টাইগারদের। নয়তো শেষ বলে জয় নিয়েই মাঠ ছাড়ত লাল-সবুজরা।
ভারতের বিপক্ষে ম্যাচে বাংলাদেশের ব্যাটিং ইনিংসে ‘ফেক ফিল্ডিং’-এর কারণে ৫ রান না পাওয়ার অভিযোগ করেছেন উইকেটকিপার-ব্যাটসম্যান নুরুল হাসান। ম্যাচশেষে মিক্সড জোনে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় তিনি এ নিয়ে আক্ষেপ করেন।
বিরতির পর খেলা শুরু হলে একবার রান নিতে গিয়ে পিছলে পড়ে যান লিটন দাস। ভেজা মাঠে খেলা চালিয়ে যাওয়ার প্রসঙ্গে কথা বলতে গিয়ে নুরুল বলেন, ‘অবশ্যই মাঠ যে ভেজা আপনারাও দেখছেন বাইরে থেকে আমরাও দেখছি। শেষ পর্যন্ত আমার কাছে মনে হয় যে যখন আমরা কথা বলি, একটা ‘ফেক থ্রো’ ছিল। যেটায় ৫ রান পেনাল্টি হয়তো হতে পারত। যেটা আমাদের দিকে আসতে পারত। দুর্ভাগ্যবশত সেটাও আসেনি।’তবে কোন ওভারের কোন ডেলিভারির পর এমন ঘটেছে, নুরুল সেটি নিশ্চিত করেননি।
ঘটনাটি বৃষ্টি নামার আগের। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া এক ভিডিওতে দেখা গেছে, সপ্তম ওভারের খেলা চলার সময় আক্সার প্যাটেলের বলে ব্যাকওয়ার্ড পয়েন্টের সীমানার দিকে খেলেছিলেন লিটন। সেখানে ফিল্ডার ছিলেন অর্শদীপ সিং। অর্শদীপের থ্রো উইকেটকিপার দীনেশ কার্তিকের কাছে পৌঁছানোর আগেই ব্যাকওয়ার্ড পয়েন্টে থাকা বিরাট কোহলি থ্রোয়ের মতো অঙ্গভঙ্গি করেন।
ভিডিও ক্লিপ দেখে এটিকে পরিষ্কার ফেক ফিল্ডিং বলেই মনে হয়েছে। উইকেটে থাকা ব্যাটসম্যান নাজমুল হোসেন শান্ত তাৎক্ষনিক অভিযোগ করেন আম্পায়ারের কাছে। তবে আম্পায়ার তাকে জানান, এরকম কিছু তাদের চোখে পড়েনি। যদিও ভিডিও ক্লিপে দেখা গেছে, লেগ আম্পায়ারের খুব কাছেই ছিলেন কোহলি।
ওই ওভার শেষেই বৃষ্টিতে বন্ধ হয় খেলা। বৃষ্টি বিরতিতে বাংলাদেশ দলের টেকনিক্যাল কনসালটেন্ট শ্রীধরন শ্রীরামও আম্পায়ারদের সঙ্গে গিয়ে কথা বলেন এটা নিয়ে। আম্পায়াররা তখনও বলেন, তারা এরকম কিছু দেখেননি।
ক্রিকেট আইনের ৪১.৫.১ ধারায় বলা আছে, স্ট্রাইকার বল খেলার পর কোনো ফিল্ডার ইচ্ছাকৃতভাবে কথা বা কাজ দ্বারা যেকোনো ব্যাটারের মনোযোগ সরিয়ে দেওয়ার বা ধোঁকা দেওয়ার চেষ্টা করলে সেটি ‘আনফেয়ার প্লে’ বলে বিবেচ্য হবে। এ ক্ষেত্রে এমন কিছু হয়েছে কি না, সে ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেবেন আম্পায়াররা। এমন কোনো কিছু আম্পায়াররা মনে করলে ওই বলকে ডেড ঘোষণা করা হবে, সঙ্গে ব্যাটিং দলের স্কোরে পেনাল্টি হিসেবে ৫ রান যোগ হবে।