সংসদে কাদের

আগুন সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে খেলা হবে

খেলা অব্যাহত থাকবে এমন ইঙ্গিত দিয়ে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, ‘খেলা হবে। আমি বলছি খেলা হবে খুনের রাজনীতির বিরুদ্ধে। খেলা হবে সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে। খেলা হবে আগুন সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে। খেলা হবে দুর্নীতির বিরুদ্ধে। খেলা হবে লুটপাটের বিরুদ্ধে। খারাপ কী বলেছি? খেলা হবে।’

গতকাল বুধবার জাতীয় সংসদে অনির্ধারিত আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। বৈঠকের শেষ পর্যায়ে বিএনপিদলীয় সংসদ সদস্য (এমপি) হারুনুর রশীদকে অনির্ধারিত বক্তব্যের সুযোগ দেন স্পিকার। এ সময় ‘খেলা’কে জনদুর্ভোগের সঙ্গে তুলনা করে তিনি ‘খেলা’ বন্ধের দাবি জানান। জবাবে কাদের ‘খেলা’ অব্যাহত থাকবে বলে কড়া জবাব দেন। সেতুমন্ত্রীকে উদ্দেশ করে হারুন বলেন, ‘মন্ত্রী প্রায়ই বলছেন খেলা হবে। আমরা এমন খেলা দেখতে চাচ্ছি না যাতে মানুষ দুর্ভোগে পড়ে। সরকারকে বলব রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে ফিরে আসুন। দীর্ঘদিন যাবৎ বিরোধী দলকে যে সভা-সমাবেশ করতে দেন না, সেই জায়গায় একটি শান্তিপূর্ণ পরিবেশ ফিরিয়ে আনুন। আমি মনে করি, খেলা বন্ধ করুন। খেলা বন্ধ করে সত্যিকার অর্থে দেশকে একটি গণতান্ত্রিক পথে নিয়ে যাওয়ার পদক্ষেপ গ্রহণ করুন।’

জবাবে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘যেদিকে তাকান ফ্লাইওভার, আন্ডারপাস, ওভারপাস। আপনাদের সময় কী ছিল? জিরো। ওই জিরোর বিরুদ্ধে খেলা হবে। ওই জিরো যে করছেন, ভোগান্তিতে রাখছেন লাখো-কোটি মানুষকে। তার বিরুদ্ধে খেলা হবে।’

বিএনপির জনসভাকে কেন্দ্র করে পরিবহন ধর্মঘট নিয়ে হারুনের অভিযোগের জবাবে তিনি বলেন, ‘বাস ধর্মঘট কেন হয়েছে শিমুল বিশ্বাসকে (বিএনপির চেয়ারপারসনের বিশেষ সহকারী) জিজ্ঞাসা করুন? তিনি সড়ক পরিবহন সমিতির সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট। সেক্রেটারি বাসদ, প্রেসিডেন্ট আওয়ামী লীগের শাজাহান খান। আর মালিক সমিতির প্রেসিডেন্ট জাতীয় পার্টির মশিউর রহমান রাঙ্গা, সেক্রেটারি আওয়ামী লীগের এনায়েত। ভাইস প্রেসিডেন্ট শ্রমিক ফেডারেশনের শিমুল বিশ্বাস। সে কোন দলের? সে একটা স্টেটমেন্ট দেয় না কেন? তাকে জিজ্ঞাসা করেন। সে কি বিএনপি? নাকি অন্য কোনো দল? আপনাদের দলের নেতা। তাকে জিজ্ঞেস করেন।’

এ সময় হারুন হেসে উঠলে জবাবে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘হাসেন কেন? আগুনে বাস পুড়িয়েছেন তো? বাসওয়ালারা এখন আর বিশ্বাস করে না। এরা বিএনপিকে দেখলেই মনে করে আগুন নিয়ে আসছে। বিএনপিকে দেখলেই মনে করে পেট্রোল বোমা। বিএনপিকে দেখলেই মনে করে ককটেল। এখন আবার পতাকা! লাঠিসোটার সঙ্গে বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা। এসবের বিরুদ্ধে খেলা হবে।’