গতবারের ফাইনালিস্টদের আজ ভাগ্য নির্ধারণ

নিউজিল্যান্ড বনাম আয়ারল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়া বনাম আফগানিস্তান। নিউজিল্যান্ড ও অস্ট্রেলিয়ার পয়েন্ট ৫ করে। আয়ারল্যান্ড ৩ ও আফগানিস্তান ২ পয়েন্ট নিয়ে সেমিতে ওঠার হিসাব-নিকাশে নেই। যারা আছে সেই ইংল্যান্ড ৫ পয়েন্ট নিয়ে কাল ৪ পয়েন্ট পাওয়া শ্রীলঙ্কার সঙ্গে গ্রুপ ১-এর শেষ ম্যাচ খেলবে।

তুলনামূলক সহজ দুই প্রতিপক্ষের বিপক্ষে তাসমান প্রতিবেশী অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ড জিতলেই এগিয়ে যাবে সেমিফাইনালের পথে। নিউজিল্যান্ডের নিশ্চিতই হবে, কারণ রান রেটে অনেক এগিয়ে তারা। তবে আফগানিস্তানকে হারিয়েও লাভ হবে না অস্ট্রেলিয়ার, যদি ইংল্যান্ড কাল শ্রীলঙ্কাকে হারায়। রান রেটের মারপ্যাঁচে বাদ পড়বে বর্তমান বিশ্বকাপজয়ী ও আয়োজক অস্ট্রেলিয়া। সে ক্ষেত্রে এই গ্রুপ থেকে নিউজিল্যান্ডের সঙ্গী হয়ে সেমিতে যাবে ইংল্যান্ড। অজিদের চেয়ে আজ তাই একটু নির্ভারই থাকবে কিউইরা।

আফগানদের সঙ্গে এই প্রথম টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলবে অস্ট্রেলিয়া। অভিষেক লড়াইয়ে স্বাগতিকদের জয়ের ব্যবধান বড় হওয়া চাই। তার কারণ রান রেট। গ্রুপে নিউজিল্যান্ড ও ইংল্যান্ডের মতো ৫ পয়েন্ট পেলেও রান রেটে তারা নেতিবাচক অবস্থানে, -০.৩০। অথচ সবার ওপরে থাকা নিউজিল্যান্ডের ২.২৩ ও দ্বিতীয় ইংল্যান্ডের ০.৫৪। অস্ট্রেলিয়ার জয়ের ব্যবধানটা অনেক বেশি হবে এটাও বলা যাচ্ছে না অনায়াসে। শিরোপা ধরে রাখার আসরে দলটি কেমন গড়পড়তা হয়ে পড়েছে। পুরো আসরে নিশ্চুপ গতবার শিরোপাজয়ী মিশনের নায়করা। শ্রীলঙ্কার সঙ্গে পার্থে একমাত্র স্টয়নিসই যা কিছু ঝলক দেখিয়েছেন। ওয়ার্নার-মিচেল মার্শ-ম্যাক্সওয়েল-হ্যাজেলউড-স্টার্করা নিজেদের ছায়া হয়ে আছেন। যে কারণে এই আসরের পর অনেকের টি-টোয়েন্টি ভবিষ্যৎই শেষ হতে যাচ্ছে। আফগানদের চেয়ে সবদিক থেকেই এগিয়ে অজিরা। আফগানদের বোলিং লাইনের মতো ব্যাটিং লাইন অতটা শক্তিশালী নয়। তবে অস্ট্রেলিয়ার জন্য সবচেয়ে হতাশার বিষয় ভাগ্যটাই যে নিজেদের হাতে নেই। সব তারকা একসঙ্গে জ্বলে উঠলেও নিউজিল্যান্ড বা ইংল্যান্ডের হারের ওপর নির্ভর করছে তাদের সেমিফাইনাল সম্ভাবনা।

এদিকে আসরে ডার্কহর্স হয়ে এসেও হতাশ করেছে আফগানিস্তান। টুর্নামেন্টে এখন পর্যন্ত জিততে ব্যর্থ হওয়া একমাত্র দল তারা। অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে টুর্নামেন্টে আরেকটি অঘটন উপহার দিতে আজকের ভেন্যু তাদের স্বপ্ন দেখাতে পারে। টি-টোয়েন্টিতে আফগানরা যে মানের ক্রিকেট খেলেন তা অ্যাডিলেডের পিচের সঙ্গে যায়। তাছাড়া অ্যাডিলেড স্ট্রাইকার্সের ঘরের ছেলে রশিদ খান নামবেন নিজের বিগ ব্যাশ মাঠে। তবুও রান-উর্বর পিচে রশিদ-মুজিবদের টপকে বড় রান করে বড় জয়ের পথ তৈরি করতে পারে অজিরা।

নিজেদের দুপুরের ম্যাচ শেষ করে অজিরা নিশ্চিত বসে যাবেন টিভি সেটের সামনে। সন্ধ্যায় পরের ম্যাচে তারা পুরোদস্তুর আইরিশ সমর্থক হবেন আজ। ইংল্যান্ডকে বিশ্ব আসরে দ্বিতীয়বার হারিয়ে দেওয়া দলটির কাছে আজও এক অঘটন চাইবে অস্ট্রেলিয়া। নিউজিল্যান্ড হারলে কাল ইংল্যান্ড-শ্রীলঙ্কা ম্যাচে আর মাথা ঘামাতে হবে না স্বাগতিকদের। নিউজিল্যান্ডের হারের স্বপ্ন দেখার আরেকটি কারণ গত ম্যাচ। ওই ম্যাচে জয়ের দারুণ সম্ভাবনা থাকলেও তা মুঠোয় আনতে ব্যর্থ হয় কিউইরা। ৭ উইকেট হাতে নিয়ে ২৭ বলে ৫৪ রানের প্রয়োজনীয়তা মেটাতে পারেনি তারা। ইংল্যান্ডের সঙ্গে কিউইদের ওই হার আশান্বিত করছে অস্ট্রেলিয়াকে। ইংল্যান্ডের সঙ্গে হারের আগে দুই জয় আগে ব্যাট করেই পেয়েছিল নিউজিল্যান্ড। রান চেজে আটকেছে তারা ইংল্যান্ডের কাছে। অজিদের আজকের প্রার্থনা থাকবে কিউইরা যেন পরে ব্যাট করে। তাছাড়া গ্লেন ফিলিপস ছাড়া প্রথম ম্যাচের পর আর কোনো ব্যাটারই দাপটের সঙ্গে দাঁড়াতে পারছেন না।

এই সুযোগটাই নিতে পারে দলগত শক্তিতে উজ্জীবিত আয়ারল্যান্ড। ইংল্যান্ডকে হারানোর বৃষ্টিবিঘিœত ম্যাচটিতে দারুণ মিলিত বোলিং পারফরম করে তারা। নিউজিল্যান্ড পরে ব্যাট পেলে আজ আইরিশদের কার্যকর বোলিং ব্ল্যাকক্যাপসদের কাল হতে পারে। আবার ব্যাটিংয়েও কোনো এক ব্যাটারের ওপর নির্ভর নয় আয়ারল্যান্ড। প্রথম রাউন্ড থেকে পল স্টার্লিং, হ্যারি টেকটর, অ্যান্ডি বলবার্নি ও লরকান টাকার দাঁড়িয়ে গেছেন ব্যাট হাতে। আফগানদের সঙ্গে ম্যাচটি বৃষ্টিতে প- না হলে ৩ পয়েন্ট পাওয়া আইরিশদের পয়েন্টের অবস্থাও ভালো হতে পারত। তখন সেমিফাইনালের দৌড়ে আজ তারাও লড়াইয়ে থাকত। সেই সম্ভাবনা নেই আইরিশদের সামনে। তবে অঘটনে আরও এক রোমাঞ্চকর ম্যাচ উপহার দেওয়ার সুযোগ তো আছে।

তাসমানপাড়ের দুই প্রতিবেশীর আজকের প্রতিপক্ষ কাগজে-কলমে দুর্বল। তবে সেমিফাইনাল পথে এগিয়ে যাওয়ার চাপে দুই দল নিজেরাই আজ চাপে থাকবে।