পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও তেহরিক-ই ইনসাফ (পিটিআই) দলের প্রধান ইমরান খান বন্দুক হামলা থেকে বেঁচে গেছেন মূলত তার দলের এক কর্মীর সাহসিকতায়। ইমরান খানকে নিশ্চিত মৃত্যুর হাত থেকে বাঁচিয়ে দিয়েছেন ৩০ বছর বয়সী ওই যুবক। ঠিক সময়ে তিনি তৎপর না হলে নিহতও হতে পারতেন ইমরান।
ইমরান খানের প্রাণ বাঁচিয়ে পাকিস্তানজুড়ে প্রশংসায় ভাসা ওই যুবক এআরওয়াই নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, ‘আমি দাঁড়িয়েছিলাম, হঠাৎ দেখলাম আমার থেকে ১০-১২ ফুট দূরে এক ব্যক্তি পিস্তল বের করে (ইমরান খানের দিকে) তাক করছে। এ সময় আমি ছুটে গিয়ে তাকে ধরে ফেলি।’
‘আমি (তার কাছে) পৌঁছানোর আগেই সে এক রাউন্ড গুলি করে ফেলেছে। তার কাছে পৌঁছে আমি প্রথমেই তার বন্দুক ধরা হাতটি ধরে ফেলি। এ সময় (হামলাকারী) যেসব গুলি ছুড়েছে সেগুলো একটাও আর ঠিক লক্ষ্যে আঘাত করতে পারেনি।’
ওই যুবক বলেন, ‘তারপরই সে আমার হাত ছাড়িয়ে সামনের দিকে ছুটে পালানোর চেষ্টা করে। আমিও তার পিছু দৌড়ে কয়েক মিনিটের মধ্যেই ধরে ফেলতে সক্ষম হই, আলহামদুলিল্লাহ। তারপর পুলিশ তাকে আটক করে নিয়ে যায়।’
সিসিটিভির ক্যামেরায়ও ধরা পড়েছে সেই মুহূর্তের ছবি। সেখানে বন্দুক হাতে দেখা যাচ্ছে হামলাকারীকে। তবে তার বন্দুকটির নল আকাশের দিকে তাগ করা। কারণ পেছন থেকে তার বন্দুক ধরা হাতটি টেনে ধরেছেন ওই যুবক। তার পরনে ছিল লাল-সাদা-নীল একটি টি-শার্ট।
পাকিস্তানের জিও টিভি বলছে, ওই বন্দুক থেকে মোট ছয় রাউন্ড গুলি চলেছে। তবে লক্ষ্যে আঘাত করেনি। আর নয়তো কেবল ইমরান নয়, আরও অনেকেরই প্রাণ যেতে পারত।
ইমরান খান সহ বাকীদের প্রাণ বাঁচানো ওই যুবক এখন পাকিস্তানজুড়ে প্রশংসায় ভাসছেন। ওই যুবকের নাম এখনও জানা যায়নি। ওই যুবককে নায়কের আসনে বসিয়েছেন অনেকেই। একটি টিভি ফুটেজে দেখা যাচ্ছে তাকে কাঁধে করে বয়ে নিয়ে যাচ্ছেন পিটিআই সমর্থকরা। এমনকি সামাজিক যোগযোগমাধ্যমে ওই যুবকের ছবি পোস্ট করে তারা হ্যাশট্যাগ দিয়েছেন ‘আমাদের নায়ক’।
পাকিস্তানের কোনো সংবাদমাধ্যমই অবশ্য এখন পর্যন্ত ওই যুবেকর নাম-পরিচয় প্রকাশ করেনি।
পাকিস্তানের পূর্বাঞ্চলীয় পাঞ্জাবের ওয়াজিরাবাদ শহরে লংমার্চের সময় বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় সন্ধ্যার দিকে ইমরান খানের ওপর এই হামলার ঘটনা ঘটে। একে-৪৭ অস্ত্র থেকে গুলি চালায় এক হামলাকারী।
হামলাকারী পুলিশের কাছে দেওয়া ভিডিও বিবৃতিতে বলেছেন, ইমরান খান লোকজনকে বিভ্রান্ত করেছেন। যে কারণে তিনি ইমরান খানকে হত্যার চেষ্টা করেছেন।
‘ইমরান খান লোকজনকে বিভ্রান্ত করেছেন। আমি তাকে সহ্য করতে পারছিলাম না। যে কারণে তাকে হত্যা করতে চেয়েছিলাম। তাকে হত্যার চেষ্টা করেছি।’
তিনি বলেন, ‘আমি ইমরান খানকে হত্যার জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়েছি। আমি কেবল ইমরান খানকে হত্যা করতে চেয়েছিলাম। এছাড়া আমার আর কাউকে হত্যার উদ্দেশ্য ছিল না।’
হামলাকারী এই যুবক বলেন, ইমরান খান লাহোর ছেড়ে যাওয়ার পর থেকে হত্যার পরিকল্পনা করছিলেন তিনি। তবে এই হামলায় তার কোনও সহযোগী আছে কিনা জানতে চাইলে মাথা নাড়িয়ে নেতিবাচক জবাব দেন হামলাকারী। বলেন, ‘আমার সাথে আর কেউ ছিল না। আমি একাই ছিলাম।’
ইমরান খানের সহযোগী রউফ হাসান বলেন, ইমরান খানকে গুলি করা এক হামলাকারী নিহত হয়েছেন। অন্য একজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তিনি বলেন, এটা ছিল পুরোপুরি হত্যাচেষ্টা। তাকে গুপ্তহত্যার চেষ্টা করেছে। এক হামলাকারী গুলিতে নিহত হয়েছেন। অপরজনকে জিম্মায় নিয়েছে পুলিশ।
পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদ থেকে ২০০ কিলোমিটার দূরে পাঞ্জাব প্রদেশের ওয়াজিরাবাদে এই হামলার ঘটনা ঘটেছে। সাবেক ক্রিকেট তারকা থেকে রাজনীতিক বনে যাওয়া ৭০ বছর বয়সী ইমরান খান দেশটিতে আগাম নির্বাচনের দাবিতে লংমার্চ করছেন।
হামলার ঘটনায় ইমরানের পায়ে গুলি লাগে। গুলিবিদ্ধ ইমরানকে লাহোরের শওকত খানম হাসপাতালে নেওয়া হয়। তার চিকিৎসক ফয়সাল সুলতান জানিয়েছেন, পিটিআই চেয়ারম্যান ইমরান খানের অবস্থা স্থিতিশীল। তিনি ভাল হয়ে উঠছেন।
আরও পড়ুন...