ফিফা র্যাংকিংয়ে বর্তমানে দুই নম্বরে বেলজিয়াম। ফুটবলের বড় কোনো শিরোপা না জিতেও ২০১৮ এর অক্টোবর থেকে ২০২২’র ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত তারা ছিল ফিফা র্যাংকিংয়ে এক নম্বরে। আর এমনটি সম্ভব হয়েছে বেলজিয়ামের সোনালি প্রজন্মের ধারাবাহিক পারফরম্যান্সে। গেল দশ বছর ধরে খেলতে থাকা দলটিকেই বলা হচ্ছে বেলজিয়ামের সোনালি প্রজন্ম। ২০১৪ বিশ্বকাপে কোয়ার্টার থেকে বাদ পড়া বেলজিয়াম। ২০১৮ রাশিয়া বিশ্বকাপে হয় তৃতীয়, যা দেশটির বিশ্বকাপ ইতিহাসে সেরা সাফল্য। তবে বেলজিয়ামের অধিনায়ক ইডেন হ্যাজার্ডের মতে গোল্ডেন জেনারেশন ট্যাগের যথার্থতা প্রমাণে কাতারে বিশ্বকাপ জেতা দরকার।
হ্যাজার্ড বাদেও কেভিন ডি ব্রুইনে, থিবো কর্তোয়া, রোমেলু লুকাকু, ইয়ানিক কারাসকো, ইউরি টেলেসমানরা আছেন বেলজিয়াম দলে। এই দলটি নিজেদের দিনে বিশ্বকাপে যে কোনো দলকে হারানোর ক্ষমতা রাখে। বিশ্বকাপ বাছাইতেও নিজেদের গ্রুপে ১০ ম্যাচের আটটিতে জয়, দুটি ড্র করেছে বেলজিয়াম। বাছাইতে তারা গোল করেছে ২৫টি, গোল খেয়েছে মাত্র ছয়টি। বেলারুশকে এক ম্যাচেই তারা দিয়েছে আট গোল। বাছাইতে দলের হয়ে সর্বোচ্চ পাঁচ গোল করেন রোমেলু লুকাকু। যাদের হাত ধরে বেলজিয়ামের সোনালি প্রজন্মের শুরু, তাদের অনেকেরই বয়স বিবেচনায় হয়তো এটিই হবে শেষ বিশ্বকাপ। তবে সঙ্গে আছে কিছু তরুণ খেলোয়াড়ও। ফলে কাতার বিশ্বকাপে বেলজিয়াম ভালো করলে অবাক হওয়ার কিছু নেই।
দু’মাসের ইনজুরি কাটিয়ে মাঠে ফিরেছিলেন লুকাকু। গেল ৩১ অক্টোবর ইন্তার মিলানের হয়ে ম্যাচের সময় ফের ইনজুরিতে পড়েন। ফলে তার কাতার বিশ্বকাপ খেলা নিয়ে দেখা দিয়েছে শঙ্কা। ২০১৮ বিশ্বকাপে টানা দুই ম্যাচে জোড়া গোল করেছিলেন এই ফরোয়ার্ড। থিবো কর্তোয়া এ বছরের ব্যালন ডি’অর পুরস্কারে জিতেছেন ইয়াশিন ট্রফি (সেরা গোলরক্ষক)। ব্যালন ডি’অরের দৌড়ে তৃতীয় হয়েছেন ডি ব্রুইনে। বেলজিয়ামের মধ্যমাঠের কা-ারি তিনি। নিয়মিত পারফর্ম করছেন ম্যানচেস্টার সিটির হয়ে। গোলও করছেন। মাঝমাঠের বেলজিয়ান সতীর্থ আক্সেল ভিটসেলের চোখে ডে ব্রুইনে জাদুকর। ‘সে একজন জাদুকর। তার সঙ্গে খেলতে পারাটা সম্মানের। অন্যরা যেটা দেখতে পায় না, সে দেখতে পায় এবং বছরের পর বছর সে এমন পারফরম্যান্স করে যাচ্ছে।’
৩১ বছরের হাজার্ড এই মৌসুমে ক্লাবের হয়ে এখন পর্যন্ত মাঠে ছিলেন ছয় ম্যাচে। খেলেছেন ২২৯ মিনিট। করেছেন একটি গোল, অ্যাসিস্ট একটি। তবে হাজার্ড জাতীয় দলের হয়ে ছন্দে থাকলে তা দলের জন্যই উপকার হবে। লেফট উইঙ্গার লিয়ান্দ্রো ট্রোসার্ড আছেন ফর্মে। ইংলিশ ক্লাব ব্রাইটনের হয়ে ১২ ম্যাচে করেছেন ৭ গোল, অ্যাসিস্ট দুটি।
এবারের নেশন্স লিগে বেলজিয়াম ছয় ম্যাচের তিনটি জিতেছে, একটি ড্র করেছে। নেশন্স লিগে চার নম্বর গ্রুপে তাদের সঙ্গে ছিল নেদারল্যান্ডস, পোল্যান্ড ও ওয়েলস। নিজেদের সবশেষ ম্যাচে ডাচদের সঙ্গে ১-০ গোলে হেরেছে বেলজিয়াম। তার আগে ঘরের মাঠে নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে তারা হেরেছে ৪-১ গোলে। ২০২০ ইউরোতে কোয়ার্টার ফাইনালে ইতালির কাছে হেরে বাদ পড়েছিল বেলজিয়াম।
২০২১ এর অক্টোবর থেকে ধরলে ১২ ম্যাচের পাঁচটি জিতেছে বেলজিয়াম। চারটি হার, ড্র তিনটি। বেলজিয়ামের কোচ রবার্তো মার্তিনেজ দলের সঙ্গে আছেন ২০১৬ সালের আগস্ট থেকে। কাতার বিশ্বকাপে দলের সঙ্গে কোচ মার্তিনেজের অভিজ্ঞতাও কাজে দেবে বেলজিয়ামের।
ফিফার ওয়েবসাইটে হ্যাজার্ড বলেছেন, ‘২০১৮ সালের চেয়ে ভালো করতে চাই। দারুণ একটি দলের অধিনায়ক হতে পেরে আমি ভাগ্যবান। আমাদের আকাক্সক্ষা সর্বোচ্চ সাফল্য পাওয়া। সব সময়ই সোনালি প্রজন্ম নিয়ে কথা হয়। আমরা একসঙ্গে দশ বছরের মতো সময় পার করেছি। এখন তরুণ খেলোয়াড়ও আসছে। কিন্তু এখনো আমরা কিছু জিততে পারিনি। সোনালি প্রজন্ম ট্যাগটার যথার্থতা প্রমাণে কিছু (বিশ্বকাপ) জিততে হবে।’