শারমিন আক্তারের এইচএসসি পরীক্ষা শুরু সকাল ১১টায়। তার ঠিক এক ঘণ্টা আগে সকাল ১০টায় তার মায়ের মরদেহ বাড়িতে প্রবেশ করে। পরিবারের অন্যদের মতো সেও কান্নায় ভেঙে পড়ে। পরীক্ষা না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। কিন্তু পরিবার ও স্বজনদের অনুরোধে মায়ের মরদেহ বাসায় রেখেই গতকাল রবিবার পরীক্ষায় অংশ নেয় শারমিন। এমন হৃদয়বিদারক ঘটনা ঘটেছে পিরোজপুরের ভা-ারিয়া উপজেলার গৌরীপুর ইউনিয়নে। শারমিন ওই ইউনিয়নের উত্তর পৈকখালী গ্রামের ফারুক ফকিরের ছোট মেয়ে। সে ভান্ডারিয়া সরকারি কলেজের মানবিক বিভাগের মেধাবী শিক্ষার্থী।
জানা যায়, শারমিনের মা শিউলি বেগম দীর্ঘদিন যাবৎ লিভার ও কিডনি রোগে আক্রান্ত ছিলেন। গত শনিবার রাত ২টার দিকে ঢাকার একটি হাসপাতালে মারা যান তিনি।
ভান্ডারিয়া সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক আমানউল্লাহ খান বলেন, ‘মেয়েটি আমাদের কলেজের মেধাবী শিক্ষার্থী। মায়ের মৃত্যুতে তাকে মানসিক সাপোর্ট দেওয়ার জন্য আমিসহ কলেজের শিক্ষকরা সর্বাত্মক সহযোগিতা করেছি।’
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা জহিরুল ইসলাম বলেন, ‘ঘটনাটি আসলেই দুঃখজনক। সহপাঠী ও পরীক্ষা কেন্দ্র সচিবদের সহযোগিতায় সে পরীক্ষা দেয়।’