বগুড়ায় কৃষক হত্যার ১৬ বছর পর একজনের যাবজ্জীবন

বগুড়ায় কৃষক নুরুল ইসলাম হত্যাকাণ্ডের ১৬ বছর পর আসেদ আলী নামে একজনকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একসাথে ২০ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে ৬ মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়।

এ মামলায় অপরাধ প্রমাণিত না হওয়ায় অপর দুই আসামিকে বেকসুর খালাস দেয়া হয়েছে।

রবিবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে বগুড়ার অতিরিক্ত দায়রা জজ আদালতের বিচারক হাবিবা মন্ডল এ রায় ঘোষণা করেন।

জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে ২০০ সালের ১০ মার্চ জেলার গাবতলী উপজেলার শিলদহবাড়ী গ্রামে নুরুল ইসলাম হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।

যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত আসেদ আলী গাবতলী উপজেলার শিলদহবাড়ী গ্রামের মোসলেম উদ্দিন মোল্লার ছেলে।

এ মামলায় বেকসুর খালাস পাওয়া অপর দু'জন হলেন- যাবজ্জীবন কারাদণ্ড পাওয়া আসেদ আলীর স্ত্রী ইমু বেগম ও একই এলাকার মৃত জসিম উদ্দিন মোল্লার স্ত্রী আনোয়ারা বেওয়া।

মামলা সূত্রে জানা যায়, ২০০৬ সালের ১০ মার্চ জুম্মা নামাজের পর বাড়িতে আসে কৃষক নুরুল ইসলাম। এ সময় কৃষক নুরুল ইসলামের বাড়ির সীমানার ভেতর দণ্ডিত আসেদ আলী ও তার লোকজন লাউ গাছে মাঁচা বানাচ্ছিল।

কৃষক নুরুল ইসলাম তার জায়গায় মাচা বানানের বিষয়ে জিজ্ঞেস করলে আসেদ আলী তার হাতে থাকা কোদাল দিয়ে মাথায় আঘাত করেন।

অন্যরা তাকে এলোপাতাড়ি মারধর করেন। মামলার বাদী কৃষক নুরুলের স্ত্রী মোমেনা খাতুন ও সন্তানের এগিয়ে আসলে তাদেরও মারধর করা হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় প্রথমে কৃষক নুরুল ইসলামকে গাবতলী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে বগুড়া মোহাম্মদ আলী হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।

১০ মার্চ দিবাগত রাত ৩টার দিকে মোহাম্মাদ আলী হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। পরে নিহত কৃষক নুরুল ইসলামের স্ত্রী মোমেনা খাতুন বাদী হয়ে ৩জনকে আসামি করে গাবতলী থানায় মামলা করেন।

মামলার রায়ের বিষয়ে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী নাসিমুল বারী হলি জানান, দীর্ঘ ১৬ বছর পর ১৩ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ শেষে কৃষক নুরুল ইসলাম হত্যাকাণ্ডে আসেদ আলীকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও অপর দুই আসামিকে বেকসুর খালাস দিয়েছে আদালত।