মির্জাপুরে ঘুষ না দেওয়ায় শিক্ষক বরখাস্ত

টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে বৈধভাবে নিয়োগপ্রাপ্ত এক প্রধান শিক্ষককে অবৈধভাবে চূড়ান্ত বরখাস্তের অভিযোগ পাওয়া গেছে। চাহিদামতো আট লাখ টাকা দিতে না পারায় ওই শিক্ষককে বরখাস্ত করা হয়েছে বলে ভুক্তভোগী শিক্ষক অভিযোগ করেন।

গতকাল সোমবার সকালে মির্জাপুর প্রেস ক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে এসব অভিযোগ করেন উপজেলার আদাবড়ী গহের আলী উচ্চবিদ্যালয়ের বরখাস্তকৃত প্রধান শিক্ষক মো. মশিউর রহমান।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন ওই বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা প্রধান শিক্ষক হায়দার আলী তালুকদারের ছেলে একটি কিন্ডারগার্টেন স্কুলের পরিচালক জিয়াউল হায়দার শাকিল এবং নাতি শাহরিয়ার অরুরা।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে ভুক্তভোগী শিক্ষক বলেন, ‘নিয়োগ-প্রক্রিয়ার সব নিয়ম মেনে পরীক্ষায় প্রথম হয়ে ২০১৮ সালের ৩০ এপ্রিল আমি ওই বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক হিসেবে যোগদান করি। যোগদানের পরই বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক আবুল কালাম আজাদ নিয়োগ-সংক্রান্ত বিষয়ে টাঙ্গাইল জজ কোর্টে মামলা করেন। সাড়ে তিন বছর পর আপস-মীমাংসার মাধ্যমে ওই মামলা নিষ্পত্তি হয়। নিয়োগের পর থেকে আমি সরকারি অংশের কোনো বেতন পাইনি। জজ কোর্টের মামলা আপসের পর ওই বিদ্যালয়ের সাবেক প্রধান শিক্ষক রায়হানুল আলম মোহসীন আমার নিয়োগের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে একটি রিট পিটিশন করেন। কিন্তু রিট পিটিশন নিষ্পত্তি হওয়ার আগেই বাদী রিট পিটিশনটি প্রত্যাহার করে নেন।’

তিনি আরও বলেন, ‘ওই সাবেক প্রধান শিক্ষক শিক্ষা অধিদপ্তর বরাবর আমার নিয়োগ “অবৈধ” এবং অপসারণ দাবি করে একটি অভিযোগ করেন। মাধ্যমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক এ ব্যাপারে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি করে দেন। ওই তদন্ত কমিটি চলতি বছরের ২০ মার্চ আমার পক্ষে এমপিওর সুপারিশ করে এবং এই সুপারিশের একটি কপি বিদ্যালয় ব্যবস্থাপনা কমিটিকেও দেওয়া হয়। কিন্তু ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্যরা তা অমান্য করে আমার কাছে টাকা দাবি করেন। দাবিকৃত টাকা দিতে না পারায় গত ৩১ অক্টোবর বিদ্যালয় ব্যবস্থাপনা কমিটি আমাকে চূড়ান্তভাবে বরখাস্ত করে।’

এ ব্যাপারে আদাবড়ী গহের আলী উচ্চবিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি ও মহেড়া ইউপি চেয়ারম্যান বিভাস সরকার নূপুরের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘মশিউর রহমানের নিয়োগ-প্রক্রিয়াটি ছিল অবৈধ।’