‘সুখবর, বিশাল মূল্য ছাড়, ডাক্তার আছেন।’ মাইকে এ ধরনের শব্দ শুনতে শুনতে এখন কান অনেকটাই ঝালাপালা রাজবাড়ীর গোয়ালন্দবাসীর। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত মাইকের উচ্চ শব্দে বাজারঘাট, বাসাবাড়িতে টিকে থাকা কঠিন হয়ে পড়েছে।
গোয়ালন্দ পৌর শহরের বাসিন্দা আশরাফুল ইসলাম বলেন, কোনো নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে মাইকের এমন উচ্চ শব্দে এখন শহরে টিকে থাকা দায় হয়ে পড়েছে।
সচেতন নাগরিক ও শিক্ষার্থীরা এর প্রতিকার চেয়েছেন। বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেইসবুকে এ নিয়ে অনেকে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। সেখানে অনেকেই এই মাইকিংকে বলেছেন, ‘এটা শব্দ সন্ত্রাস।’
বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা বলছেন, মানুষের শ্রবণের জন্য শব্দের ৪৫ ডেসিবেল হচ্ছে সহনীয় মাত্রা। তবে সেটা ৭০ ডেসিবেল অতিক্রম করলে তা ক্ষতিকর। কিন্তু পৌর শহরে প্রতিদিন যে হারে মাইকিং করা হচ্ছে তাতে অনেক সময় শব্দের মাত্রা ৭০ ডেসিবেলের কাছাকাছি চলে যায়। বিশেষ করে শিশুদের জন্য এটা খুবই ক্ষতিকর।
দেখা যায়, কোনো যানবাহনে বিশেষ করে অটোরিকশায় কখনো একটি বা দুটি মাইক বেঁধে উচ্চ শব্দে চলে এ ধরনের প্রচারণা। দীর্ঘ সময় ধরে এভাবে মাইকিং করতে আগের মতো দরকার পড়ে না ঘোষকের। ঘোষণাটি একবার রেকর্ড করে মোবাইলের মেমোরি কার্ডে নিয়ে মাইকে চলতে থাকে সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত।
সরেজমিনে দেখা যায়, গরু-মহিষ জবাই, বেসরকারি ক্লিনিক-ডায়াগনস্টিক সেন্টার, বিশেষজ্ঞ ডাক্তার, নতুন কিংবা পুরনো খাবারের হোটেল বা বিভিন্ন শপিং মলের বিশেষ ছাড়সহ বিভিন্ন ধরনের প্রচারে ব্যবহার করা হচ্ছে এসব মাইক।