দেশ কঠিন সময় পার করছে, এমন মন্তব্য করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান বলেছেন, জ্বালানির মূল্য কয়েকগুণ বেড়েছে। এটা সারা পৃথিবীর বাস্তবতা। শিল্প খাতে উৎপাদন অব্যাহত রাখতে গ্যাস আমদানি করতে হয়। পৃথিবীর বাস্তবতায় বাংলাদেশ এখনো ভালো অবস্থানে আছে। যদিও অনেক সময় অনেক কারখানায় গ্যাস সরবরাহ দেওয়া যাচ্ছে না। গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে রাজারবাগ পুলিশ অডিটরিয়ামে ইন্ডাস্ট্রিয়াল পুলিশের যুগপূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ইন্ডাস্ট্রিয়াল পুলিশ প্রধান ও অতিরিক্ত আইজিপি মাহাবুবর রহমান। সভায় প্রধানমন্ত্রীর শিল্পবিষয়ক ও বিনিয়োগ উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের সিনিয়র সচিব মো. আমিনুল ইসলাম, পুলিশের মহাপরিদর্শক চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুন, বিজিএমইএ সভাপতি ফারুক হাসান, সংসদ সদস্য শফিউল ইসলাম মহিউদ্দিন, শ্রমিক লীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা নূর কুতুব আলম মান্নান, নিট পোশাকশিল্পের মালিকদের সংগঠন বিকেএমইএর নির্বাহী সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
আসাদুজ্জামান খান বলেন, আগে দেখা যেত মালিকদের কেউ কেউ যখন শ্রমিকদের বেতন দিতে পারতেন না তখন বিক্ষোভ, ভাঙচুর, জ্বালাও-পোড়াও হতো। সে অবস্থা এখন বদলেছে। ব্যবসায়ী নেতাদের পরামর্শে প্রধানমন্ত্রী শিল্প পুলিশ গঠন করেন। ১৫ বছর আগের পুলিশ ও বর্তমান পুলিশ একদম আলাদা। বর্তমান পুলিশ দক্ষ-বিচক্ষণ। তাদের হাতেই শিল্প পুলিশের নিয়ন্ত্রণ। তিনি বলেন, ‘আমাদের গার্মেন্টসের মা-বোনেরা রাতে গার্মেন্টস থেকে বের হলে তার বেতনের টাকা ছিনতাই হতো। এখন শিল্প পুলিশ সেখানে সেতুবন্ধের মতো কাজ করছে। শিল্প পুলিশ শ্রমিকদের সুরক্ষা ও নিরাপত্তা, দেনা-পাওনা নিশ্চিত করছে।’
ঢাকায় ইন্ডাস্ট্রিয়াল পুলিশ গঠন করার ইচ্ছে নেই উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, ‘ঢাকায় আর লোকসংখ্যা বাড়ানো যাবে না। আমরা নিরুৎসাহিত করছি ঢাকায় শিল্প গড়া। বরং ঢাকা থেকে শিল্পপ্রতিষ্ঠান সরানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তবে আমি স্মরণ রাখব ঢাকায় ডিএমপির কয়েকজন কর্মকর্তা রেখে শিল্প-কারখানার শৃঙ্খলায় নজরদারি রাখা যায় কি না।’
বিশেষ অতিথির বক্তৃতায় বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান বলেন, ‘শিল্প খাতের নিরাপত্তার জন্যই শিল্প পুলিশের গঠন করা। শ্রমিকের চেয়ে বেশি কাজ করছে শিল্প পুলিশ। কখন কোথায়, কী ঘটতে পারে সেটা বিবেচনায় নিয়ে প্রো-অ্যাকটিভলি কাজ করছে তারা। তাই হয়তো শ্রমিকরাও এখন শিল্প পুলিশের প্রশংসা করেন।’ তিনি বলেন, ‘আমরা খুবই চ্যালেঞ্জিং সময়ের মধ্যে আছি। রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে অনেকে সুযোগ নিতে পারে। সেদিকে পুলিশকে খেয়াল রাখতে হবে।’