খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে যেন চলছিল পাকিস্তান। ডাচদের কাছে দক্ষিণ আফ্রিকার পরাজয়ে খুলেছিল তাদের কপাল। এতে শেষ চারে উঠার সুযোগ পেয়েছিল বাংলাদেশও। কিন্তু সাকিবরা যেন সেই সুযোগ পায়ে ঠেলেই বিদায় করলেন। কষ্টে-সৃষ্টে পাওয়া জয়ে বাবর আজমরা উঠেন সেমিফাইনালে। আর সেখানেই তারা ঘুরে দাঁড়ায় অবিশ্বাস্যভাবে। বিশ্বকাপের সুপার টুয়েলভ থেকেই যাদের বিদায়ের ঘণ্টা বেজে গিয়েছিল, সেই তারাই দারুণ নৈপুণ্য দেখিয়ে উঠে গেছে ফাইনালে।
ভারতের সঙ্গে হারের পর জিম্বাবুয়ের বিপক্ষেও করুণ পরাজয় মেনে নিতে হয় মোহাম্মদ রিজওয়ানদের। তবে দেশটির সাবেক ক্রিকেটাররা পাকিস্তানের বিদায় দেখে ফেলেছিলেন রোহিত শর্মাদের কাছে হারের পরই। কিন্তু বিশ্বাস হারাননি পাক ক্রিকেটাররা। বিশেষ করে দলটির উইকেটরক্ষক ব্যাটসম্যান রিজওয়ান। সেদিনই তিনি ফাইনালে খেলার প্রতিজ্ঞা করেছিলেন প্রধান কোচ সাকলায়েন মুশতাকের কাছে।
সিডনিতে সেমিফাইনালে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে জয়ের পর ভারতীয় প্রাক্তন ক্রিকেটার হরভজন সিং জানতে চেয়েছিলেন, পাকিস্তান যখন বাদ পড়ার দ্বারপ্রান্তে ছিল তখন ড্রেসিংরুমের পরিস্থিতি কেমন ছিল? কিভাবে ডাচ ও প্রোটিয়াদের ধাক্কা সামলানো এবং প্রচন্ড চাপে থেকেও কিভাবে তারা ঘুরে দাঁড়ালেন?
উত্তরে রিজওয়ান বলেন, ভারতের কাছে হারের পর সাকলাইন ভাই বলেছিলেন টুর্নামেন্টে ভিন্ন কিছু হবে। আমি বলেছিলাম, এখনও অনেক ম্যাচ বাকি আছে। জিম্বাবুয়ের কাছে হেরে যাওয়ার পরও একই প্রশ্ন এলে উত্তরটাও একই ছিল। তারপর আমরা বাকি যে খেলাগুলো ছিল, সেগুলো শুধুই উপভোগ করেছি। নেদারল্যান্ডস ও দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষের ম্যাচটি প্যাভিলিয়ন থেকে দেখেছিলাম, আমরা কোনো খেলাই এভাবে উপভোগ করিনি।’
আগামী রবিবার টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ফাইনালে ইংল্যান্ডকে মোকাবেলা করবে পাকিস্তান। এনিয়ে তারা তৃতীয়বার টুর্নামেন্টের ফাইনাল খেলছে। ২০০৭ সালে এই সংস্করণের বিশ্বকাপে প্রথমবার ফাইনাল খেলে তারা রানার্স-আপ হয়েছিল। পরে ২০০৯ সালে তারা চ্যাম্পিয়ন হয়।