বাগেরহাটে জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক নূরে আলম ভূঁইয়া তানু হত্যায় নয়জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ সময় হত্যায় ব্যবহৃত পিস্তল, গুলি ও ম্যাগজিন উদ্ধার করা হয়।
শনিবার রাতভর অভিযান চালিয়ে পিরোজপুর জেলার ইন্দুরকানি উপজেলা বালিপাড়া গ্রাম থেকে থেকে অস্ত্রসহ মামলার আসামি আটজনসহ মোট নয়জনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
তানু ভূঁইয়ার স্ত্রী কানিজ ফাতেমা বাদী হয়ে ফরিদ শেখকে প্রধান করে ১৭ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরো নাত-আটজনকে আসামি করে বাগেরহাট মডেল থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।
রোববার বেলা ১২টায় পুলিশ সুপারেরে কার্যালয়ে বাগেরহাট জেলার পুলিশ সুপার কে এম আরিফুল হক প্রেস ব্রিফিং করে সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান।
এ সময় বাগেরহাটের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ ও প্রশাসন) মো. আসাদুজ্জামান, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হেডকোর্য়াটার) রাসেলুর রহমান, বাগেরহাট সদর মডেল থানার ওসি কে এম আজিজুল ইসলাম, পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের গণমাধ্যম শাখার মূখপাত্র এ এস এম আশরাফুল আলমসহ গোয়েন্দা সংস্থার কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
আসামিরা হলেন, ফরিদ শেখ (২৮), মনির (২৬), রাতুল (২৭), সিরাজুল (২৭), আল আমিন (৩০), সুমন (২৬), সোহাগ (২৫), মুকুল শেখ (৫৩) এবং কবির (৫০)। এদের সবার বাড়ি বাগেরহাট শহরের পূর্ব বাসাবাটি এলাকায়। এর মধ্যে কবির শেখ বাদে সবাই হত্যা মামলার এজাহারনামীয় আসামি।
বাগেরহাটের পুলিশ সুপার কে এম আরিফুল হক সাংবাদিকদের বলেন, বাগেরহাট শহরের বাসাবাটি এলাকায় যে হত্যাকাণ্ড হয়েছে তা স্থানীয় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্রে করে ঘটেছে। এ হত্যায় জড়িতদের পিরোজপুর জেলার ইন্দুরকানি উপজেলা বালিপাড়া গ্রাম থেকে থেকে অস্ত্রসহ গ্রেপ্তার করা হয়। এ হত্যায় যে অস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে তা উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় নিহতের স্ত্রী বাদী হয়ে ১৭ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা সাত-আটজনকে আসামি করে বাগেরহাট মডেল থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। গ্রেপ্তার হওয়া নয়জনের মধ্যে আটজন এজাহারনামীয়। বাকি একজন সন্দেহভাজন।
পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, এ হত্যা কোনো রাজনৈতিক আধিপত্য নয়, এটি স্থানীয় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে হয়েছে। ঘটনার পর তদন্ত করতে গিয়ে দেখা যাচ্ছে, নিহত তানুর সঙ্গে এদের পূর্ববিরোধ ছিল। সেই বিরোধের জেরে এই হত্যা বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছি। এ হত্যায় এখন পর্যন্ত কোনো রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা পাইনি।
তিনি বলেন, তানু স্বেচ্ছাসেবক দলের বহিষ্কৃত নেতা ছিলেন। তিনি ২০২১ সালে দল থেকে বহিষ্কার হন। এ হত্যায় জড়িত অধিকাংশ আসামিকেই আমরা ইতিমধ্যে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়েছি। গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিরা পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে হত্যায় জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন।
তিনি আরো বলেন, যারা এই ঘটনা ঘটিয়েছে তারা সবাই একে-অপরের প্রতিবেশী, সবাই পাশাপাশি বসবাস করেন। এ ঘটনার জন্য আসামিরা অনুতপ্ত। তাদের আরো জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রিমান্ড চাওয়া হবে।
শুক্রবার রাত পৌনে ১০টার দিকে বাগেরহাট শহরের পূর্ব বাসাবাটি পদ্মপুকুর পাড় এলাকায় দুর্বৃত্তের গুলিতে স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা নূরে আলম ভূঁইয়া তানু (৩৫) নিহত হন। হত্যার ঘটনায় স্থানীয় ফরিদ নামে এক যুবকের বিরুদ্ধে অভিযোগ করে আসছে তানুর পরিবার। ঘটনার পরপরই কারা জড়িত রয়েছে তা নিশ্চিত হয় পুলিশ। এরপর পুলিশের একাধিক দল জড়িতদের ধরতে অভিযান শুরু করে।